Monday, August 29, 2022

যেমন কর্ম তেমন ফল

 যে সৎকর্ম করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দকর্ম করলে তার প্রতিফল সে-ই ভোগ করবে। তোমার প্রতিপালক তার বান্দাদের প্রতি কোনো প্রকার জুলুম করেন না। 

-সূরা হামিম সিজদা: ৪৬

Tuesday, March 31, 2020

মন

"মন কামনা ছাড়া আর কিছুই নয়। হৃদয় কোন কামনা জানে না। তুমি এটা শুনে বিস্মিত হবে যে, সকল কামনা আসে মস্তিষ্ক থেকে। হৃদয় বর্তমানে থাকে, এটা স্পন্দিত হয়, তালে তালে নাচে এখন এখানে। হৃদয় অতীত সম্পর্কেও কিছু জানে না এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও কিছু জানে না। এটা সর্বদা নিত্য বর্তমান। "

By OSHO, Translated by Torifa Najmina didi

প্রশান্ত থাকা

তুমি ঝড়কে শান্ত করতে পারবে না...
তাই এই প্রচেষ্টা বন্ধ করো।
তুমি যেটি করতে পারো
সেটি হলো নিজেকে শান্ত রাখা।
ঝড় অতিক্রম করে যাবে।
-Thich Nhat Hanh

Monday, March 30, 2020

আত্মিক শক্তি

খাবার ছাড়া দেহ দূর্বল হয়, আর প্রেম ছাড়া আত্মা দূর্বল হয়। কোনো রাষ্ট্র, তথাকথিত ধর্ম কিংবা কায়েমী স্বার্থবাদী কখনই চায় না জনগন শক্তিমান আত্মার অধিকারী হোক, কারন আত্মিক শক্তিতে বলীয়ান একজন মানুষ বিদ্রোহী হতে বাধ্য।
-ওশো

Know Thyself

To know self is the ultimate wisdom.
-Osho

Worry about life

God is always providing;
whatsoever is our need is always looked after.
We unnecessarily become worried about our own self.
There is not a thing to worry about.
Once this trust arises, life becomes a joy.
The universe is not antagonistic to you.
It has mothered you, it has fathered you;
it is both your mother and father.
You are part of it.
It goes on nourishing you, it cares!


-From 'The 99 Names of Nothingness' by Osho

ধর্ম

ঠিক যাকে সাধারণে ধর্ম বলে ,
সেটা যে আমি আমার নিজের মধ্যে
সুস্পষ্ট দৃঢ়রূপে লাভ করতে পেরেছি,
তা বলতে পারি নে।
কিন্তু মনের ভিতরে ভিতরে ক্রমশ
যে একটা সজীব পদার্থ সৃষ্ট হয়ে উঠেছে ,
তা অনেক সময় অনুভব করতে পারি ।
বিশেষ কোনো একটা নির্দিষ্ট মত নয়—
একটা নিগূঢ় চেতনা ,
একটা নূতন অন্তরিন্দ্রিয় ।

আমি বেশ বুঝতে পারছি ,
আমি ক্রমশ আপনার মধ্যে আপনার
একটা সামঞ্জস্য স্থাপন করতে পারব—
আমার সুখদুঃখ , অন্তর-বাহির , বিশ্বাস-আচরণ ,
সমস্তটা মিলিয়ে জীবনটাকে একটা সমগ্রতা দিতে পারব ।
শাস্ত্রে যা লেখে তা সত্য কি মিথ্যা বলতে পারি নে ;
কিন্তু সে-সমস্ত সত্য অনেক সময়
আমার পক্ষে সম্পূর্ণ অনুপযোগী ,
বস্তুত আমার পক্ষে তার অস্তিত্ব নেই বললেই হয় ।
আমার সমস্ত জীবন দিয়ে যে জিনিসটাকে
সম্পূর্ণ আকরে গড়ে তুলতে পারব
সেই আমার চরমসত্য ।

জীবনের সমস্ত সুখদুঃখকে যখন
বিচ্ছিন্ন ক্ষণিকভাবে অনুভব করি
তখন আমাদের ভিতরকার এই অনন্ত সৃজনরহস্য
ঠিক বুঝতে পারি নে—
প্রত্যেক কথাটা বানান করে পড়তে হলে
যেমন সমস্ত পদটার অর্থ
এবং ভাবের ঐক্য বোঝা যায় না ;
কিন্তু নিজের ভিতরকার এই সৃজনশক্তির
অখণ্ড ঐক্যসূত্র যখন একবার অনুভব করা যায়
তখন এই সৃজ্যমান অনন্ত বিশ্বচরাচরের সঙ্গে
নিজের যোগ উপলব্ধি করি ; বুঝতে পারি ,
যেমন গ্রহনক্ষত্র-চন্দ্রসূর্য জ্বলতে জ্বলতে ঘুরতে ঘুরতে
চিরকাল ধরে তৈরি হয়ে উঠেছে ,
আমার ভিতরেও তেমনি অনাদিকাল ধরে
একটা সৃজন চলছে ;
আমার সুখ-দুঃখ বাসনা-বেদনা তার মধ্যে
আপনার আপনার স্থান গ্রহণ করছে ।

এই থেকে কী হয়ে উঠবে জানি নে ,
কারণ আমরা একটি ধূলিকণাকেও জানি নে ।
কিন্তু নিজের প্রবহমান জীবনটাকে
যখন নিজের বাইরে অনন্ত দেশকালের সঙ্গে যোগ করে দেখি
তখন জীবনের সমস্ত দুঃখগুলিকেও
একটা বৃহৎ আনন্দসূত্রের মধ্যে গ্রথিত দেখতে পাই —
আমি আছি , আমি হচ্ছি , আমি চলছি ,
এইটেকে একটা বিরাট ব্যাপার বলে বুঝতে পারি ,
আমি আছি এবং আমার সঙ্গে সঙ্গেই আর-সমস্তই আছে ,
আমাকে ছেড়ে এই অসীম জগতের
একটি অণুপরমাণুও থাকতে পারে না ,
আমার আত্মীয়দের সঙ্গে আমার যে যোগ ,
এই সুন্দর শরৎপ্রভাতের সঙ্গে
তার চেয়ে কিছুমাত্র কম ঘনিষ্ঠ যোগ নয় —
সেইজন্যই এই জ্যোতির্ময় শূন্য আমার অন্তরাত্মাকে
তার নিজের মধ্যে এমন করে পরিব্যাপ্ত করে নেয় ।
নইলে সে কি আমার মনকে তিলমাত্র স্পর্শ করতে পারত ?
নইলে সে কি আমি সুন্দর বলে অনুভব করতেম ?

আমার সঙ্গে অনন্ত জগৎ-প্রাণের যে চিরকালের নিগূঢ় সম্বন্ধ ,
সেই সম্বন্ধের প্রত্যক্ষগম্য বিচিত্র ভাষা হচ্ছে বর্ণগন্ধগীত ।
চতুর্দিকে এই ভাষার অবিশ্রাম বিকাশ
আমাদের মনকে লক্ষ্য-অলক্ষ্যভাবে
ক্রমাগতই আন্দোলিত করছে , কথাবার্তা দিনরাত্রিই চলছে ।

-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Domination, Osho


Life, Osho


Goal of Life, Osho


Truth, Osho


Anger, Osho


ওশোর শিক্ষা

আমার শিক্ষা হলোঃ সহজ সরল হও এবং উল্লেখযোগ্য কিছু হয়ো না। কাওকে দোষারোপ করতে যেও না। কখনো নিজেকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলো না যেখানে নিজেকে অন্যদের চেয়ে মহান মনে হয়। শুধু সাধারন হও। আর যখন তুমি সাধারন হবে, তখন সকল বিষন্নতা উধাও হয়ে যাবে।

যখন তুমি সাধারন হবে, তখন তোমার সকল উপলব্ধি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। তখন গাছের ডালে পাখীদের গান তোমার কাছে স্বর্গীয় বার্তা মনে হবে। তখন আকাশ, ধরণী সবকিছু অপূর্ব মনে হবে; মনে হবে সবকিছু তাঁর পক্ষ থেকে আসা।

যখন তুমি সাধারন হও, যখন তুমি উল্লেখযোগ্য কেউ নও, তখন সকল দরোজা উম্মুক্ত হয়ে যায়। যখন তুমি উল্লেখযোগ্য কিছু হও তখন সকল দরোজা বন্ধ হয়ে যায়। সাধারন হও এবং নীরব জীবন যাপন করো। রাজনীতিবিদ হয়ো না। একজন মানুষের ক্ষেত্রে যত রকম দূর্ভাগ্য সংঘটিত হতে পারে এটি তার মাঝে সবচাইতে মারাত্মক। ধর্ম আর রাজনীতি একটি অন্যটির সম্পূর্ণ বিপরীত।

-Osho, Returning to the Source, Talks on Zen

Death, Desire


Sex, War


নেতিবাচকতা

গভীর অচেতন অবস্থা ছাড়া শারিরীক হিংস্রতা অসম্ভব। এটা তখনো খুব সহজে ঘটতে পারে যখন একটা মানুষের জটলা অথবা পুরো একটা জাতি মিলে একটা সামগ্রিক নেতিবাচক শক্তির বলয় সৃষ্টি করে।
(একার্ট টুলের 'শক্তিমান বর্তমান' থেকে, অনুবাদ- সাফাত হোসেন ও ফরহাদ হোসেন মাসুম)

The Real Enemy, Thick Nhat Hann


Love, Osho


Ordinary life, Osho


সাধারন জীবন যাপন

যখন তুমি অতি সাধারন একজন মানুষ হিসেবে পরিতুষ্ট, তখন কোনো কিছুই আর সাধারন থাকে না, সব কিছুই অসাধারন হয়ে যায়।
-ওশো

Saturday, December 2, 2017


Death cannot be destroyed; through science, remember, it is impossible to destroy death.
-Osho

Augustine says, Buddha says, Jesus says, ”Love, and everything will be right. Love, and you will be on the right path.”
-From Osho

Wednesday, August 26, 2015

Lail (Night)


10 nights? LAYIL
by Heer Saleti


لیل is being used for days of misery in every literature.

In Sura 89 you will find comparison of two eras one of لیل and the other of فجر .

After fourth verse عاد ، ثمود ، فرعون is described . Why …………? Because their era is described as era of وَلَيَالٍ عَشْرٍ . The days of misery and sufferings for the people but for عاد ثمود and فرعون the same era was of عشرت.

It is important to note لَيَالٍ عَشْرٍ is wrongly translated as ten nights.

This is مرکّب توصیفی which means “عشر “ is used as adjective, describing لیال

It was meant ten nights it would have been عشرۃ لیال  

Al Baqarah by Dr. Qamar Zaman

Baqra (بقرۃ)is derived from the root letters (ب ق ر). The basic meaning is to tear, to divide, to open, to become blind.  
A noun is derived from these basic meanings for cow. In general a holy thing is called "COW" You must have seen people saying that you have made your ideas a holy cow for you.  
In sura 2 /67-71, cow is anything outside Gods Commands. When Moses asked to leave the cow, the people said "are you joking ?" the answer is amazing, Moses did not Yes or No. He said “if I am joking then I am an Illiterate person.”  
 
The answer clearly shows the depth of demand. Leaving the cow is literacy and if saying jokingly is illiteracy. They further wanted the details of this cow,  
 
Now if it was a cow (an animal) there is no sense in asking the details of an animal. It is just like us asking to leave everything outside Quran.  
 
So many of us will say what are the things we should leave as so many things tally with Quran. It is like asking to leave Namaz and people will certainly say are you serious and what is bad in it if we continue and so on so forth. when they asked for further details Moses said “It does not make anything compulsory (farz) or its a dawn, a new morning (Bikr).  
Only a thing made compulsory by God is Farz. Anything outside Wahi is not Farz (compulsory) but Nafil (optional) or Sunnat (copy of someone), so this cow i.e teachings outside Wahi can not make any order binding and compulsory nor it is a new dawn which brings light in the life.  
 
The people of Moses were not willing to leave their faiths and rituals so they asked for more details. So Moses said “Its Yelow but bright and appealing to the masses”.  
Yellow color is known to mask the real color .Yellow journalism, yellow books are known to be fake.  
 
You apply the meaning and you will find the answer, The answer of Moses is clearly indicating towards the man made religion which is fake but very popular amongst the masses.  
 
The people never accept whatever you say. Same was the case with the people of Moses they again and again asked so that they could avoid the Divine commands So they halfheartedly accepted that yes this cow has become doubtful to us and asked for further details and promised to accept the divine commands.  
Moses answered,  
“This is such an ideology which is not humble to people rather it infuriates nor it satisfies anybody. Although it is authentic in the eyes of the followers but there is nothing in it at last they accepted although they were not willing to do so.”  

Sunday, April 26, 2015

মৃত্যু

মৃত্যু
=========================

কোন প্রাণীই উপাস্যের অনুমতি ছাড়া মরে না।
মৃত্যুর সময় তো লেখা আছে।
যে ব্যক্তি নগদ লাভের আশায় কাজ করে
আমি তাকে তা থেকেই দেই।
আর যে ব্যক্তি ভবিষ্যত প্রতিফলের আশায় কাজ করে
সে পরবর্তীতে পুরস্কার পায়।
আর কৃতজ্ঞ লোকদেরকে আমি অবশ্যই প্রতিদান দেই।
৩/১৪৫।

এরা নিজেরা বসে থাকলো
এবং এদের ভাই–বন্ধু যারা লড়াই করতে গিয়ে মারা গিয়েছিল,
তাদের সম্পর্কে বলেছিলঃ
যদি তারা আমাদের কথা মেনে নিতো,
তাহলে মারা যেতো না।
ওদের বলে দাও,
তোমরা নিজেদের একথায় যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো,
তাহলে তোমাদের নিজেদের মৃত্যু যখন আসবে
তখন তা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করে দেখিও।
৩/১৬৮।

আর মৃত্যু,
সে তোমরা যেখানেই থাকো না কেন
সেখানে তোমাদের নাগাল পাবেই,
তোমরা কোন মজবুত প্রাসাদে অবস্থান করলেও।
যদি তাদের কোন কল্যাণ হয় তাহলে তারা বলে,
এতো উপাস্যের পক্ষ থেকে হয়েছে।
আর কোন ক্ষতি হলে বলে, এটা হয়েছে তোমার বদৌলতে।
বলে দাও, সবকিছুই হয় উপাস্যের পক্ষ থেকে।
লোকদের কী হয়েছে, কোন কথাই তারা বোঝে না।
৪/৭৮।

এ দুঃখের পর উপাস্য তোমাদের কিছু লোককে
আবার এমন প্রশান্তি দান করলেন যে,
তারা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লো।
কিন্তু আর একটি দল,
নিজের স্বার্থই ছিল যার কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ,
উপাস্য সম্পর্কে নানান ধরনের ধারণা পোষণ করতে থাকলো,
যা ছিল একেবারেই সত্য বিরোধী।
তারা এখন বলেছে,
“এই কাজ পরিচালনার ব্যাপারে
আমাদেরও কি কোন অংশ আছে?”
তাদেরকে বলে দাও, “(কারো কোন অংশ নেই, )
এ কাজের সমস্ত ক্ষমতা একাকার উপাস্যের।”
আসলে এরা নিজেদের মনের মধ্যে
যে কথা লুকিয়ে রেখেছে
তা তোমাদের সামনে প্রকাশ করে না।
এদের আসল বক্তব্য হচ্ছে,
“যদি (নেতৃত্ব) ক্ষমতায় আমাদের কোন অংশ থাকতো,
তাহলে আমরা মারা পড়তাম না।”
ওদেরকে বলে দাও,
“যদি তোমরা নিজেদের গৃহে অবস্থান করতে
তাহলেও যাদের মৃত্যু লেখা হয়ে গিয়েছিল,
তারা নিজেরাই নিজেদের বধ্যভূমির দিকে এগিয়ে আসতো।”
আর এই যে বিষয়টি সংঘটিত হলো, এটি এ জন্য ছিল যে,
তোমাদের বুকের মধ্যে যা কিছু গোপন রয়েছে
উপাস্য তা যাচাই করে নেবেন
এবং তোমাদের মনের মধ্যে যে গলদ রয়েছে
তা দূর করে দেবেন।
উপাস্য মনের অবস্থা খুব ভালো করেই জানেন।

তোমাদের মধ্য থেকে যারা মোকাবিলার দিন
পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল
তাদের এ পদস্খলনের কারণ এই ছিল যে,
তাদের কোন কোন দুর্বলতার কারনে
শয়তান তাদের পা টলিয়ে দিয়েছিল।
উপাস্য তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
উপাস্য বড়ই ক্ষমাশীল ও সহনশীল।

হে বিশ্বাসীগণ!
অবিশ্বাসী/অকৃতজ্ঞ/অস্বীকারকারীদের মতো কথা বলো না।
তাদের আত্মীয়স্বজনরা কখনো ভ্রমনে গেলে
অথবা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে
(এবং সেখানে কোন দুর্ঘটনায় পতিত হলে) তারা বলে,
যদি তারা আমাদের কাছে থাকতো তাহলে মারা যেতোনা
এবং নিহত হতো না।
এ ধরনের কথাকে উপাস্য তাদের মানসিক খেদ
ও আক্ষেপের কারণে পরিণত করেন।
নয়তো জীবন–মৃত্যু তো একমাত্র উপাস্যই দান করে থাকেন
এবং তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপের ওপর তিনি দৃষ্টি রাখেন।
৪/১৫৪-১৫৬।

তিনিই রাত্রিকালে তোমাদের মৃত্যু ঘটান
এবং দিবসে তোমরা যা কিছু করো তা জানেন।
আবার পরদিন তোমাদের সেই কর্মজগতে ফেরত পাঠান,
যাতে জীবনের নির্ধারিত সময়-কাল পূর্ণ হয়।
সবশেষে তাঁরই দিকে তোমাদের ফিরে যেতে হয়।
তখন তিনি জানিয়ে দেবেন- তোমরা কি কাজে লিপ্ত ছিলে।
তিনি নিজের দাসদের ওপর পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন
এবং তোমাদের ওপর রক্ষক নিযুক্ত করে পাঠান।
অবশেষে যখন তোমাদের কারোর মৃত্যুর সময় সমুপস্থিত হয়
তখন তাঁর প্রেরিত দেবত্বগণ তার প্রাণ বের করে নেয়
এবং নিজেদের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে
তারা সামান্যতম শৈথিল্যও দেখায় না।
তারপর তাদের প্রকৃত বাদশাহ ও প্রভু
একাকার উপাস্যের দিকে তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনা হয়।
সাবধান হয়ে যাও!
ফায়সালা করার যাবতীয় ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছেন একমাত্র তিনিই
এবং তিনি হিসেব গ্রহণের ব্যাপারে অত্যন্ত দ্রুতগতি সম্পন্ন।
৬/৬০-৬২।

Monday, January 12, 2015

২১১. কুরআন সম্পর্কে কুরআন- 2 (হুদ-মারিয়াম)

হুদ
আলিফ, লা-ম, রা; এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত অতঃপর সবিস্তারে বর্ণিত এক মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ হতে। (Hud: 1)

আর পৃথিবীতে কোন বিচরণশীল নেই, তবে সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নিয়েছেন তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে রয়েছে। (Hud: 6)

তারা কি বলে? কোরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে। (Hud: 13)

আচ্ছা বল তো, যে ব্যক্তি তার প্রভুর সুস্পষ্ট পথে রয়েছে, আর সাথে সাথে আল্লাহর তরফ থেকে একটি সাক্ষীও বর্তমান রয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী মূসা (আঃ) এর কিতাবও সাক্ষী যা ছিল পথনির্দেশক ও রহমত স্বরূপ, (তিনি কি অন্যান্যের সমান) অতএব তাঁরা কোরআনের প্রতি ঈমান আনেন। আর ঐসব দলগুলি যে কেউ তা অস্বীকার করে, দোযখই হবে তার ঠিকানা। অতএব, আপনি তাতে কোন সন্দেহে থাকবেন না। নিঃসন্দেহে তা আপনার পালনকর্তার পক্ষ হতে ধ্রুব সত্য; তথাপি অনেকেই তা বিশ্বাস করে না। (Hud: 17)

তারা কি বলে? আপনি কোরআন রচনা করে এনেছেন? আপনি বলে দিন আমি যদি রচনা করে এনে থাকি, তবে সে অপরাধ আমার, আর তোমরা যেসব অপরাধ কর তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। (Hud: 35)

ইউসুফ
আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াত। (Yusuf: 1)

আমি একে আরবী ভাষায় কোরআন রূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। (Yusuf: 2)

আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করেছি, যেমতে আমি এ কোরআন তোমার নিকট অবতীর্ণ করেছি। তুমি এর আগে অবশ্যই এ ব্যাপারে অনবহিতদের অন্তর্ভূক্ত ছিলে। (Yusuf: 3)

রাদ
আলিফ-লাম-মীম-রা; এগুলো কিতাবের আয়াত। যা কিছু আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, তা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এতে বিশ্বাস করে না। (Ar-Ra'd: 1)

যদি কোন কোরআন এমন হত, যার সাহায্যে পাহাড় চলমান হয় অথবা যমীন খন্ডিত হয় অথবা মৃতরা কথা বলে, তবে কি হত? বরং সব কাজ তো আল্লাহর হাতে। ঈমানদাররা কি এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয় যে, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে সব মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করতেন? কাফেররা তাদের কৃতকর্মের কারণে সব সময় আঘাত পেতে থাকবে অথবা তাদের গৃহের নিকটবর্তী স্থানে আঘাত নেমে আসবে, যে, পর্যন্ত আল্লাহর ওয়াদা না আসে। নিশ্চয় আল্লাহ ওয়াদার খেলাফ করেন না। (Ar-Ra'd: 31)

এবং যাদেরকে আমি গ্রন্থ দিয়েছি, তারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তজ্জন্যে আনন্দিত হয় এবং কোন কোন দল এর কোন কোন বিষয় অস্বীকার করে। বলুন, আমাকে এরূপ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, আমি আল্লাহর এবাদত করি। এবং তাঁর সাথে অংশীদার না করি। আমি তাঁর দিকেই দাওয়াত দেই এবং তাঁর কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন। (Ar-Ra'd: 36)

এমনিভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নির্দেশরূপে অবতীর্ণ করেছি। যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পর, তবে আল্লাহর কবল থেকে আপনার না কোন সাহায্যকারী আছে এবং না কোন রক্ষাকারী। (Ar-Ra'd: 37)

আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং বহাল রাখেন এবং মূলগ্রন্থ তাঁর কাছেই রয়েছে। (Ar-Ra'd: 39)

কাফেররা বলেঃ আপনি প্রেরিত ব্যক্তি নন। বলে দিন, আমার ও তোমাদের মধ্যে প্রকৃষ্ট সাক্ষী হচ্ছেন আল্লাহ এবং ঐ ব্যক্তি, যার কাছে গ্রন্থের জ্ঞান আছে। (Ar-Ra'd: 43)

ইব্রাহীম
আলিফ-লাম-রা; এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি-যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন-পরাক্রান্ত, প্রশংসার যোগ্য পালনকর্তার নির্দেশে তাঁরই পথের দিকে। (Ibrahim: 1)

হিজর
আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো পরিপূর্ণ গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট কোরআনের আয়াত। (Al-Hijr: 1)

তারা বললঃ হে ঐ ব্যক্তি, যার প্রতি কোরআন নাযিল হয়েছে, আপনি তো একজন উম্মাদ। (Al-Hijr: 6)

আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। (Al-Hijr: 9)

আমি আপনাকে সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কোরআন দিয়েছি। (Al-Hijr: 87)

যারা কোরআনকে খন্ড খন্ড করেছে। (Al-Hijr: 91)

নাহল
প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে নির্দেশাবলী ও অবতীর্ণ গ্রন্থসহ এবং আপনার কাছে আমি স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি লোকদের সামনে ঐসব বিষয় বিবৃত করেন, যে গুলো তোদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। (An-Nahl: 44)

আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদের কে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং ঈমানদারকে ক্ষমা করার জন্যে। (An-Nahl: 64)

সেদিন প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে আমি একজন বর্ণনাকারী দাঁড় করাব তাদের বিপক্ষে তাদের মধ্য থেকেই এবং তাদের বিষয়ে আপনাকে সাক্ষী স্বরূপ উপস্থাপন করব। আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাযিল করেছি যেটি এমন যে তা প্রত্যেক বস্তুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, হেদায়েত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্যে সুসংবাদ। (An-Nahl: 89)

অতএব, যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করুন। (An-Nahl: 98)

আমি তো ভালভাবেই জানি যে, তারা বলেঃ তাকে জনৈক ব্যক্তি শিক্ষা দেয়। যার দিকে তারা ইঙ্গিত করে, তার ভাষা তো আরবী নয় এবং এ কোরআন পরিষ্কার আরবী ভাষায়। (An-Nahl: 103)

ইসরা

এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্ম পরায়ণ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে। (Al-Israa: 9)

আমি এই কোরআনে নানাভাবে বুঝিয়েছি, যাতে তারা চিন্তা করে। অথচ এতে তাদের কেবল বিমুখতাই বৃদ্ধি পায়। (Al-Israa: 41)

যখন আপনি কোরআন পাঠ করেন, তখন আমি আপনার মধ্যে ও পরকালে অবিশ্বাসীদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন পর্দা ফেলে দেই। (Al-Israa: 45)

আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দেই, যাতে তারা একে উপলব্ধি করতে না পারে এবং তাদের কর্ণকুহরে বোঝা চাপিয়ে দেই। যখন আপনি কোরআনে পালনকর্তার একত্ব আবৃত্তি করেন, তখন ও অনীহাবশতঃ ওরা পৃষ্ট প্রদর্শন করে চলে যায়। (Al-Israa: 46)

এবং স্মরণ করুন, আমি আপনাকে বলে দিয়েছিলাম যে, আপনার পালনকর্তা মানুষকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং যে দৃশ্য আমি আপনাকে দেখিয়েছি তাও কোরআনে উল্লেখিত অভিশপ্ত বৃক্ষ কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্যে। আমি তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করি। কিন্তু এতে তাদের অবাধ্যতাই আরও বৃদ্ধি পায়। (Al-Israa: 60)

সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করুন এবং ফজরের কোরআন পাঠও। নিশ্চয় ফজরের কোরআন পাঠ মুখোমুখি হয়। (Al-Israa: 78)

রাত্রির কিছু অংশ কোরআন পাঠ সহ জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্যে অতিরিক্ত। হয়ত বা আপনার পালনকর্তা আপনাকে মোকামে মাহমুদে পৌঁছাবেন। (Al-Israa: 79)

আমি কোরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। গোনাহগারদের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়। (Al-Israa: 82)

বলুনঃ যদি মানব ও জ্বিন এই কোরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্যে জড়ো হয়, এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না। (Al-Israa: 88)

আমি এই কোরআনে মানুষকে বিভিন্ন উপকার দ্বারা সব রকম বিষয়বস্তু বুঝিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ লোক অস্বীকার না করে থাকেনি। (Al-Israa: 89)

আমি সত্যসহ এ কোরআন নাযিল করেছি এবং সত্য সহ এটা নাযিল হয়েছে। আমি তো আপনাকে শুধু সুসংবাদাতা ও ভয়প্রদর্শক করেই প্রেরণ করেছি। (Al-Israa: 105)

আমি কোরআনকে যতিচিহ্ন সহ পৃথক পৃথকভাবে পাঠের উপযোগী করেছি, যাতে আপনি একে লোকদের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি একে যথাযথ ভাবে অবতীর্ণ করেছি। (Al-Israa: 106)

এমন কোন জনপদ নেই, যাকে আমি কেয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর শাস্তি দেব না। এটা তো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। (Al-Israa: 58)

বলুনঃ তোমরা কোরআনকে মান্য কর অথবা অমান্য কর; যারা এর পূর্ব থেকে এলেম প্রাপ্ত হয়েছে, যখন তাদের কাছে এর তেলাওয়াত করা হয়, তখন তারা নতমস্তকে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। (Al-Israa: 107)

কাহাফ
সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি। (Al-Kahf: 1)

নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়। (Al-Kahf: 54)

আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না। (Al-Kahf: 27)

মারিয়াম
এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল। (Maryam: 16)

আপনি এই কিতাবে ইব্রাহীমের কথা বর্ণনা করুন। নিশ্চয় তিনি ছিলেন সত্যবাদী, নবী। (Maryam: 41)

এই কিতাবে মূসার কথা বর্ণনা করুন, তিনি ছিলেন মনোনীত এবং তিনি ছিলেন রাসূল, নবী। (Maryam: 51)

এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা বর্ণনা করুন, তিনি প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং তিনি ছিলেন রসূল, নবী। (Maryam: 54)

এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। (Maryam: 56)

আমি কোরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে আপনি এর দ্বারা পরহেযগারদেরকে সুসংবাদ দেন এবং কলহকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন। (Maryam: 97)



1. বাকারা-ইউনুস
source: https://www.facebook.com/notes/tahsan-abdullah/%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%86%E0%A6%A8-2-%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%A6-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%AE/10151152293891122

Tuesday, December 30, 2014

২১০. তথ্যই শক্তি (Information is Power)

তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক।
যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন,
তখন সেটিকে একথাই বলেন,
হয়ে যাও! তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়।
সূরা আল বাকারা/১১৭

২০৯. আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান

পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই।
অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও,
সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান।
নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।
সূরা বাকারা/১১৫

আল্লাহ আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর আলো।
(বিশ্ব-জাহানে) তাঁর আলোর উপমা
যেন একটি তাকে একটি প্রদীপ রাখা আছে,
প্রদীপটি আছে একটি চিমনির মধ্যে,
চিমনিটি দেখতে এমন
যেন মুক্তোর মতো ঝকঝকে নক্ষত্র,
আর এ প্রদীপটি যয়তুনের
এমন একটি সমৃদ্ধ গাছের তেল দিয়ে
উজ্জল করা হয়,
যা পূর্বেরও নয়, পশ্চিমেরও নয়।
যার তেল আপনাআপনিই জ্বলে ওঠে,
চাই আগুন তাকে স্পর্শ করুক বা না করুক।
(এভাবে) আলোর ওপরে আলো।
আল্লাহ যাকে চান
নিজের আলোর দিকে পথনির্দেশ করেন।
তিনি উপমার সাহায্যে লোকদের কথা বুঝান।
তিনি প্রত্যেকটি জিনিস খুব ভালো করেই জানেন।
সূরা আন নূর/৩৫

Wednesday, November 26, 2014

২০৮. কোরয়ান নিয়ে চিন্তা-গবেষনা করা

এটি একটি অত্যন্ত বরকতপূর্ণ কিতাব,৩১ যা (হে মুহাম্মাদ!) আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে এরা তার আয়াত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে এবং জ্ঞানী ও চিন্তাশীলরা তা থেকে শিক্ষা নেয়। (সূরা সাদঃ ২৯)

তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? যদি এটি আল্লাহ‌ ছাড়া আর কারো পক্ষ থেকে হতো, তাহলে তারা এর মধ্যে বহু বর্ণনাগত অসঙ্গতি খুঁজে পেতো। (সূরা নিসাঃ ৮২)

হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলো, “আমি তোমাদের একথা বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভাণ্ডার আছে, আমি গায়েবের জ্ঞানও রাখি না এবং তোমাদের একথাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো কেবলমাত্র সে অহীর অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি নাযিল করা হয়।”৩১ তারপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে?৩২ তোমরা কি চিন্তা-ভাবনা করো না?
(সূরা আন'আমঃ ৫০)

Sunday, November 9, 2014

২০৭. সুদ or Usary or Riba

﴿ وَمَاۤ اٰتَيۡتُمۡ مِّنۡ رِّبًا لِّيَرۡبُوَا فِىۡۤ اَمۡوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرۡبُوۡا عِنۡدَ اللّٰهِ‌ۚ وَمَاۤ اٰتَيۡتُمۡ مِّنۡ زَكٰوةٍ تُرِيۡدُوۡنَ وَجۡهَ اللّٰهِ فَاُولٰٓٮِٕكَ هُمُ الۡمُضۡعِفُوۡنَ﴾


যে সুদ তোমরা দিয়ে থাকো, 
যাতে মানুষের সম্পদের সাথে মিশে তা বেড়ে যায়, 
আল্লাহর কাছে তা বাড়ে না। 
আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে 
পরিশুদ্ধির জন্য তোমরা যা দিয়ে থাকো, 
প্রকৃতপক্ষে তা ই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। 
(সূর রূমঃ ৩৯)

﴿ يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡكُلُوۡا الرِّبٰٓوا اَضۡعَافًا مُّضٰعَفَةً‌ وَاتَّقُوۡا اللّٰهَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ‌ۚ‏﴾


হে বিশ্বাসীগণ! 
চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না 
এবং আল্লাহ সচেতন হও, 
আশা করি তোমরা সফলকাম হবে। 
(সূরা আলে ইমরানঃ ১৩০)
الَّذِيۡنَ يَاۡكُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا يَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا كَمَا يَقُوۡمُ الَّذِىۡ يَتَخَبَّطُهُ الشَّيۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ‌ؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمۡ قَالُوۡۤا اِنَّمَا الۡبَيۡعُ مِثۡلُ الرِّبٰوا‌ۘ‌ وَاَحَلَّ اللّٰهُ الۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ الرِّبٰوا‌ؕ فَمَنۡ جَآءَهٗ مَوۡعِظَةٌ مِّنۡ رَّبِّهٖ فَانۡتَهٰى فَلَهٗ مَا سَلَفَ وَاَمۡرُهٗۤ اِلَى اللّٰهِ‌ؕ وَمَنۡ عَادَ فَاُولٰٓٮِٕكَ اَصۡحٰبُ النَّارِ‌ۚ هُمۡ فِيۡهَا خٰلِدُوۡنَ‏
যারা সুদ খায় তাদের অবস্থা হয়
ঠিক সেই লোকটির মতো
যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে।
তাদের এই অবস্থায় উপনীত হবার কারণ হচ্ছে এই যে,
তারা বলেঃ “বিক্রয় তো সুদেরই মতো।”
অথচ আল্লাহ‌ বিক্রয়কে বৈধ করেছেন
এবং সুদকে করেছেন নিষিদ্ধ।
কাজেই যে ব্যক্তির কাছে তার প্রভূর পক্ষ থেকে
এই উপদেশ পৌঁছে যায়
এবং ভবিষ্যতে সুদখোরী থেকে সে বিরত হয়,
সে ক্ষেত্রে যা কিছু সে খেয়েছে তাতো খেয়ে ফেলেছেই
এবং এ ব্যাপারটি আল্লাহর কাছে সোপর্দ হয়ে গেছে।
আর এই নির্দেশের পরও যে ব্যক্তি আবার এই কাজ করে,
সে নরকের অধিবাসী। সেখানে সে থাকবে চিরকাল।
{আল বাকারাহঃ ২৭৫ } 

يَمۡحَقُ اللّٰهُ الرِّبٰوا وَيُرۡبِىۡ الصَّدَقٰتِ‌ؕ وَاللّٰهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ اَثِيۡمٍ‏
আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন
এবং দানকে বর্ধিত ও বিকশিত করেন।
আর আল্লাহ‌ অকৃতজ্ঞ দুষ্কৃতকারীকে পছন্দ করেন না।
{আল বাকারাহঃ ২৭৬ }

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا اتَّقُوۡا اللّٰهَ وَذَرُوۡا مَا بَقِىَ مِنَ الرِّبٰٓوا اِنۡ كُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ‏
হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ সচেতন হও
এবং লোকদের কাছে তোমাদের
যে সুদ বাকি রয়ে গেছে তা ছেড়ে দাও,
যদি যথার্থই তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাকো।
{আল বাকারাহঃ ২৭৮ }

فَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلُوۡا فَاۡذَنُوۡا بِحَرۡبٍ مِّنَ اللّٰهِ وَرَسُوۡلِهٖ‌ۚ وَاِنۡ تُبۡتُمۡ فَلَكُمۡ رُءُوۡسُ اَمۡوَالِكُمۡ‌ۚ لَا تَظۡلِمُوۡنَ وَلَا تُظۡلَمُوۡنَ
কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো
তাহলে জেনে রাখো,
এটা আল্লাহ‌ ও তাঁর বার্তাবাহকের পক্ষ থেকে
তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
এখনো সময় আছে (সুদ থেকে) ফিরে এসো
তাহলে তোমরা আসল মূলধনের অধিকারী হবে।
তোমরা জুলুম করবে না
এবং তোমাদের ওপর জুলুম করাও হবে না।
{আল বাকারাহঃ ২৭৯ }

Saturday, November 8, 2014

২০৬. বিজ্ঞানের গুরুত্ব সম্বন্ধে আল কোরয়ান

 “পড়, তোমার প্রভূর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।
যিনি আলাক থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।“
(আলাক/৯৬.১,২)

যারা চিন্তাশীল ও বুদ্ধি বিবেক খাটিয়ে কাজ করে, আকাশ পৃথিবীর গঠনাকৃতি নিয়ে চিন্তা- ভাবনা করে তাদেরকে নিম্নোক্ত আয়াতে উতসাহিত করা হয়েছে।

“পৃথিবী আকাশের সৃষ্টি
এবং রাত দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে
চিন্তাশীল-বুদ্ধিমান-বিজ্ঞানী-গবেষকদের জন্য 
যারা উঠতে, বসতে শয়নে
সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে
এবং আকাশ পৃথিবীর গঠনাকৃতি নিয়ে চিন্তা- গবেষনা করে

(তারা আপনা আপনি বলে ওঠেঃ)
হে আমাদের প্রভু!
এসব তুমি অনর্থক উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে সৃষ্টি করো নি
বাজে নিরর্থক কাজ করা থেকে তুমি পাক-পবিত্র মুক্ত

কাজেই হে প্রভু!
নরকের শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করো
তুমি যাকে নরকে ফেলে দিয়েছো,
তাকে আসলে বড়ই লাঞ্ছনা অপমানের মধ্যে ঠেলে দিয়েছো
এবং এহেন জালেমদের কোন সাহায্যকারী হবে না

হে আমাদের প্রভূ!
 তোমার বার্তাবাহকদের মাধ্যমে তুমি যেসব অংগীকার করেছো
আমাদের সাথে, সেগুলো পূর্ণ করো
এবং কিয়ামতের দিন আমাদের লাঞ্ছনার গর্তে ফেলে দিয়ো না
নিঃসন্দেহে তুমি অংগীকার ভংগকারী নও

জবাবে তাদের প্রভূ বললেনঃ
আমি তোমাদের কারো কর্মকাণ্ড নষ্ট করবো না
পুরুষ হও বা নারী, তোমরা সবাই একই জাতির অন্তর্ভুক্ত 
কাজেই যারা আমার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে
এবং আমার পথে যাদেরকে
নিজেদের ঘর বাড়ি থেকে বের করে দেয়া কষ্ট দেয়া হয়েছে
এবং যারা আমার জন্য লড়েছে মারা গেছে,
তাদের সমস্ত অপরাধ আমি ক্ষমা করে দেবো
এবং তাদেরকে এমন সব বাগানে প্রবেশ করাবো
যার নীচে দিয়ে ঝরণাধারা বয়ে চলবে
এসব হচ্ছে আল্লাহর কাছে তাদের প্রতিদান
এবং সবচেয়ে ভালো প্রতিদান আল্লাহর কাছেই আছে

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লোকেরা-
যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি অকৃতজ্ঞ
তাদের কর্মকান্ড যেন তোমার অন্তরকে ধোকায় ফেলে না দেয়।

ওদের এইসব আনন্দ ফূর্তি সামান্য কয়েক দিনের
তারপর তাদের স্থান হবে নরকে, যা অতি নিকৃষ্ট।

বিপরীত পক্ষে যারা আল্লাহ সচেতন 
তাদের জন্য এমন সব বাগান রয়েছে, 
যার বুক চিরে বয়ে চলে অসংখ্য ঝর্নাধারা। 
সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। 
এ হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য মেহমানদারী। 
আর যা কিছু আল্লাহর কাছে আছে, 
সৎ কর্মশীলদের জন্য তাই ভালো।
গ্রন্থপ্রাপ্তদের মধ্যেও এমন কিছু লোক আছে, 
যারা আল্লাহকে মানে 
তোমাদের কাছে যে গ্রন্থ পাঠানো হয়েছে 
তার প্রতি বিশ্বাস রাখে 
এবং এর আগে তাদের নিজেদের কাছে 
যে গ্রন্থ পাঠানো হয়েছিল 
তার প্রতি বিশ্বাস রাখে, 
যারা আল্লাহর সামনে বিনত মস্তক 
এবং আল্লাহর নিদর্শনসমূহের (বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিস্কার) বিনিময়ে
সামান্য স্বার্থ ক্রয় করে না। 
তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের প্রভূর কাছে। 
আর তিনি হিসেব চুকিয়ে দেবার ব্যাপারে দেরী করেন না।
হে বিশ্বাসীগণ! 
অবিচল, অধ্যবসায়ী, ধ্রুব ও আল্লাহ সচেতন হও। 
যাতে তোমরা সফল হতে পারো। ”
(সূরা আলে ইমরানঃ ১৯০-২০০)

ইব্রাহীমের ঈমান সুদৃড় করার জন্য মহান প্রভূ তাকে তার নিদর্শন দেখিয়েছেন।

“আর সেই ঘটনাটিও সামনে রাখো,
যখন ইব্রাহীম বলেছিলঃ
আমার প্রভু! আমাকে দেখিয়ে দাও
কিভাবে তুমি মৃতদের পুনর্জীবিত করো
বললেনঃ তুমি কি বিশ্বাস করো না?
ইব্রাহীম জবাব দিলঃ বিশ্বাস তো করি,
তবে মানসিক নিশ্চিন্ততা লাভ করতে চাই
বললেনঃ ঠিক আছে, তুমি চারটি পাখি নাও
এবং তাদেরকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও
তারপর তাদের এক একটি অংশ
এক একটি পাহাড়ের ওপর রাখো
এরপর তাদেরকে ডাকো
তারা তোমার কাছে দৌড়ে চলে আসবে
ভালোভাবে জেনে রাখো,
আল্লাহপ্রবল পরাক্রমশালী জ্ঞানময়
(সূরা বাকারাঃ ২৬০)

“ইবরাহীমকে এভাবেই আমি
পৃথিবী মহাকাশের পরিচালন ব্যবস্থা দেখাতাম 
আর জন্য দেখাতাম যে,
এভাবে সে দৃঢ় বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে
(সূরা আন’আমঃ ৭৫)
আমাদের নবী (দঃ) কে ও মহান সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্টি পরিচালনার নিদর্শন দেখিয়েছিলেন।
পবিত্র তিনি যিনি নিয়ে গেছেন এক রাতে
নিজের বান্দাকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আক্সা পর্যন্ত,
যার পরিবেশকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন,
যাতে তাকে নিজের কিছু নিদর্শন দেখান 
আসলে তিনিই সবকিছুর শ্রোতা দ্রষ্টা
(সূরা বনী ইসরাঈলঃ ১)
যুদ্ধের জন্য উন্নত সাজোয়া যান এবং অন্যান্য শক্তি সংগ্রহের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন মহান প্রভূ।বিজ্ঞানের উতকর্ষ সাধন ছাড়া এটা সম্ভব নয়। মহান প্রভূর আদেশ,
আর তোমরা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী
সর্বাধিক পরিমাণ শক্তি সদাপ্রস্তুত ঘোড়া
তাদের মোকাবিলার জন্য যোগাড় করে রাখো 
এর মাধ্যমে তোমরা ভীতসন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শত্রুকে,
নিজের শত্রুকে এবং অন্য এমন সব শত্রুকে
যাদেরকে তোমরা চিনো না
কিন্তু আল্লাহচেনেন
আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু খরচ করবে,
তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হবে
এবং তোমাদের প্রতি কখনো জুলুম করা হবে না
(সূরা আনফালঃ ৬০)