Thursday, September 25, 2014

১৮৪. কুরআন নাজিল হয়েছে রাসূলের অন্তরে

ওদেরকে বলে দাও, 
যে ব্যক্তি জিব্রীলের সাথে শত্রুতা করে 
তার জেনে রাখা উচিত, 
জিব্রীল আল্লাহরই হুকুমে 
এই কুরআন তোমার হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছে 
এটি পূর্বে আগত কিতাবগুলোর সত্যতা স্বীকার করে 
ও তাদের প্রতি সমর্থন যোগায় 
এবং বিশ্বাসীদের পরিচালক ও সাফল্যের বার্তাবাহী।
(সূরা আল বাকারাহ/৯৭)

Tuesday, September 16, 2014

১৮৩. উসওয়াতুন হাসানাহ বা উত্তম আদর্শ

তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তাঁর সাথীদের মধ্যে 
একটি উত্তম আদর্শ বর্তমান। 

তিনি তাঁর জাতিকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছিলেনঃ 
আমরা তোমাদের সাথে
এবং আল্লাহকে ছেড়ে যাদের দাসত্ব তোমরা করে থাক 
তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি। 
আমরা তোমাদের অস্বীকার করেছি। 
আমাদের ও তোমাদের মধ্যে ততদিন পর্যন্ত শত্রুতা থাকবে,
যতদিন পর্যন্ত তোমরা এক আল্লাহর প্রতি 
আস্থা ও বিশ্বাস না রাখবে। 
তবে ইবরাহীমের তাঁর বাপকে একথা বলা (এর অন্তর্ভুক্ত নয়) 
“আমি আপনার জন্য অবশ্যই ক্ষমা প্রার্থনা করবো। 
তবে আল্লাহর নিকট থেকে আপনার জন্য 
নিশ্চিত কোন কিছু অর্জন করে নেয়া আমার আয়ত্বাধীন নয়।” 
(ইবরাহীমের দোয়া ছিলঃ ) 
প্রভূ! তোমার ওপরেই আমরা ভরসা করেছি, 
তোমার প্রতিই আমরা একান্তভাবে নিবিষ্ট,
আর তোমার কাছেই আমাদের ফিরে আসতে হবে।
প্রভূ! আমাদেরকে অবিশ্বাসীদের জন্য সংশয় বানিয়ে দিও না। 
প্রভূ! আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দাও। 
নিঃসন্দেহে তুমিই পরাক্রমশালী এবং জ্ঞানী। 

এসব লোকের কর্মপদ্ধতিতে তোমাদের জন্য 
এবং আল্লাহ‌ ও পরকালের প্রত্যাশী লোকদের জন্য 
উত্তম আদর্শ রয়েছে। 
এ থেকে যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় 
তাহলে আল্লাহ‌ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রশংসিত।
 (সূরা আল মুমতাহিনা/৪-৬)

আসলে তোমাদের জন্য 
আল্লাহর বার্তাবাহকের মধ্যে ছিল 
একটি উত্তম আদর্শ 
এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য 
যে আল্লাহ‌ ও শেষ দিনের আকাঙ্ক্ষী 
এবং বেশী করে আল্লাহকে স্মরণ করে।
(সূরা আল আহযাব/২১)  

Sunday, September 14, 2014

১৮২. মানুষের ওপর থেকে বোঝা নামাবার জন্যই রাসূল (দঃ) এসেছিলেন

(আজ তারাই এ রহমতের অংশীদার)
যারা এ প্রেরিত উম্মী নবীর আনুগত্য করে,
যার উল্লেখ তোমাদের নিকট
এখানে তাওরাত ও ইনজীলে লিখিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
সে তাদের সৎকাজের আদেশ দেয়,
অসৎকাজ থেকে বিরত রাখে,
তাদের জন্য পাক পবিত্র জিনিসগুলো হালাল
ও নাপাক জিনিসগুলো হারাম করে
এবং তাদের ওপর থেকে এমন সব বোঝা নামিয়ে দেয়
যা তাদের ওপর চাপানো ছিল।
আর এমন সব বাঁধন থেকে তাদেরকে মুক্ত করে
যাতে তারা আবদ্ধ ছিল।
কাজেই যারা তার প্রতি ঈমান আনে,
তাকে সাহায্য সহায়তা দান করে
এবং তার সাথে অবতীর্ণ আলোক রশ্মির (আল কোরআন) অনুসরণ করে
তারাই সফলতা লাভের অধিকারী।
(সূরা আল আরাফ/১৫৭)

১৮১.১. একমাত্র আল্লাহর কিতাবই দলীল। কিন্তু মানুষ পূর্বপুরুষদের অনুসরন করে

 একমাত্র আল্লাহর কিতাবই দলীল। কিন্তু মানুষ পূর্বপুরুষদের অনুসরন করে
----------------------------------------------------------------------

আমি কি এর আগে এদেরকে কোন কিতাব দিয়েছিলাম
এরা যার সনদ নিজেদের কাছে সংরক্ষন করছে?
তা নয়, বরং এরা বলে,
আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে একটি পন্থার ওপর পেয়েছি,
আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছি।
 এভাবে তোমার পূর্বে আমি যে জনপদেই কোন সতর্ককারীকে পাঠিয়েছি,
তাদের স্বচ্ছল লোকেরা একথাই বলেছে,
আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে একটি পন্থার অনুসরণ করতে দেখেছি।
আমরাও তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।
আল্লাহর প্রত্যেক বার্তাপ্রচারকরাই তাদেরকে বলেছেন,
তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের যে পথে চলতে দেখেছো
আমি যদি তোমাদেরকে তার চেয়ে অধিক সঠিক রাস্তা বলে দেই
তাহলেও কি তোমরা সেই পথেই চলতে থাকবে?
তারা আল্লাহর সব বার্তাবাহকদেরকে এই জবাবই দিয়েছে,
যে কিতাব নিয়ে তুমি প্রেরিত হয়েছো, আমরা তা অস্বীকার করি।
শেষ পর্যন্ত আমি তাদেরকে মার দিয়েছি এবং দেখে নাও,
অস্বীকারকারীদের কি পরিণাম হয়েছে!
(সূরা আয যুখরুফ/২১-২৫)

Saturday, September 13, 2014

১৮০. সিরাতুল মুস্তাকীম

অহীর মাধ্যমে তোমার কাছে যে কিতাব পাঠানো হয়েছে 
সর্বাবস্থায় তুমি দৃঢ়ভাবে তা আঁকড়ে থাকো 
নিশ্চয়ই তুমি সোজা পথে আছো।
প্রকৃত সত্য হলো, 
এ কিতাব তোমার ও তোমার কর্মের জন্য 
অনেক বড় একটি মর্যাদা 
এবং এজন্য অচিরেই তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে।
(সূরা আয যুখরুফ/৪৩-৪৪)

এভাবেই আমি আমার নির্দেশে 
তোমার কাছে এক রূহকে অহী করেছি। 
তুমি আদৌ জানতে না কিতাব কি এবং ঈমানই বা কি। 
কিন্তু সেই রূহকে আমি একটি আলো বানিয়ে দিয়েছি 
যা দিয়ে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে 
যাকে ইচ্ছা পথ দেখিয়ে থাকি। 
নিশ্চিতভাবেই আমি তোমাকে সোজা পথের দিক নির্দেশনা দান করছি।
(সূরা আশ শূরা/৫২) 

১৭৯. শরীয়ত

সব নবীদের শরীয়তই এক ছিল
------------------------------

তোমাদের জীবন চালাবার জন্য শরীয়ত দেয়া হয়েছে 
যা দেয়া হয়েছিল নূহকে 
এবং যা এখন আমি তোমাকে দিয়েছি অহীর মাধ্যমে। 
আর যা আমি দিয়েছিলাম ইবরাহীম (আ), মূসা (আ) ও ঈসাকে (আ) কে। 
তার সাথে তাগিদ করেছিলাম এই বলে যে, 
এ জীবন পদ্ধতি অবলম্বন করো 
এবং এ ব্যাপারে পরস্পর ভিন্ন হয়ো না। 
এই কথাটিই এসব মুশরিকের কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয় 
যার দিকে তুমি তাদের আহবান জানাচ্ছো। 
আল্লাহ‌ যাকে ইচ্ছা আপন করে নেন 
এবং তিনি তাদেরকেই নিজের কাছে আসার পথ দেখান 
যে সব সময় তাঁর অভিমুখী। (সূরা আশ শূরা/১৩)



আল্লাহর কালামের বাইরে শরীয়ত মানা
---------------------------------------------


তাদের জন্য কি আল্লাহর এমন কোন অংশীদার আছে
যারা তাদের জীবন পরিচালনার জন্য শরীয়ত প্রনয়ন করে
যাতে আল্লাহর কোনো অনুমতি নেই।
যদি ফায়সালার বিষয়টি পূর্বেই মীমাংসিত না হয়ে থাকতো
তাহলে তাদের বিবাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয়া হতো।
এই সর্বনাশাদের জন্য নিশ্চিত কষ্টদায়ক শাস্তি রয়েছে।
(সূরা আশ শূরা/২১)

Wednesday, September 10, 2014

১৭৮. আল্লাহর সুন্নতে কোনো পরিবর্তন নেই

তারা পৃথিবীতে আরো বেশী অহংকার করতে থাকে
এবং দুষ্ট চাল চালতে থাকে,
অথচ দুষ্ট চাল তার উদ্যোক্তাদেরকেই ঘিরে ফেলে।
এখন তারা কি পূর্বের জাতিদের সাথে
আল্লাহ‌ যে সুন্নত অবলম্বন করেছিলেন
তাদের সাথে অনুরূপ সুন্নতেরই অপেক্ষা করছে?
যদি একথাই হয়ে থাকে
তাহলে তুমি আল্লাহর সুন্নতে
কখখনো কোন পরিবর্তন পাবে না
এবং কখখনো আল্লাহর সুন্নতকে
তার নির্ধারিত পথ থেকে
হটে যেতেও তুমি দেখবে না।
(সূরা ফাতের/৪৩)

Tuesday, September 9, 2014

১৭৭. মদ

The Noble Quran 2:219
তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড়। আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পার।

The Noble Quran 4:43
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক, তখন প্রার্থনার ধারে-কাছেও যেওনা, যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ, আর নাপাকী থাকলে তা থেকে পরিচ্ছন্ন হওয়া ব্যতীত। কিন্তু ভ্রমনরত থাকলে সে কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা ভ্রমনরত থাকো অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী সম্ভোগ করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়, তবে পরিচ্ছন্ন মাটির দ্বারা মুছে নাও- এবং তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।

The Noble Quran 5:90
হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।

The Noble Quran 5:91
শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখন ও কি নিবৃত্ত হবে।

১৭৬. ফেরেশতা

দুজন লেখক তার ডান ও বাঁ দিকে বসে সবকিছু লিপিবদ্ধ করছে।
এমন কোন শব্দ তার মুখ থেকে বের হয় না 
যা সংরক্ষিত করার জন্য 
একজন সদা প্রস্তুত রক্ষক উপস্থিত থাকে না।
(সূরা ক্বাফ/১৮)

তাঁর জন্য সবই সমান। 
প্রত্যেক ব্যক্তির সামনে ও পেছনে 
তাঁর নিযুক্ত পাহারাদার লেগে রয়েছে, 
যারা আল্লাহর হুকুমে তার দেখাশুনা করছে। 
আসলে আল্লাহ‌ ততক্ষণ পর্যন্ত কোন জাতির অবস্থা বদলান না 
যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের গুণাবলী বদলে ফেলে। 
আর আল্লাহ‌ যখন কোন জাতিকে দুর্ভাগ্য কবলিত করার 
ফায়সালা করে ফেলেন 
তখন কারো রদ করায় তা রদ হতে পারে না 
এবং আল্লাহর মোকাবিলায় এমন জাতির 
কোন সহায় ও সাহায্যকারী হতে পারে না। (সূরা আর রাদ/১১)

 প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, 
যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবীর নির্মাতা 
এবং ফেরেশতাদেরকে বাণীবাহক নিয়োগকারী 
(এমন সব ফেরেশতা) যাদের দুই দুই তিন তিন 
ও চার চারটি ডানা আছে। 
নিজের সৃষ্টির কাঠামোয় তিনি যেমনটি চান বৃদ্ধি করেন। 
 নিশ্চয়ই আল্লাহ‌ সব জিনিসের ওপর শক্তিমান। 
(সূরাতুল ফাতের/১)

Monday, June 2, 2014

১৮১.২. অহী


কোন মানুষই এ মর্যাদার অধিকারী নয় যে, 
আল্লাহ‌ তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। 
তিনি কথা বলেন হয় অহীর (ইঙ্গিত) মাধ্যমে, 
অথবা পর্দার আড়াল থেকে, 
কিংবা তিনি কোন বার্তাবাহক পাঠান 
এবং সে তাঁর নির্দেশে তিনি যা চান অহী হিসেবে দেয়। 
তিনি সুমহান ও সুবিজ্ঞ।  
এভাবেই আমি আমার নির্দেশে 
তোমার কাছে এক রূহকে অহী করেছি। 
তুমি আদৌ জানতে না কিতাব কি 
এবং ঈমানই বা কি। 
কিন্তু সেই রূহকে আমি একটি আলো বানিয়ে দিয়েছি 
যা দিয়ে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে 
যাকে ইচ্ছা পথ দেখিয়ে থাকি। 
নিশ্চিতভাবেই আমি তোমাকে সোজা পথের 
দিক নির্দেশনা দান করছি।  
সেই আল্লাহর পথের দিকে 
যিনি যমীন ও আসমানের সব জিনিসের মালিক। 
সাবধান, সব কিছু আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়। 
(সূরা আশ শূরা/৫১-৫৩)।

ওদেরকে বলে দাও,
যে ব্যক্তি জিব্রীলের সাথে শত্রুতা করে
তার জেনে রাখা উচিত,
জিজিব্রীল আল্লাহরই হুকুমে
এই কুরআন তোমার দিলে অবতীর্ণ করেছে।
এটি পূর্বে আগত কিতাবগুলোর সত্যতা স্বীকার করে
ও তাদের প্রতি সমর্থন যোগায়
এবং বিশ্বাসীদের জন্য পথনির্দেশনা
ও সাফল্যের বার্তাবাহী।
(সূরা আল বাকারাহঃ ৯৭)

Sunday, June 1, 2014

১৮০. আল্লাহর পক্ষ থেকে জীবনোপকরনের কম বেশী করার তাৎপর্যঃ

তাদেরকে বলে দাও, আমার রব যাকে চান প্রশস্ত রিযিক দান করেন এবং যাকে চান মাপাজোকা দান করেন কিন্তু বেশীর ভাগ লোক এর প্রকৃত তাৎপর্য জানে না। তোমাদের এই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এমন নয় যা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করে; হ্যাঁ, তবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও তদানুযায়ী সৎকাজ করে। এরাই এমন লোক যাদের জন্য রয়েছে তাদের কর্মের দ্বিগুণ প্রতিদান এবং তারা সুউচ্চ ইমারতসমূহে নিশ্চিন্তে-নিরাপদে থাকবে।
যারা আমার আয়াতকে ব্যর্থ করার জন্য প্রচেষ্টা চালায় তারা শাস্তি ভোগ করবে। তাদেরকে বলো, “আমার রব তাঁর ক্রীতদাসদের মধ্য থেকে যাকে চান মুক্ত হস্তে রিযিক দান করেন এবং যাকে চান মাপাজোকা দেন। যা কিছু তোমরা ব্যয় করে দাও তার জায়গায় তিনি তোমাদের আরো দেন, তিনি সব রিযিকদাতার চেয়ে ভাল রিযিকদাতা।” সূরা আস সাবা/৩৬-৩৯।

Thursday, May 29, 2014

১৮৪. হিন্দু ধর্মগ্রন্থ


যাদের বিচার-বুদ্ধি কেড়ে নিয়েছে পার্থিব আকাঙ্ঘা তারা অপদেবতার উপাসনা করে অর্থ্যাত 'যারা জড়বাদী তারাই শুধু অপদেবতার উপাসনা করে। ভগবদগীতাঃ ৭.২০

তিনি সেই সত্তা যিনি আমাকে জন্মের পূর্বে থেকেই জানেন, যার কোনো আদি নেই, তিনি হচ্ছেন জগটসমূহের সর্ময় কর্তৃত্বের অধিকারী প্রভূ। ভগবদগীতাঃ ১০.৩


মহাজ্ঞানীরা এক প্রভূকে বিভিন্ন নামে ডাকে। ঋগবেদঃ ১.৬৪.৪৬

তাঁর ব্যাপারে কোনো কল্পনা করা যায় না। তিনি হচ্ছেন এমন সত্তা যিনি জন্মগ্রহন করেননি, তিনি আমাদের উপাসনার যোগ্য। (জজুরবেদ.৩২.৩)

তিনি হচ্ছেন নিরাকার এবং বিশুদ্ধ। (জজুরবেদঃ ৪০.৮)

তারা অন্ধকারে প্রবেশ করে যারা প্রাকৃতিক বস্তুর পূজা করে। (জজুরবেদঃ ৪০.৯)

প্রভূ অত্যন্ত মহান। (অথর্ববেদঃ ২.৫৮.৩)

তিনি একজন ব্রহ্ম। (ঋগবেদ বই-২, স্তুতিবাচক শ্লোক-৩)। ব্রহ্ম শব্দটির অর্থ স্রষ্টা। শব্দটির আরবী অনুবাদ করলে দাঁড়ায় 'খালিক'। ইসলাম মহান প্রভূকে খালিক বা ব্রহ্ম বা স্রষ্টা বলে ডাকতে নিষেধ করে না। কিন্তু কেউ যদি বলে ব্রহ্ম, তথা সর্বশক্তিমান প্রভূর চারটি মাথা আর প্রতি মাথায় একটি মুকুট এবং চারটি হাত আছে, তবে এক্ষেত্রে ইসলামের প্রবল আপত্তি রয়েছে। কারণ এ ধরনের বর্ণনা সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে মানুষের মনে কল্পনার সৃষ্টি করে। আর এ বর্ণনা জজুরবেদের ৩২ নং অধ্যায়ের ৩ নং শ্লোকে উল্লিখিত বর্ণনার সম্পূর্ণ বিপরীত। কেননা সেখানে বলা হয়েছে, 'তাঁর সম্পর্কে কল্পনাও করা যায় না' অর্থ্যাত স্রষ্টার কোনো প্রতিমূর্তি নেই।

বিষ্ণু অর্থ পালনকর্তাঃ
 ঋগবেদে প্রভূর আরেকটি সুন্দর গুণের কথা বলা হয়েছে। যেমন বই-২, স্তুতিস্তাবক-১, শ্লোক নং-৩ এ বিষ্ণুর উল্লেখ আছে। 'বিষ্ণু' শব্দটির অর্থ হচ্ছে রক্ষাকর্তা বা পালনকর্তা। আপনি যদি এ শব্দটিকে আরবিতে অনুবাদ করেন তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায় 'রব'। আর কেউ যদি সর্বশক্তিমান প্রভূকে 'রব', 'রক্ষাকর্তা' কিংবা 'বিষ্ণু' হিসেবে আখ্যায়িত করে তাতে ইসলামের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যদি কেউ বলে যে বিষ্ণুই হলেন সেই ঈশ্বর যিনি বসে আছেন সাপকে আসন বানিয়ে, সমূদ্রের নীচে ভ্রমণ করেন, গরুর নামক এক পাখির পিঠে চড়ে আকাশে উড়ে বেড়ান, তার চারটি হাত আছে, ডান হাতদ্বয়ের একটি হাত দ্বারা শংখ বর্ম এবং বিষ্ণু পাখি কিংবা সাপের ছোবলের বাহনে উপবিষ্ট তাহলে এক্ষেত্রে ইসলামের ঘোর আপত্তি আছে। কারণ, বিষ্ণুর এ ধরনের বর্ণনা সর্বশক্তিমান প্রভূর আকৃতি সম্পর্কে ধারণার সৃষ্টি করে। আর এ বর্ণনা জজুরবেদের ৩২ নং অধ্যায়ের ৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনার [সেখানে বলা হয়েছে, না আস্তি প্রতিমা আস্তি অর্থ্যাত সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালকের কোনো প্রতিমূর্তি নেই।] সম্পূর্ণ বিপরীত।

# ঋগবেদ খন্ড-৮, স্তুতিবাচন অনুচ্ছেদ-১, শ্লোক নং-১ এ বলা হয়েছে- !মা চদিনদি সানসাদ, অর্থ্যাত 'তিনি (প্রভূ) ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করো না। তিনি একমাত্র স্বর্গীয়। কেবল তাঁরই প্রশংসা করো।' (ঋগবেদ সমিতি, খন্ড-৯, পৃষ্ঠা-১ ও ২)

# ঋগবেদ খন্ড-৫, স্তুতিস্তাবক-৮১, শ্লোক নং-১ এ বলা হয়েছে- 'সত্যিই স্বর্গীয় স্রষ্টার গৌরব অত্যন্ত সুমহান।' (ঋগবেদ সমিতি, খন্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৮০২ ও ১৮০৩)

#ঋগবেদ খন্ড-৬, স্তুতিস্তাবক-৪৫, এর ১৬ শ্লোকে বলা হয়েছে- 'তাঁরই প্রশংসা করো যার কোনো তুলনা নেই এবং তিনি একক।' (র‍্যাঙ্ক টি এইচ গ্রিফথ কর্তৃক রচিত ঋগবেদ, পৃষ্ঠা-৬৪৮)

হিন্দু বেদান্তের ব্রহ্মসূত্রঃ
হিন্দু বেদান্তের ব্রহ্মসূত্র হচ্ছে- "এক কম ব্রাহম দিউতা নাস্তি নেহনা নাস্তি কিঞ্চন" অর্থ্যাত 'সৃষ্টিকর্তা কেবল একজন এবং দ্বিতীয় কোনো দেবতা নেই, আদৌ নেই, কখনো ছিল না এবং কখনো হবে না।'
হিন্দুধর্মের প্রকৃত ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে নেয়া এসব ধারা স্পষ্টভাবে স্রষ্টা সর্বশক্তিমান প্রভূর একত্ব এবং অদ্বিতীয়তা প্রমাণ করে। উপরন্তু এসব ধারা স্পষ্টভাবে স্রষ্টা সর্বশক্তিমান প্রভূর একত্ব এবং অদ্বিতীয়তা প্রমাণ করে। উপরন্তু এসব ধারা সত্য প্রভূ একক আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য দেবতার অস্তিত্বকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে। এসব ধারা অত্যন্ত সুন্দরভাবে একেশ্বরবাদ তথা তাওহীদের ধারণাকে স্পষ্ট করে। কেউ যদি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে হিন্দুধর্ম গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেন তবে তিনি হিন্দুধর্মের প্রভূ সম্পর্কিত যথার্থ ধারণা বুঝতে ও উপলব্ধি করতে পারবেন।

১৮৩. Mostafa Wahiduzzaman QSRF - ঈমান : Iman Vs Kalima e Shahadah [96:1]

১৮২. জ্বীনেরা অদৃশ্যের খবর জানে না। সূতরাং মানুষের মনের খবর জানার প্রশ্নই আসে না।

তারপর যখন সুলাইমানের ওপর আমি মৃত্যুর ফায়সালা প্রয়োগ করলাম তখন জিনদেরকে তাঁর মৃত্যুর খবর দেবার মতো সেই ঘুণ ছাড়া আর কোন জিনিস ছিল না যা তাঁর লাঠিকে খেয়ে চলছিল। এভাবে যখন সুলাইমান পড়ে গেলো, জিনদের কাছে একথা পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, যদি তারা অদৃশ্যের কথা জানতো তাহলে এ লাঞ্ছনাকর শাস্তিতে আবদ্ধ থাকতো না। সূরা আস সাবা/১৪।

Wednesday, May 28, 2014

১৮১.৩. প্রার্থনা

প্রার্থনা আল্লাহর সাথে সম্পর্কের মাধ্যম, প্রার্থনায় দাঁড়াবার নিয়মঃ
তোমাদের প্রার্থনাসমূহের ব্যাপারে যত্নশীল হও যাতে তা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরীর মাধ্যম হয়। আল্লাহর সামনে এমনভাবে দাঁড়াও যেমন অনুগত সেবকরা দাঁড়ায়। সূরা আল বাকারাহ/২৩৮

অজু, গোসল ও তায়াম্মুমঃ 
হে বিশ্বাসীগণ! যখন তোমরা প্রার্থনার জন্য তৈরী হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত দু’টি কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো, মাথার ওপর হাত বুলাও এবং পা দু’টিও গোড়ালী পর্যন্ত। যদি তোমরা ‘স্ত্রী-সহবাস’ পরবর্তী অবস্থায় থাকো, তাহলে পবিত্র হয়ে নাও। যদি তোমরা রোগগ্রস্ত হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে বা তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও, তাহলে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে কাজ সেরে নাও। তার ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের ওপর মুছে নাও। আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর অনুগ্রহ তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমরা কৃতজ্ঞ হবে। সূরা আল মায়েদাহ-৬।
কিয়াম, সেজদা, সমবেত প্রার্থনা, প্রার্থনার নির্ধারিত সময়ে করা আবশ্যকঃ
যখন তুমি মুসলমানদের মধ্যে থাকো এবং (যুদ্ধাবস্থায়) তাদেরকে নিয়ে প্রার্থনার জন্য দাঁড়াও তখন তাদের মধ্য থেকে একটি দলের তোমার সাথে দাঁড়িয়ে যাওয়া উচিত এবং তারা অস্ত্রসস্ত্র সঙ্গে নেবে। তারপর তারা সিজদা করে নিলে পেছনে চলে যাবে এবং দ্বিতীয় দলটি, যারা এখনো প্রার্থনা করেনি, তারা এসে তোমার সাথে প্রার্থনায় শামিল হবে। আর তারাও সতর্ক থাকবে এবং নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র বহন করবে। কারণ অবিশ্বাসীরা সুযোগের অপেক্ষায় আছে, তোমরা নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র ও জিনিস পত্রের দিক থেকে সামান্য দৃষ্টি ফেরালেই তারা তোমাদের ওপর অকস্মাৎ ঝাঁপিয়ে পড়বে। তবে যদি তোমরা বৃষ্টির কারণে কষ্ট অনুভব করো অথবা অসুস্থ থাকো, তাহলে অস্ত্র রেখে দিলে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু তবুও সতর্ক থাকো। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ‌ অবিশ্বাসীদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তারপর তোমরা প্রার্থনা শেষ করার পর দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। আর মানসিক প্রশান্তি লাভ করার পর যথাযথভাবে প্রার্থনা করো। আসলে নির্ধারিত সময়ে প্রার্থনা করা বিশ্বাসীগণের জন্য আবশ্যক করা হয়েছে। সূরা নিসা/১০২-১০৩।
 প্রার্থনায় আওয়াজ মাঝামাঝি রাখাঃ
এদেরকে বলে দাও, আল্লাহ‌ বা দয়াময় যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য সবই ভাল নাম। আর নিজের প্রার্থনা খুব বেশী উচ্চ কণ্ঠেও করবে না, বেশী ক্ষীণ কণ্ঠেও না, বরং এ দু’য়ের মাঝামাঝি মধ্যম পর্যায়ের কণ্ঠস্বর অবলম্বন করবে। সূরা বনী ইসরাঈল-১১০।


প্রার্থনায় আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করছি তা অবশ্যই বুঝে শুনে করতে হবেঃ
 হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রার্থনার কাছেও যেও না। প্রার্থনা সেই সময় করা উচিত যখন তোমরা যা বলছো তা জানতে পারো। অনুরূপভাবে অপবিত্র অবস্থায়ও  তা ধৌত না করা পর্যন্ত প্রার্থনার কাছে যেয়ো না। তবে যদি পথ অতিক্রমকারী হও, তাহলে অবশ্যি স্বতন্ত্র কথা। আর যদি কখনো তোমরা অসুস্থ হয়ে পড়ো, সফরে থাকো বা তোমাদের কেউ মলমূত্র ত্যাগ করে আসে অথবা তোমরা নারী সম্ভোগ করে থাকো এবং এরপর পানি না পাও, তাহলে পাক–পবিত্র মাটির সাহায্য গ্রহণ করো এবং তা নিজেদের চেহারা ও হাতের ওপর বুলাও। নিঃসন্দেহে আল্লাহ‌ কোমলতা অবলম্বনকারী ও ক্ষমাশীল। সূরা নিসা/৪৩।

প্রার্থনায় বিনয়ী থাকাঃ
যারা নিজেদের প্রার্থনায় বিনীত থাকে। সূরা আল মুমিনুন/২।

প্রার্থনায় যা বলতে হবেঃ
﴿ وَقُل رَّبِّ اَدۡخِلۡنِىۡ مُدۡخَلَ صِدۡقٍ وَّاَخۡرِجۡنِىۡ مُخۡرَجَ صِدۡقٍ وَّاجۡعَل لِّىۡ مِنۡ لَّدُنۡكَ سُلۡطٰنًا نَّصِيۡرًا‏﴾



আর বলো, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমাকে যেখানেই তুমি নিয়ে যাও সত্যতার সাথে নিয়ে যাও এবং যেখান থেকেই বের করো সত্যতার সাথে বের করো। এবং তোমার পক্ষ থেকে একটি কর্তৃত্বশীল পরাক্রান্ত শক্তিকে আমার সাহায্যকারী বানিয়ে দাও।
﴿ وَقُلۡ جَآءَ الۡحَقُّ وَزَهَقَ الۡبَاطِلُ‌ؕ اِنَّ الۡبَاطِلَ كَانَ زَهُوۡقًا﴾

আর ঘোষণা করে দাও, “সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, মিথ্যার তো বিলুপ্ত হবারই কথা।” সূরা বনী ইসরাঈল/৮০-৮১।


﴿ وَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِىۡ لَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ شَرِيۡكٌ فِىۡ الۡمُلۡكِ وَلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ وَلِىٌّ مِّنَ الذُّلِّ‌ؕ وَكَبِّرۡهُ تَكۡبِيۡرًا‏﴾


আর বলো, সেই আল্লাহর প্রশংসা, যিনি কোন পুত্রও গ্রহণ করেননি। তাঁর বাদশাহীতে কেউ শরীকও হয়নি এবং তিনি এমন অক্ষমও নন যে, কেউ তাঁর সাহায্যকারী ও নির্ভর হবে। আর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করো, চূড়ান্ত পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব। সূরা বনী ইসরাঈল/১১১।
 
প্রার্থনার সময়ঃ
(জীবনের সকল স্তরে) প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে নিয়ে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত এবং ফজরে কুরআন পড়ারও ব্যবস্থা করো। কারণ ফজরের কুরআন পাঠ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।  আর একে (কোরআন) নিয়ে রাত্রি জাগরণ কর। এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত। অচিরেই তোমার রব তোমাকে “প্রশংসিত স্থানে” প্রতিষ্ঠিত করবেন। সূরা বনী ইসরাঈল/৭৮-৭৯।

প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে শুধু আল্লাহর স্মরনের জন্যঃ
আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই, কাজেই তুমি আমার গোলামী করো এবং আমাকে স্মরণ করার জন্য (জীবনের সকল স্তরে) প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো। সূরা ত্বহা/১৪।

১৮০. জামাতে নামাজ (সমবেত প্রার্থনা)

(জীবনের সকল স্তরে) প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো, পরিশুদ্ধির জন্য দান করো এবং যারা আমার সামনে অবনত হচ্ছে তাদের সাথে তোমরাও অবনত হও। 
সূরা আল বাকারাহ/৪৩।
জামাতে নামাজ ফরজ হওয়ার প্রমান হিসেবে এই আয়াতটিকে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু একই রকম আদেশ আল্লাহ মারয়াম (আঃ) কে দিয়েছিলেন। আল্লাহ বলেন,
হে মারয়াম! তোমার রবের আদেশের অনুগত হয়ে থাকো। তাঁর সামনে সিজদাবনত হও এবং যেসব বান্দা তাঁর সামনে অবনত হয় তুমিও তাদের সাথে অবনত হও।” 
সূরা আলে ইমরান/৪৩।

১৭৯. যাকাত কত পার্সেন্ট???


হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা সাধারণ নারীদের মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে অসন্তুষ্টিকে ভয় করে থাকো, তাহলে মিহি স্বরে কথা বলো না, যাতে মনের গলদে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে, বরং পরিষ্কার সোজা ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলো। নিজেদের গৃহ মধ্যে অবস্থান করো। এবং পূর্বের জাহেলী যুগের মতো সাজসজ্জা দেখিয়ে বেড়িও না। (জীবনের সকল স্তরে) প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহ‌ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো। আল্লাহ‌ তো চান, তোমাদের নবী পরিবার থেকে ময়লা দূর করতে এবং তোমাদের পুরোপুরি পাক-পবিত্র করে দিতে। সূরা আল আহযাব/৩২-৩৩।
আল্লাহ নবীর স্ত্রীগণকে যাকাত দেয়ার নির্দেশ দিলেন এই আয়াতে। আল্লাহ কি জানতেন না নবীর ঘরে কোনো ধন-সম্পদ জমা থাকে না? (নাউজুবিল্লাহ)। যাকাত বলতে যদি সেই ২.৫% দেওয়া বুঝায় তাহলেতো এই আয়াত মিলে না। আসলে যাকাত দেওয়া বলতে আল্লাহ কি বুঝাতে চেয়েছেন? এখানে বলা হয়েছে 'আতিনা আয যাকাত'। 'আতিনা' শব্দের অর্থ তোমরা দাও। 'আয যাকাত' শব্দের অর্থ পবিত্রতা, পরিশুদ্ধি, বৃদ্ধিকরন। তাহলে অর্থ দাঁড়ায় তোমরা নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য দান করো। যখন যতটুকু সাধ্য থাকে ততটুকুই দান করো। আল্লাহ বলেন,
"তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছেঃ আমরা আল্লাহর পথে কি ব্যয় করবো? বলে দাওঃ যা কিছু তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়।" সূরা বাকারা/২২০।
দানের ব্যাপারে ভারসাম্য রক্ষা করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন,  
"নিজের হাত গলায় বেঁধে রেখো না এবং তাকে একেবারে খোলাও ছেড়ে দিয়ো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও অক্ষম হয়ে যাবে।" সূরা বনী ইসরাঈল/২৯।

যাকাতের খাতগুলো হচ্ছে,
এ সাদকা গুলো তো আসলে ফকীর, মিসকীনদের জন্য। আর যারা সাদকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত এবং যাদের জন্য মন জয় করা প্রয়োজন তাদের জন্য। তাছাড়া দাস মুক্ত করার, ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করার, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের উপকারে ব্যয় করার জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষে থেকে একটি বিধান এবং আল্লাহর সবকিছু জানেন, তিনি বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ। সূরা আত তওবা/৬০।
(এগুলো আমার নিজের বুঝ। কোরআন পড়ে আমি যা বুঝেছি তাই লিখলাম। দয়া করে কেউ বিতর্ক করবেন না।)

Monday, May 26, 2014

১৭৮. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ছাড়া কেউ মুক্তি পাবে না

লোকেরা কি মনে করে রেখেছে,
“আমরা বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করেছি”
কেবলমাত্র একথাটুকু বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে,
আর পরীক্ষা করা হবে না?
অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের সবাইকে পরীক্ষা করে নিয়েছি
আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন কে সত্যবাদী এবং কে মিথ্যুক।
সূরা আল আনকাবুত/২-৩।

তোমরা কি মনে করে রেখেছো 
তোমরা এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে? 
অথচ এখনো আল্লাহ‌ দেখেনইনি, 
তোমাদের মধ্যে কে তাঁর পথে 
প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালায় এবং দৃড় অবিচল থাকে।
(সূরা আলে ইমরানঃ ১৪২)

আমি তোমাদের কে অবশ্যই পরীক্ষা করবো 
যাতে আমি তোমাদের অবস্থা যাচাই করে দেখে নিতে পারি যে, 
তোমাদের মধ্যে কে তাঁর পথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়
এবং কে দৃড় অবিচল থাকে। 
(সূরা মুহাম্মদঃ ৩১)

Sunday, May 25, 2014

১৭৭. সময় গননা

 লোকেরা তোমাকে চাঁদ ছোট বড়ো হওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে। বলে দাওঃ এটা হচ্ছে লোকদের জন্য তারিখ নির্ণয় ও হজ্জ্বের আলামত তাদেরকে আরো বলে দাওঃ তোমাদের পেছন দিক দিয়ে গৃহে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী নেই। আসলে পূণ্য রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার মধ্যেই, কাজেই তোমরা দরজা পথেই নিজেদের গৃহে প্রবেশ করো। তবে আল্লাহর অসন্তোষ থেকে বেঁচে থাক, হয়তো তোমরা সাফল্য লাভে সক্ষম হবে। সূরা আল বাকারাহ/১৮৯।

আসলে যখন আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই আল্লাহর লিখন ও গণনায় মাসের সংখ্যা বারো চলে আসছে৷ এর মধ্যে চারটি হারাম মাস৷ এটিই সঠিক বিধান৷ কাজেই এ চার মাসের নিজেদের ওপর জুলুম করো না ৷ আর মুশরিকদের সাথে সবাই মিলে লড়াই করো যেমন তারা সবাই মিলে তোমাদের সাথে লড়াই করে৷ এবং জেনে রাখো আল্লাহ মুক্তাকীদের সাথেই আছেন৷  সূরা আত তওবা/৩৬।

তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিশালী ও চন্দ্রকে আলোকময় এবং তার মঞ্জিলও ঠিকমত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যাতে তোমরা তার সাহায্যে বছর গণনা ও তারিখ হিসেব করতে পারো। আল্লাহ‌ এসব কিছু (খেলাচ্ছলে নয় বরং) উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিজের নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে পেশ করেছেন যারা জ্ঞানবান তাদের জন্য। সূরা ইউনূস/৫।

Thursday, May 22, 2014

১৭৬. মজলুমরা ক্ষমতাসীন হবে এবং জালেমদের ধ্বংস করে দেয়া হবে মজলুমদেরই মাধ্যমে। এটাই আল্লাহর সুন্নত।

আমি সংকল্প করেছিলাম, যাদেরকে পৃথিবীতে লাঞ্ছিত করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবো, তাদেরকে নেতৃত্ব দান করবো, তাদেরকেই উত্তরাধিকারী করবো,  পৃথিবীতে তাদেরকে কর্তৃত্ব দান করবো। এবং তাদের থেকে ফেরাউন, হামান ও তার সৈন্যদেরকে সে সবকিছুই দেখিয়ে দেবো, যার আশঙ্কা তারা করতো। সূরা আল কাসাস/৫-৬।