Sunday, November 2, 2014

অধ্যায়২ঃ গাভী (৪০-৫৯)

পরিচ্ছেদ-৫

হে ইসরাঈলের সন্তানেরা!
আমার সেই অনুগ্রহের কথা মনে করো,
যা আমি তোমাদের দান করেছিলাম,
আমার সাথে তোমাদের যে অঙ্গীকার ছিল,
তা পূর্ণ করো,
তা হলে তোমাদের সাথে আমার যে অঙ্গীকার ছিল,
তা আমি পূর্ণ করবো
এবং তোমরা একমাত্র আমাকেই ভয় করো।৪০

আর আমি যে সত্য প্রকাশ করেছি
তাকে মেনে চলো।
তোমাদের কাছে আগে থেকেই যা ছিল
এটি তার সত্যায়নকারী।
কাজেই সবার আগে তোমরাই এর অস্বীকারকারী হয়ো না।
সামান্য দামে আমার বানীসমূহ বিক্রি করো না। 
শুধু আমার ব্যাপারেই সচেতন থাকো।৪১

মিথ্যার রঙে রাঙিয়ে সত্যকে সন্দেহযুক্ত করো না
এবং জেনে বুঝে সত্যকে গোপন করার চেষ্টা করো না।৪২

যারা আমার সামনে অবনত তাদের মতো
প্রার্থনা প্রতিষ্ঠার জন্য
দান করে পরিশুদ্ধ হও 
এবং অবনতদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাও।৪৩

তোমরা অন্যদের সৎকর্মশীলতার পথ অবলম্বন করতে বলো
কিন্তু নিজেদের কথা ভুলে যাও।
অথচ লোকদেরকে তোমরা উপদেশমালা পাঠ করে শোনাও।
তোমরা কি এতটাই নির্বোধ?৪৪

অবিচলতা সহকারে প্রার্থনার মাধ্যমে উপাস্যের সাহায্য চাও।
 নিঃসন্দেহে এমন করাটা খুব কঠিন কাজ।৪৫
কিন্তু সেসব অনুগত বান্দাদের জন্য কঠিন নয়
যারা মনে করে,
সবশেষে তাদের মিলতে হবে তাদের রবের সাথে
এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। ৪৬

হে ইসরাঈলের বংশধরেরা!
আমার সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো,
যা আমি তোমাদের দান করেছিলাম
এবং একথাটিও যে, আমি দুনিয়ার সমস্ত জাতিদের ওপর
তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম।৪৭

আর ভয় করো সেই দিনকে
যেদিন কেউ কারো সামান্যতমও কাজে লাগবে না,
কারো পক্ষ থেকে সুপারিশ গৃহীত হবে না,
বিনিময় নিয়ে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না
এবং অপরাধীরা কোথাও থেকে সাহায্য লাভ করতে পারবে না।৪৮

স্মরণ করো সেই সময়ের কথা
যখন আমরা স্বৈরাচারী দলের দাসত্ব থেকে
তোমাদের মুক্তি দিয়েছিলাম।
তারা তোমাদের কঠিন যন্ত্রণায় নিমজ্জিত করে রেখেছিল,
তোমাদের পুত্র সন্তানদের শিরোচ্ছেদ করতো
এবং তোমাদের কন্যা সন্তানদের জীবিত রেখে দিতো।
মূলত এই অবস্থাটা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে
তোমাদের জন্য বড় কঠিন পরীক্ষা ছিল।৪৯

স্মরণ করো সেই সময়ের কথা
যখন আমরা সাগর চিরে
তোমাদের জন্য পথ করে দিয়েছিলাম,
তারপর তার মধ্য দিয়ে
তোমাদের নির্বিঘ্নে পার করে দিয়েছিলাম,
আবার সেখানে তোমাদের চোখের সামনেই
স্বৈরাচারী দলটিকে সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।৫০

স্মরণ করো সেই সময়ের কথা
যখন আমরা মূসাকে
চল্লিশ দিন-রাত্রির জন্য ডেকে নিয়েছিলাম, 
তখন তার অনুপস্থিতিতে
তোমরা বাছুরকে নিজেদের উপাস্যে পরিণত করেছিল।
সে সময় তোমরা অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করেছিলে।৫১
কিন্তু এরপরও আমরা তোমাদের মাফ করে দিয়েছিলাম
এ জন্য যে, হয়তো এবার তোমরা কৃতজ্ঞ হবে।৫২

স্মরণ করো (ঠিক যখন তোমরা এই অন্যায় করছিলে সে সময়)
আমরা মূসাকে উপদেশমালা দিয়েছিলাম
যা ছিল সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী,
যাতে তার মাধ্যমে তোমরা সোজা পথ পেতে পারো।৫৩

স্মরণ করো যখন মূসা নিজের জাতিকে বললো, 
“হে লোকেরা!
তোমরা বাছুরকে উপাস্য বানিয়ে
নিজেদের ওপর বড়ই অত্যাচার করেছো,
কাজেই তোমরা অনুতপ্ত হৃদয়ে 
নিজেদের স্রষ্টার আনুগত্যের দিকে ফিরে এসো
এবং নিজেদেরকে হত্যা করো, 
এরই মধ্যে তোমাদের স্রষ্টার কাছে
তোমাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
সে সময় তোমাদের স্রষ্টা
তোমাদের অনুতপ্ত হৃদয়কে গ্রহণ করে নিলেন,
কারণ তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী।৫৪

স্মরণ করো, যখন তোমরা মূসাকে বলেছিলে,
“আমরা কখনো তোমার কথায় বিশ্বাস করবো না,
যতক্ষণ না আমরা স্বচক্ষে উপাস্যকে
তোমার সাথে প্রকাশ্যে (কথা বলতে) দেখবো।”
সে সময় তোমাদের চোখের সামনে
তোমাদের ওপর একটি ভয়াবহ বজ্রপাত হলো,
তোমরা নিস্প্রাণ হয়ে পড়ে গেলে।৫৫

কিন্তু আবার আমরা তোমাদের বাঁচিয়ে জীবিত করলাম,
হয়তো এ অনুগ্রহের পর তোমরা কৃতজ্ঞ হবে।৫৬

আমরা তোমাদের ওপর মেঘমালার ছায়া দান করলাম,
তোমাদের জন্য সরবরাহ করলাম মান্না ও সালওয়ার খাদ্য 
এবং তোমাদের বললাম,
যে পবিত্র দ্রব্য-সামগ্রী আমরা তোমাদের দিয়েছি তা থেকে খাও।
কিন্তু তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা কিছু করেছে
তা আমাদের ওপর অত্যাচার ছিল না
বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর অত্যাচার করেছে।৫৭

আরো স্মরণ করো যখন আমরা বলেছিলাম,
“তোমাদের সামনের এই জনপদে প্রবেশ করো
এবং সেখানকার উৎপন্ন দ্রব্যাদি যেমন ইচ্ছা খাও মজা করে।
কিন্তু জনপদের দুয়ারে বিনয়াবনত হয়ে প্রবেশ করবে
অনুতাপ করতে করতে।
আমরা তোমাদের ত্রুটিগুলো মাফ করে দেবো
এবং সৎকর্মশীলদের প্রতি অত্যধিক অনুগ্রহ করবো।”৫৮

কিন্তু যে কথা বলা হয়েছিল
অত্যাচারীরা তাকে বদলে অন্য কিছু করে ফেললো।
শেষ পর্যন্ত অত্যাচারীদের ওপর
আমরা ঐশী শাস্তি আপতিত করলাম।
এ ছিল তারা যে অবাধ্যতা করছিল তার শাস্তি।৫৯

(অধ্যায়ঃগাভী, ৪০-৫৯)

১৯৭. অবিশ্বাসীদের প্রতি অকাট্য যুক্তি

আর যে বইটি আমি আমার দাসের ওপর অবতীর্ন করেছি
সেটি আমার কিনা-
 ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দেহ পোষণ করে থাকো
তাহলে তার মতো একটি সূরা তৈরি করে আনো
এবং নিজেদের সমস্ত সমর্থক গোষ্ঠীকে ডেকে আনো –
এক আল্লাহকে ছাড়া আর যার যার চাও তার সাহায্য নাও,
যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে  কাজটি করে দেখাও
(সূরা বাকারাঃ ২৩)

Saturday, November 1, 2014

অধ্যায়২ঃ গাভী (২১-৩৯)

পরিচ্ছেদ-
হে মানব জাতি
দাসত্ব করো তোমাদের প্রভূ-সৃষ্টিকর্তা-প্রতিপালকের,
যিনি তোমাদের তোমাদের পূর্ববর্তী সবার সৃষ্টিকর্তা২১

এভাবেই তোমরা নিষ্কৃতি লাভের আশা করতে পারো
তিনিই তোমাদের জন্য মাটির শয্যা বিছিয়েছেন,
আকাশের ছাদ তৈরি করেছেন,
ওপর থেকে পানি বর্ষণ করেছেন
এবং তার সাহায্যে সব রকমের ফসলাদি উৎপন্ন করে
তোমাদের আহার যুগিয়েছেন
কাজেই একথা জানার পর
তোমরা অন্যদেরকে উপাস্যের প্রতিপক্ষে পরিণত করো না২২

আর যা আমি আমার দাসের কাছে প্রকাশ করেছি
সেটি আমার কিনা-
ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দেহ পোষণ করে থাকো
তাহলে তার মতো একটি অধ্যায় রচনা করে আনো
এবং নিজেদের সমস্ত সমর্থক গোষ্ঠীকে ডেকে আনো
এক উপাস্যকে ছাড়া আর যার যার চাও তার সাহায্য নাও,
যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে কাজটি করে দেখাও২৩

কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো
আর নিঃসন্দেহে কখনই তোমরা এটা করতে পারবে না,
তাহলে সচেতন থাকো সেই আগুনের ব্যাপারে,
যার ইন্ধন হবে পাষান মানুষ,
যা তৈরি রাখা হয়েছে আমার দাসের কাছে প্রকাশিত
সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য২৪

যারা এই সত্যকে মনে-প্রানে গ্রহণ করে নিয়ে
ভাল কাজ করে যায়
তাদেরকে মর্মে সুখবর দাও যে,
তাদের জন্য রয়েছে এমন সব বাগান
যার বুক চিরে বয়ে চলে অসংখ্য ঝর্ণাধারা
সেই বাগানের ফল দেখতে দুনিয়ার ফলের মতই হবে
যখন কোন ফল তাদের দেয়া হবে খাবার জন্য,
তারা বলে উঠবেঃ
ধরনের ফলইতো ইতিপূর্বে দুনিয়ায় আমাদের দেয়া হতো
তাদের জন্য সেখানে থাকবে পবিত্র জুড়ি
এবং তারা সেখানে থাকবে চিরকাল২৫

অবশ্য উপাস্যলজ্জা কিংবা সংকোচ করেন না
মশা বা তার চেয়ে তুচ্ছ কোন জিনিসের দৃষ্টান্ত দিতে
যারা সত্য গ্রহণকারী
তারা দৃষ্টান্তউপমাগুলো দেখে জানতে পারে-
এগুলো সত্য,
এগুলো এসেছে তাদের প্রভূর পক্ষ থেকে,
আর যারা (সত্যকে) গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়
তারা এগুলো শুনে বলতে থাকে,
ধরনের দৃষ্টান্তউপমার সাথে উপাস্যের কী সম্পর্ক?
এভাবে উপাস্য একই কথার সাহায্যে
অনেককে বিভ্রান্ত করেন
আবার অনেককে চালান সরল সোজা পথে২৬

আর তিনি বিভ্রান্তির মধ্যে তাদেরকেই নিক্ষেপ করেন
যারা মুখে বলে কিন্তু কাজে করে না।
যারা উপাস্যের সাথে দৃড়ভাবে অঙ্গীকার করার পর
আবার তা ভেঙ্গে ফেলে,
উপাস্য যাকে জোড়ার হুকুম দিয়েছেন
তাকে কেটে ফেলে
এবং যমীনে অশান্তি-বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলে
আসলে এরাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত২৭

তোমরা কেমন করে উপাস্যকে অমান্য করতে পারো!
অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন,
তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন
অতঃপর তিনি তোমাদের প্রাণ হরণ করবেন
এবং অতঃপর তিনি তোমাদের জীবন দান করবেন
তারপর তাঁরই দিকে তোমাদের ফিরে যেতে হবে২৮

তিনিই পৃথিবীতে তোমাদের জন্য সমস্ত জিনিস সৃষ্টি করলেন
তারপর ওপরের দিকে লক্ষ করলেন
এবং সাত আকাশ বিন্যস্ত করলেন।
তিনিই সর্বজ্ঞাতা২৯

পরিচ্ছেদ-৪
আবার সেই সময়ের কথা একটু স্মরণ কর
যখন তোমাদের সৃষ্টিকর্তা দেবত্বগণকে বলেছিলেন,
আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে চাই
তারা বললো, “আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে নিযুক্ত করতে চান
যে সেখানে অশান্তি-বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং রক্তপাত করে?
আপনার প্রশংসা স্তুতিসহকারে গুনকীর্তন
এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা তো আমরা করেই যাচ্ছি
উপাস্য বললেন, “আমি জানি যা তোমরা জানো না৩০

অতঃপর উপাস্যআদমকে সমস্ত জিনিসের নাম-পরিচয় শেখালেন
তারপর সেগুলো পেশ করলেন দেবগণের সামনে
এবং বললেন, “যদি তোমাদের ধারণা সঠিক হয়
(অর্থাৎ কোন প্রতিনিধি নিযুক্ত করলে ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত হবে)
তাহলে একটু বলতো দেখি এই জিনিসগুলোর নাম-পরিচয়?”৩১

তারা বললোঃত্রুটিমুক্ত তো একমাত্র আপনারই সত্তা,
আমরা তো মাত্র ততটুকু জ্ঞান রাখি যতটুকু আপনি আমাদের দিয়েছেন
প্রকৃতপক্ষে আপনি ছাড়া আর এমন কোন সত্তা নেই
যিনি সবকিছু জানেন সবকিছু বোঝেন৩২

তখন উপাস্য আদমকে বললেন,
তুমি ওদেরকে এই জিনিসগুলোর নাম-পরিচয় বলে দাও
যখন সে তাদেরকে সেসবের নাম-পরিচয় জানিয়ে দিল
তখন উপাস্যবললেনঃআমি না তোমাদের বলেছিলাম,
আমি আকাশ পৃথিবীর এমন সমস্ত নিগূঢ় তত্ত্ব জানি
যা তোমাদের অগোচরে রয়ে গেছে?
যা কিছু তোমরা প্রকাশ করে থাকো তা আমি জানি
এবং যা কিছু তোমরা গোপন করো তাও আমি জানি৩৩

তারপর যখন দেবগণকে আদেশ দিলাম,
আদমের সামনে নত হও,
তখন সবাই অবনত হলো, কিন্তু ইবলিস অস্বীকার করলো
সে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে মেতে উঠলো
এবং অবাধ্যদের অন্তর্ভুক্ত হলো৩৪

তখন আমরা আদমকে বললাম,
তুমি তোমার স্ত্রী উভয়েই বাগানে থাকো
এবং এখানে স্বাচ্ছন্দের সাথে ইচ্ছে মতো খেতে থাকো,
তবে এই গাছটির কাছে যেয়ো না
অন্যথায় তোমরা দুজন অত্যাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে৩৫

শেষ পর্যন্ত দুরাত্মা তাদেরকে সেই গাছটির লোভ দেখিয়ে
আমার আদেশের আনুগত্য থেকে সরিয়ে দিল
এবং যে অবস্থার মধ্যে তারা ছিল
তা থেকে তাদেরকে বের করে ছাড়লো
আমি আদেশ করলাম, “এখন তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও
তোমরা একে অপরের শত্রু
তোমাদের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে অবস্থান করতে
জীবন অতিবাহিত করতে হবে

তখন আদম কয়েকটি বাক্য শিখে নিয়ে
তার প্রভূর আনুগত্যের দিকে ফিরে এলো
তার প্রভূ তাকে গ্রহণ করে নিলেন
কারণ তিনি বড়ই ক্ষমাশীল অনুগ্রহকারী৩৭

আমরা বললাম, “তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও
এরপর যখনই আমার পক্ষ থেকে কোন নির্দেশনা
তোমাদের কাছে পৌঁছুবে
তখন যারা আমার সেই নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে
তাদের জন্য থাকবে না কোন ভয় দুঃখ বেদনা৩৮

আর যারা একে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে
এবং আমার বানীসমূহকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেবে
তারা হবে আগুনের মধ্যে প্রবেশকারী
সেখানে তারা থাকবে চিরকাল৩৯

(অধ্যায়ঃগাভী, সূত্রঃ২১-৩৯)