Wednesday, May 28, 2014

১৮১.৩. প্রার্থনা

প্রার্থনা আল্লাহর সাথে সম্পর্কের মাধ্যম, প্রার্থনায় দাঁড়াবার নিয়মঃ
তোমাদের প্রার্থনাসমূহের ব্যাপারে যত্নশীল হও যাতে তা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরীর মাধ্যম হয়। আল্লাহর সামনে এমনভাবে দাঁড়াও যেমন অনুগত সেবকরা দাঁড়ায়। সূরা আল বাকারাহ/২৩৮

অজু, গোসল ও তায়াম্মুমঃ 
হে বিশ্বাসীগণ! যখন তোমরা প্রার্থনার জন্য তৈরী হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত দু’টি কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো, মাথার ওপর হাত বুলাও এবং পা দু’টিও গোড়ালী পর্যন্ত। যদি তোমরা ‘স্ত্রী-সহবাস’ পরবর্তী অবস্থায় থাকো, তাহলে পবিত্র হয়ে নাও। যদি তোমরা রোগগ্রস্ত হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে বা তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও, তাহলে পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে কাজ সেরে নাও। তার ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের ওপর মুছে নাও। আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর অনুগ্রহ তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমরা কৃতজ্ঞ হবে। সূরা আল মায়েদাহ-৬।
কিয়াম, সেজদা, সমবেত প্রার্থনা, প্রার্থনার নির্ধারিত সময়ে করা আবশ্যকঃ
যখন তুমি মুসলমানদের মধ্যে থাকো এবং (যুদ্ধাবস্থায়) তাদেরকে নিয়ে প্রার্থনার জন্য দাঁড়াও তখন তাদের মধ্য থেকে একটি দলের তোমার সাথে দাঁড়িয়ে যাওয়া উচিত এবং তারা অস্ত্রসস্ত্র সঙ্গে নেবে। তারপর তারা সিজদা করে নিলে পেছনে চলে যাবে এবং দ্বিতীয় দলটি, যারা এখনো প্রার্থনা করেনি, তারা এসে তোমার সাথে প্রার্থনায় শামিল হবে। আর তারাও সতর্ক থাকবে এবং নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র বহন করবে। কারণ অবিশ্বাসীরা সুযোগের অপেক্ষায় আছে, তোমরা নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র ও জিনিস পত্রের দিক থেকে সামান্য দৃষ্টি ফেরালেই তারা তোমাদের ওপর অকস্মাৎ ঝাঁপিয়ে পড়বে। তবে যদি তোমরা বৃষ্টির কারণে কষ্ট অনুভব করো অথবা অসুস্থ থাকো, তাহলে অস্ত্র রেখে দিলে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু তবুও সতর্ক থাকো। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ‌ অবিশ্বাসীদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তারপর তোমরা প্রার্থনা শেষ করার পর দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। আর মানসিক প্রশান্তি লাভ করার পর যথাযথভাবে প্রার্থনা করো। আসলে নির্ধারিত সময়ে প্রার্থনা করা বিশ্বাসীগণের জন্য আবশ্যক করা হয়েছে। সূরা নিসা/১০২-১০৩।
 প্রার্থনায় আওয়াজ মাঝামাঝি রাখাঃ
এদেরকে বলে দাও, আল্লাহ‌ বা দয়াময় যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য সবই ভাল নাম। আর নিজের প্রার্থনা খুব বেশী উচ্চ কণ্ঠেও করবে না, বেশী ক্ষীণ কণ্ঠেও না, বরং এ দু’য়ের মাঝামাঝি মধ্যম পর্যায়ের কণ্ঠস্বর অবলম্বন করবে। সূরা বনী ইসরাঈল-১১০।


প্রার্থনায় আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করছি তা অবশ্যই বুঝে শুনে করতে হবেঃ
 হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রার্থনার কাছেও যেও না। প্রার্থনা সেই সময় করা উচিত যখন তোমরা যা বলছো তা জানতে পারো। অনুরূপভাবে অপবিত্র অবস্থায়ও  তা ধৌত না করা পর্যন্ত প্রার্থনার কাছে যেয়ো না। তবে যদি পথ অতিক্রমকারী হও, তাহলে অবশ্যি স্বতন্ত্র কথা। আর যদি কখনো তোমরা অসুস্থ হয়ে পড়ো, সফরে থাকো বা তোমাদের কেউ মলমূত্র ত্যাগ করে আসে অথবা তোমরা নারী সম্ভোগ করে থাকো এবং এরপর পানি না পাও, তাহলে পাক–পবিত্র মাটির সাহায্য গ্রহণ করো এবং তা নিজেদের চেহারা ও হাতের ওপর বুলাও। নিঃসন্দেহে আল্লাহ‌ কোমলতা অবলম্বনকারী ও ক্ষমাশীল। সূরা নিসা/৪৩।

প্রার্থনায় বিনয়ী থাকাঃ
যারা নিজেদের প্রার্থনায় বিনীত থাকে। সূরা আল মুমিনুন/২।

প্রার্থনায় যা বলতে হবেঃ
﴿ وَقُل رَّبِّ اَدۡخِلۡنِىۡ مُدۡخَلَ صِدۡقٍ وَّاَخۡرِجۡنِىۡ مُخۡرَجَ صِدۡقٍ وَّاجۡعَل لِّىۡ مِنۡ لَّدُنۡكَ سُلۡطٰنًا نَّصِيۡرًا‏﴾



আর বলো, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমাকে যেখানেই তুমি নিয়ে যাও সত্যতার সাথে নিয়ে যাও এবং যেখান থেকেই বের করো সত্যতার সাথে বের করো। এবং তোমার পক্ষ থেকে একটি কর্তৃত্বশীল পরাক্রান্ত শক্তিকে আমার সাহায্যকারী বানিয়ে দাও।
﴿ وَقُلۡ جَآءَ الۡحَقُّ وَزَهَقَ الۡبَاطِلُ‌ؕ اِنَّ الۡبَاطِلَ كَانَ زَهُوۡقًا﴾

আর ঘোষণা করে দাও, “সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে, মিথ্যার তো বিলুপ্ত হবারই কথা।” সূরা বনী ইসরাঈল/৮০-৮১।


﴿ وَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِىۡ لَمۡ يَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ شَرِيۡكٌ فِىۡ الۡمُلۡكِ وَلَمۡ يَكُنۡ لَّهٗ وَلِىٌّ مِّنَ الذُّلِّ‌ؕ وَكَبِّرۡهُ تَكۡبِيۡرًا‏﴾


আর বলো, সেই আল্লাহর প্রশংসা, যিনি কোন পুত্রও গ্রহণ করেননি। তাঁর বাদশাহীতে কেউ শরীকও হয়নি এবং তিনি এমন অক্ষমও নন যে, কেউ তাঁর সাহায্যকারী ও নির্ভর হবে। আর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করো, চূড়ান্ত পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব। সূরা বনী ইসরাঈল/১১১।
 
প্রার্থনার সময়ঃ
(জীবনের সকল স্তরে) প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে নিয়ে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত এবং ফজরে কুরআন পড়ারও ব্যবস্থা করো। কারণ ফজরের কুরআন পাঠ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।  আর একে (কোরআন) নিয়ে রাত্রি জাগরণ কর। এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত। অচিরেই তোমার রব তোমাকে “প্রশংসিত স্থানে” প্রতিষ্ঠিত করবেন। সূরা বনী ইসরাঈল/৭৮-৭৯।

প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে শুধু আল্লাহর স্মরনের জন্যঃ
আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই, কাজেই তুমি আমার গোলামী করো এবং আমাকে স্মরণ করার জন্য (জীবনের সকল স্তরে) প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো। সূরা ত্বহা/১৪।

১৮০. জামাতে নামাজ (সমবেত প্রার্থনা)

(জীবনের সকল স্তরে) প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো, পরিশুদ্ধির জন্য দান করো এবং যারা আমার সামনে অবনত হচ্ছে তাদের সাথে তোমরাও অবনত হও। 
সূরা আল বাকারাহ/৪৩।
জামাতে নামাজ ফরজ হওয়ার প্রমান হিসেবে এই আয়াতটিকে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু একই রকম আদেশ আল্লাহ মারয়াম (আঃ) কে দিয়েছিলেন। আল্লাহ বলেন,
হে মারয়াম! তোমার রবের আদেশের অনুগত হয়ে থাকো। তাঁর সামনে সিজদাবনত হও এবং যেসব বান্দা তাঁর সামনে অবনত হয় তুমিও তাদের সাথে অবনত হও।” 
সূরা আলে ইমরান/৪৩।

১৭৯. যাকাত কত পার্সেন্ট???


হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা সাধারণ নারীদের মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে অসন্তুষ্টিকে ভয় করে থাকো, তাহলে মিহি স্বরে কথা বলো না, যাতে মনের গলদে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে, বরং পরিষ্কার সোজা ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলো। নিজেদের গৃহ মধ্যে অবস্থান করো। এবং পূর্বের জাহেলী যুগের মতো সাজসজ্জা দেখিয়ে বেড়িও না। (জীবনের সকল স্তরে) প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহ‌ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো। আল্লাহ‌ তো চান, তোমাদের নবী পরিবার থেকে ময়লা দূর করতে এবং তোমাদের পুরোপুরি পাক-পবিত্র করে দিতে। সূরা আল আহযাব/৩২-৩৩।
আল্লাহ নবীর স্ত্রীগণকে যাকাত দেয়ার নির্দেশ দিলেন এই আয়াতে। আল্লাহ কি জানতেন না নবীর ঘরে কোনো ধন-সম্পদ জমা থাকে না? (নাউজুবিল্লাহ)। যাকাত বলতে যদি সেই ২.৫% দেওয়া বুঝায় তাহলেতো এই আয়াত মিলে না। আসলে যাকাত দেওয়া বলতে আল্লাহ কি বুঝাতে চেয়েছেন? এখানে বলা হয়েছে 'আতিনা আয যাকাত'। 'আতিনা' শব্দের অর্থ তোমরা দাও। 'আয যাকাত' শব্দের অর্থ পবিত্রতা, পরিশুদ্ধি, বৃদ্ধিকরন। তাহলে অর্থ দাঁড়ায় তোমরা নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য দান করো। যখন যতটুকু সাধ্য থাকে ততটুকুই দান করো। আল্লাহ বলেন,
"তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছেঃ আমরা আল্লাহর পথে কি ব্যয় করবো? বলে দাওঃ যা কিছু তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়।" সূরা বাকারা/২২০।
দানের ব্যাপারে ভারসাম্য রক্ষা করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন,  
"নিজের হাত গলায় বেঁধে রেখো না এবং তাকে একেবারে খোলাও ছেড়ে দিয়ো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও অক্ষম হয়ে যাবে।" সূরা বনী ইসরাঈল/২৯।

যাকাতের খাতগুলো হচ্ছে,
এ সাদকা গুলো তো আসলে ফকীর, মিসকীনদের জন্য। আর যারা সাদকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত এবং যাদের জন্য মন জয় করা প্রয়োজন তাদের জন্য। তাছাড়া দাস মুক্ত করার, ঋণগ্রস্তদের সাহায্য করার, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের উপকারে ব্যয় করার জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষে থেকে একটি বিধান এবং আল্লাহর সবকিছু জানেন, তিনি বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ। সূরা আত তওবা/৬০।
(এগুলো আমার নিজের বুঝ। কোরআন পড়ে আমি যা বুঝেছি তাই লিখলাম। দয়া করে কেউ বিতর্ক করবেন না।)

Monday, May 26, 2014

১৭৮. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ছাড়া কেউ মুক্তি পাবে না

লোকেরা কি মনে করে রেখেছে,
“আমরা বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপন করেছি”
কেবলমাত্র একথাটুকু বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে,
আর পরীক্ষা করা হবে না?
অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের সবাইকে পরীক্ষা করে নিয়েছি
আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন কে সত্যবাদী এবং কে মিথ্যুক।
সূরা আল আনকাবুত/২-৩।

তোমরা কি মনে করে রেখেছো 
তোমরা এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে? 
অথচ এখনো আল্লাহ‌ দেখেনইনি, 
তোমাদের মধ্যে কে তাঁর পথে 
প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালায় এবং দৃড় অবিচল থাকে।
(সূরা আলে ইমরানঃ ১৪২)

আমি তোমাদের কে অবশ্যই পরীক্ষা করবো 
যাতে আমি তোমাদের অবস্থা যাচাই করে দেখে নিতে পারি যে, 
তোমাদের মধ্যে কে তাঁর পথে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়
এবং কে দৃড় অবিচল থাকে। 
(সূরা মুহাম্মদঃ ৩১)

Sunday, May 25, 2014

১৭৭. সময় গননা

 লোকেরা তোমাকে চাঁদ ছোট বড়ো হওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে। বলে দাওঃ এটা হচ্ছে লোকদের জন্য তারিখ নির্ণয় ও হজ্জ্বের আলামত তাদেরকে আরো বলে দাওঃ তোমাদের পেছন দিক দিয়ে গৃহে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী নেই। আসলে পূণ্য রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার মধ্যেই, কাজেই তোমরা দরজা পথেই নিজেদের গৃহে প্রবেশ করো। তবে আল্লাহর অসন্তোষ থেকে বেঁচে থাক, হয়তো তোমরা সাফল্য লাভে সক্ষম হবে। সূরা আল বাকারাহ/১৮৯।

আসলে যখন আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই আল্লাহর লিখন ও গণনায় মাসের সংখ্যা বারো চলে আসছে৷ এর মধ্যে চারটি হারাম মাস৷ এটিই সঠিক বিধান৷ কাজেই এ চার মাসের নিজেদের ওপর জুলুম করো না ৷ আর মুশরিকদের সাথে সবাই মিলে লড়াই করো যেমন তারা সবাই মিলে তোমাদের সাথে লড়াই করে৷ এবং জেনে রাখো আল্লাহ মুক্তাকীদের সাথেই আছেন৷  সূরা আত তওবা/৩৬।

তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিশালী ও চন্দ্রকে আলোকময় এবং তার মঞ্জিলও ঠিকমত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন যাতে তোমরা তার সাহায্যে বছর গণনা ও তারিখ হিসেব করতে পারো। আল্লাহ‌ এসব কিছু (খেলাচ্ছলে নয় বরং) উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিজের নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে পেশ করেছেন যারা জ্ঞানবান তাদের জন্য। সূরা ইউনূস/৫।

Thursday, May 22, 2014

১৭৬. মজলুমরা ক্ষমতাসীন হবে এবং জালেমদের ধ্বংস করে দেয়া হবে মজলুমদেরই মাধ্যমে। এটাই আল্লাহর সুন্নত।

আমি সংকল্প করেছিলাম, যাদেরকে পৃথিবীতে লাঞ্ছিত করে রাখা হয়েছিল তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবো, তাদেরকে নেতৃত্ব দান করবো, তাদেরকেই উত্তরাধিকারী করবো,  পৃথিবীতে তাদেরকে কর্তৃত্ব দান করবো। এবং তাদের থেকে ফেরাউন, হামান ও তার সৈন্যদেরকে সে সবকিছুই দেখিয়ে দেবো, যার আশঙ্কা তারা করতো। সূরা আল কাসাস/৫-৬।

১৭৫. শয়তানের গল্প

সূরা আস সাদ
৬৭) এদেরকে বলো, “এটি একটি মহাসংবাদ
৬৮) যা শুনে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও৷”
৬৯) (এদেরকে বলো) “উর্ধলোকে যখন বিতর্ক হচ্ছিল সে সময়ের কোন জ্ঞান আমার ছিল না৷
৭০) আমাকে তো অহীর মাধ্যমে একথাগুলো এ জন্য জানিয়ে দেয়া হয় যে আমি সুস্পষ্ট সতর্ককারী৷”
৭১) যখন তোমার রব ফেরশ্‌তাদেরকে বললো, “আমি মাটি দিয়ে একটি মানুষ তৈরি করবো৷ 
৭২) তারপর যখন আমি তাকে পুরোপুরি তৈরি করে ফেলবো এবং তার মধ্যে নিজের রূহ ফুঁকে দেবো তখন তোমরা তার সামনে সিজদানত হয়ে যেয়ো৷”
৭৩) এ হুকুম অনুযায়ী ফেরেশ্‌তারা সবাই সিজদানত হয়ে গেলো,
৭৪) কিন্তু ইবলিস নিজে শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার করলো এবং সে কাফেরদের অন্তরভুক্ত হয়ে গেলো৷
৭৫) রব বললেন, “ হে ইবলিস! আমি আমার দু’হাত দিয়ে যাকে তৈরি করেছি তাকে সিজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছে? তুমি কি বড়াই করছো, না তুমি কিছু উচ্চ মর্যাদার অধিকারী?”
৭৬) সে জবাব দিল, “আমি তার তুলনায় শ্রেষ্ঠ, তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আগুন থেকে এবং তাকে মাটি থেকে৷”
৭৭) বললেন, “ঠিক আছে, তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, তুমি বিতাড়িত
৭৮) এবং প্রতিদান দিবস পর্যন্ত তোমার প্রতি আমার লানত৷”
৭৯) সে বললো, “ হে আমার রব! একথাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে এদেরকে যখন পুনরায় উঠানো হবে সে সময় পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও৷”
৮০) বললেন, ঠিক আছে, তোমাকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেয়া হলো
৮১) যার সময় আমি জানি৷”
৮২) সে বললো, “তোমার ইজ্জতের কসম, আমি এদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করবোই,
৮৩) তবে একমাত্র যাদেরকে তুমি একনিষ্ঠ করে নিয়েছো তাদেরকে ছাড়া৷” বললেন,
৮৪) “তাহলে এটিই সত্য এবং আমি সত্যই বলে থাকি যে,
৮৫) আমি তোমাকে এবং এসব লোকদের মধ্য থেকে যারা তোমার আনুগত্য করবে তাদের সবাইকে দিয়ে জাহান্নাম ভরে দেবো৷”

সূরা হিজর
২৬) আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি শুকনো ঠন্‌ঠনে পচা মাটি থেকে৷
২৭) আর এর আগে জিনদের সৃষ্টি করেছি আগুনের শিখা থেকে৷
২৮) তারপর তখনকার কথা স্মরণ করো যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, আমি শুকনো ঠন্‌ঠনে পচা মাটি থেকে একটি মানুষ সৃষ্টি করছি৷
২৯) যখন আমি তাকে পূর্ণ অবয়ব দান করবো এবং তার মধ্যে আমার রূহ থেকে কিছু ফুঁক দেবো৷ তখন তোমরা সবাই তার সামনে সিজদাবনত হয়ো৷
৩০) সেমতে সকল ফেরেশতা একযোগে তাকে সিজদা করলো,
৩১) ইবলীস ছাড়া, কারণ সে সিজদাকারীদের অন্তরভুক্ত হতে অস্বীকার করলো৷
৩২) আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, “হে ইবলীস ! তোমার কি হলো, তুমি সিজদাকারীদের অন্তরভুক্ত হলে না ?”
৩৩) সে জবাব দিল, “এমন একটি মানুষকে সিজদা করা আমার মনোপূত নয় যাকে তুমি শুকনো ঠন্‌ঠনে পচা মাটি থেকে সৃষ্টি করেছো৷”
৩৪) আল্লাহ বললেন, “তবে তুমি বের হয়ে যাও এখান থেকে, কেননা তুমি ধিকৃত৷
৩৫) আর এখন কর্মফল দিবস পর্যন্ত তোমার ওপর অভিসম্পাত !
৩৬) সে আরয করলো, হে আমার রব ! যদি তাই হয়, তাহলে সেই দিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও যেদিন সকল মানুষকে পুনর্বার উঠানো হবে৷
৩৭) বললেন, “ঠিক আছে, তোমাকে অবকাশ দেয়া হলো৷
৩৮) সেদিন পর্যন্ত যার সময় আমার জানা আছে৷
৩৯) সে বললো, “হে আমার রব! তুমি যেমন আমাকে বিপথগামী করলে ঠিক তেমনিভাবে আমি পৃথিবীতে এদের জন্য প্রলোভন সৃষ্টি করে এদের সবাইকে বিপথগামী করবো
৪০) তবে এদের মধ্য থেকে তোমার যেসব বান্দাকে তুমি নিজের জন্য নির্বাচিত করে নিয়েছো তাদের ছাড়া৷
৪১) বললেন, এটিই আমার নিকট পৌঁছুবার সোজা পথ৷ 
৪২) অবশ্যি যারা আমার প্রকৃত বান্দা হবে তাদের ওপর তোমার কোনো জোর খাটবে না৷ তোমার জোর খাটবে শুধুমাত্র এমন বিপথগামীদের ওপর যারা তোমার অনুসরণ করবে
৪৩) এবং তাদের সবার জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তির অংগীকার৷

সূরা বনী ইসরাঈল
৬১) আর স্মরণ করো, যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা করো, তখন সবাই সিজদা করলো কিন্তু ইবলীস করলো না৷ সে বললো, “আমি কি তাকে সিজদা করবো যাকে তুমি বানিয়েছো মাটি দিয়ে ?
৬২) তারপর সে বললো, দেখোতো ভালো করে, তুমি যে একে আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছো, এ কি এর যোগ্য ছিল ? যদি তুমি আমাকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত অবকাশ দাও তাহলে আমি তার সমস্ত সন্তান সন্ততির মূলোচ্ছেদ করে দেবো, মাত্র সামান্য কজনই আমার হাত থেকে নিস্তার পাবে৷
৬৩) আল্লাহ বললেন, ঠিক আছে, তুমি যাও, এদের মধ্য থেকে যারাই তোমার অনুসরণ করবে তুমিসহ তাদের সবার জন্য জাহান্নামই হবে পূর্ণ প্রতিদান৷
৬৪) তুমি যাকে যাকে পারো তোমার দাওয়াতের মাধ্যমে পদস্খলিত করো, তাদের ওপর অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীর আক্রমণ চালাও, ধন-সম্পদে ও সন্তান-সন্ততিতে তাদের সাথে শরীক হয়ে যাও  এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতির জালে আটকে ফেলো, আর শয়তানের প্রতিশ্রুতি ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়,
৬৫) নিশ্চিতভাবেই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব অর্জিত হবে না এবং ভরসা করার জন্য তোমার রবই যথেষ্ট৷

সূরা কাহফ
৫০.) স্মরণ করো যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম আদমকে সিজদা করো তখন তারা সিজদা করেছিল কিন্তু ইবলীস করেনি। সে ছিল জিনদের একজন, তাই তার রবের হুকুমের আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেলো। এখন কি তোমরা আমাকে বাদ দিয়ে তাকে এবং তার বংশধরদেরকে নিজেদের অভিভাবক বানিয়ে নিচ্ছো অথচ তারা তোমাদের দুশমন? বড়ই খারাপ বিনিময় জালেমরা গ্রহণ করছে!
৫১.) আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করার সময় আমি তাদেরকে ডাকিনি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টিতেও তাদেরকে শরীক করিনি। পথভ্রষ্টকারীদেরকে নিজের সাহায্যকারী করা আমার রীতি নয়। 

সূরা আলা আরাফ
 ১১.) আমি তোমাদের সৃষ্টির সূচনা করলাম তারপর তোমাদের আকৃতি দান করলাম অতঃপর ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা করো। এ নির্দেশ অনুযায়ী সবাই সিজদা করলো। কিন্তু ইবলীস সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো না। 
১২.) আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, “আমি যখন তোকে হুকুম দিয়েছিলাম তখন সিজদা করতে তোকে বাধা দিয়েছিল কিসে?” সে জবাব দিলঃ “আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ। আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছো এবং ওকে সৃষ্টি করেছো মাটি থেকে।”
১৩.) তিনি বললেনঃ “ঠিক আছে, তুই এখান থেকে নীচে নেমে যা। এখানে অহংকার করার অধিকার তোর নেই। বের হয়ে যা। আসলে তুই এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত, যারা নিজেরাই নিজেদেরকে লাঞ্ছিত করতে চায়।”
 ১৪.) সে বললঃ “আমাকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দাও যখন এদের সবাইকে পুনর্বার ওঠানো হবে।” 
 ১৫.) তিনি বললেনঃ “তোকে অবকাশ দেয়া হলো।” 
 ১৬.) সে বললোঃ “তুমি যেমন আমাকে গোমরাহীতে নিক্ষেপ করেছো তেমনি আমিও এখন তোমার সরল-সত্য পথে এ লোকদের জন্য ওঁত পেতে বসে থাকবো,

১৭.) সামনে-পেছনে, ডানে-বায়ে, সবদিক থেকে এদেরকে ঘিরে ধরবো এবং এদের অধিকাংশকে তুমি শোকর গুজার পাবে না।” 

১৮.) আল্লাহ বললেনঃ “বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও ধিকৃত অবস্থায়। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখিস, এদের মধ্য থেকে যারাই তোর অনুসরণ করবে তাদেরকে এবং তোকে দিয়ে আমি জাহান্নাম ভরে দেবো।
১৯.) আর হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী তোমরা দু'জনাই এ জান্নাতে থাকো। যেখানে যা তোমাদের ইচ্ছা হয় খাও, কিন্তু এ গাছটির কাছে যেয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।”  
২০.) তারপর তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের পরস্পর থেকে গোপন রাখা হয়েছিল, তাদের সামনে উন্মুক্ত করে দেবার জন্য শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল। সে তাদেরকে বললোঃ “তোমাদের রব যে, তোমাদের এ গাছটির কাছে যেতে নিষেধ করেছেন তার পেছনে এছাড়া আর কোন কারণই নেই যে, পাছে তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাও অথবা তোমরা চিরন্তন জীবনের অধিকারী হয়ে পড়ো।” 
২১.) আর সে কসম খেয়ে তাদেরকে বললো, আমি তোমাদের যথার্থ কল্যাণকামী। 
২২.) এভাবে প্রতারণা করে সে তাদের দু'জনকে ধীরে ধীরে নিজের পথে নিয়ে এলো। অবশেষে যখন তারা সেই গাছের ফল আস্বাদন করলো, তাদের লজ্জা স্থান পরস্পরের সামনে খুলে গেলো এবং তারা নিজেদের শরীর ঢাকতে লাগলো জান্নাতের পাতা দিয়ে। তখন তাদের রব তাদেরকে ডেকে বললোঃ “আমি কি তোমাদের এ গাছটির কাছে যেতে নিষেধ করিনি এবং তোমাদের বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?”

২৩.) তারা দু'জন বলে উঠলোঃ “হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। এখন যদি তুমি আমাদের ক্ষমা না করো এবং আমাদের প্রতি রহম না করো, তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো।”
২৪.) তিনি বললেনঃ “নেমে যাও, তোমরা পরস্পরের শত্রু এবং তোমাদের জন্য একটি বিশেষ সময় পর্যন্ত পৃথিবীতেই রয়েছে বসবাসের জায়গা ও জীবন যাপনের উপকরণ।”

২৫.) আর বললেনঃ “সেখানেই তোমাদের জীবনযাপন করতে এবং সেখানেই মরতে হবে এবং সেখান থেকেই তোমাদের সবশেষে আবার বের করে আনা হবে।”

সূরা ত্বহাঃ     
১১৫.) আমি এর আগে আদমকে একটি হুকুম দিয়েছিলাম কিন্তু সে ভুলে গিয়েছে এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ় সংকল্প পাইনি।
১১৬.) স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, আদমকে সিজদা করো, তারা সবাই সিজদা করলো কিন্তু একমাত্র ইবলীস অস্বীকার করে বসলো।  
১১৭.) এ ঘটনায় আমি আদমকে বললাম, “দেখো, এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, এমন যেন না হয় যে, এ তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দেয় এবং তোমরা বিপদে পড়ে যাও। 
১১৮.) এখানে তো তুমি এ সুবিধে পাচ্ছো যে, তুমি না অভুক্ত ও উলংগ থাকছো 
১১৯.) এবং না পিপাসার্ত ও রৌদ্রক্লান্ত হচ্ছো।”
১২০.) কিন্তু শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, বলতে থাকলো, “হে আদম! তোমাকে কি এমন গাছের কথা বলে দেবো যা থেকে অনন্ত জীবন ও অক্ষয় রাজ্য লাভ করা যায়?”
১২১.) শেষ পর্যন্ত দু’জন (স্বামী-স্ত্রী) সে গাছের ফল খেয়ে বসলো। ফলে তখনই তাদের লজ্জাস্থান পরস্পরের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং দু’জনাই জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেকে ঢাকতে লাগলো। আদম নিজের রবের নাফরমানী করলো এবং সে সঠিক পথ থেকে সরে গেল।
১২২.) তারপর তার রব তাকে নির্বাচিত করলেন, তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে পথ নির্দেশনা দান করলেন।
১২৩.) আর বললেন, “তোমরা (উভয় পক্ষ অর্থাৎ মানুষ ও শয়তান) এখান থেকে নেমে যাও, তোমরা পরস্পরের শত্রু থাকবে। এখন যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোন নির্দেশনামা পৌঁছে যায় তাহলে যে ব্যক্তি আমার সেই নির্দেশ মেনে চলবে সে বিভ্রান্তও হবে না, দুর্ভাগ্য পীড়িতও হবে না।
১২৪.) আর যে ব্যক্তি আমার “যিকির” (উপদেশমালা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জন্য হবে দুনিয়ায় সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে উঠাবো অন্ধ করে।”
১২৫.) -সে বলবে, “হে আমার রব! দুনিয়ায় তো আমি চক্ষুষ্মান ছিলাম কিন্তু এখানে আমাকে অন্ধ করে উঠালে কেন?”
১২৬.) আল্লাহ বলবেন, “হ্যাঁ, এভাবেই তো। আমার আয়াত যখন তোমার কাছে এসেছিল, তুমি তাকে ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবেই আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হচ্ছে।”
১২৭.) -এভাবেই আমি সীমালঙ্ঘনকারী এবং নিজের রবের আয়াত অমান্যকারীকে (দুনিয়ায়) প্রতিফল দিয়ে থাকি এবং আখেরাতের আযাব বেশী কঠিন এবং বেশীক্ষণ স্থায়ী।            

সূরা বাকারা
 ৩০) আবার সেই সময়ের কথা একটু স্মরণ কর যখন তোমাদের রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন , “আমি পৃথিবীতে একজন খলীফা- প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে চাই ৷” তারা বললো , “আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে নিযুক্ত করতে চান যে সেখানকার ব্যবস্থাপনাকে বিপর্যস্থ করবে এবং রক্তপাত করবে? আপনার প্রশংসা ও স্তুতিসহকারে তাসবীহ পাঠ এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা তো আমরা করেই যাচ্ছি৷ ” আল্লাহ বললেন, “আমি জানি যা তোমরা জানো না ৷ ” 
৩১) অতপর আল্লাহ আদমকে সমস্ত জিনিসের নাম শেখালেন   তারপর সেগুলো পেশ করলেন ফেরেশতাদের সামনে এবং বললেন , “যদি তোমাদের ধারণা সঠিক হয় (অর্থাৎ কোন প্রতিনিধি নিযুক্ত করলে ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত হবে ) তাহলে একটু বলতো দেখি এই জিনিসগুলোর নাম? ”
৩২) তারা বললোঃ “ত্রুটিমুক্ত তো একমাত্র আপনারই সত্তা, আমরা তো মাত্র ততটুকু জ্ঞান রাখি ততটুকু আপনি আমাদের দিয়েছেন ৷ প্রকৃতপক্ষে আপনি ছাড়া আর এমন কোন সত্তা নেই যিনি সবকিছু জানেন ও সবকিছু বোঝেন ৷”
৩৩) তখন আল্লাহ আদমকে বললেন, “তুমি ওদেরকে এই জিনিসগুলোর নাম বলে দাও ৷”যখন সে তাদেরকে সেসবের নাম জানিয়ে দিল তখন আল্লাহ বললেনঃ “আমি না তোমাদের বলেছিলাম , আমি আকাশ ও পৃথিবীর এমন সমস্ত নিগূঢ় তত্ত্ব জানি যা তোমাদের অগোচরে রয়ে গেছে ? যা কিছু তোমরা প্রকাশ করে থাকো তা আমি জানি এবং যা কিছু তোমরা গোপন করো তাও আমি জানি ৷”
৩৪) তারপর যখন ফেরেশতাদের হুকুম দিলাম , আদমের সামনে নত হও, তখন সবাই অবনত হলো, কিন্তু ইবলিস অস্বীকার করলো ৷ সে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে মেতে উঠলো এবং নাফরমানদের অন্তরভুক্ত হলো ৷
৩৫) তখন আমরা আদমকে বললাম , “তুমি ও তোমার স্ত্রী উভয়েই জান্নাতে থাকো এবং এখানে স্বাচ্ছন্দের সাথে ইচ্ছে মতো খেতে থাকো, তবে এই গাছটির কাছে যেয়ো না ৷  অন্যথায় তোমরা দু’জন যালেমদের অন্তরভুক্ত হয়ে যাবে ৷ ”
৩৬) শেষ পর্যন্ত শয়তান তাদেরকে সেই গাছটির লোভ দেখিয়ে আমার হুকুমের আনুগত্য থেকে সরিয়ে দিল এবং যে অবস্থার মধ্যে তারা ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে ছাড়লো ৷ আমি আদেশ করলাম, “ এখন তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও ৷ তোমরা একে অপরের শত্রু৷ তোমাদের একটি নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে অবস্থান করতে ও জীবন অতিবাহিত করতে হবে ৷ ”
৩৭) তখন আদম তার রবের কাছ থেকে কয়েকটি বাক্য শিখে নিয়ে তাওবা করলো ৷ তার রব তার এই তাওবা কবুল করে নিলেন ৷ কারণ তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী ৷
৩৮) আমরা বললাম , “ তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও ৷ এরপর যখন আমার পক্ষ থেকে কোন হিদায়াত তোমাদের কাছে পৌছুবে তখন যারা আমার সেই হিদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের জন্য থাকবে না কোন ভয় দুঃখ বেদনা ৷
৩৯) আর যারা একে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে এবং আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেবে তারা হবে আগুনের মধ্যে প্রবেশকারী ৷ সেখানে তারা থাকবে চিরকাল ৷

১৭৪. কোনো জাতিকে গোলাম বানাবার চিরাচরিত কৌশল যা ফেরাউন করেছিল-

প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, ফেরাউন পৃথিবীতে বিদ্রোহ করে এবং তার অধিবাসীদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেয়। তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে সে লাঞ্ছিত করতো, তাদের ছেলেদের হত্যা করতো এবং মেয়েদের জীবিত রাখতো। আসলে সে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সূরা আল কাসাস/৪।

Wednesday, May 7, 2014

১৭৩. সালাতে করণীয়

এদেরকে বলে দাও, আল্লাহ‌ বা রহমান যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য সবই ভাল নাম। আর নিজের সালাত খুব বেশী উচ্চ কণ্ঠেও পড়বে না, বেশী ক্ষীণ কণ্ঠেও না, বরং এ দু’য়ের মাঝামাঝি মধ্যম পর্যায়ের কণ্ঠস্বর অবলম্বন করবে।  আর বলো, সেই আল্লাহর প্রশংসা, যিনি কোন পুত্রও গ্রহণ করেননি। তাঁর বাদশাহীতে কেউ শরীকও হয়নি এবং তিনি এমন অক্ষমও নন যে, কেউ তাঁর সাহায্যকারী ও নির্ভর হবে।” আর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করো, চূড়ান্ত পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব। সূরা বনী ইসরাঈল/১১০-১১১।

১৭২. কুরআন বিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য

আর এ কুরআনকে আমি সামান্য সামান্য করে নাযিল করেছি, যাতে তুমি থেমে থেমে তা লোকদেরকে শুনিয়ে দাও এবং তাকে আমি (বিভিন্ন সময়) পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছি। এদেরকে বলে দাও, তোমরা একে মানো বা না মানো, যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেয়া হয়েছে তাদেরকে যখন এটা শুনানো হয় তখন তারা আনত মস্তকে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং বলে ওঠে, “পাক-পবিত্র আমাদের রব, আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি তো পূর্ণ হয়েই থাকে।”  এবং তারা নত মুখে কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা শুনে তাদের দীনতা আরো বেড়ে যায়। সূরা বনী ইসরাঈল/১০৬-১০৯।

১৭১. ওসীলা খোজা


এরা যাদেরকে ডাকে তারা তো নিজেরাই নিজেদের রবের নৈকট্য লাভের ওসীলা খুঁজে বেড়াচ্ছে যে, কে তাঁর নিকটতর হয়ে যাবে এবং এরা তাঁর রহমতের প্রত্যাশী এবং তাঁর শাস্তির ভয়ে ভীত। আসলে তোমার রবের শাস্তি ভয় করার মতো। সূরা বনী ইসরাঈল/৫৭।

Saturday, May 3, 2014

১৬৯. একমাত্র কিতাব

এক একটি সময়ের জন্য এক একটি কিতাব রয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (দঃ) থেকে শুরু করে কেয়ামত পর্যন্ত একমাত্র কিতাব 'আল কোরয়ান'।

 তোমার আগেও আমি অনেক রসূল পাঠিয়েছি এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান সন্ততি দিয়েছি। আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া নিজেই কোন নিদর্শন এনে দেখাবার শক্তি কোন রসূলেরও ছিল না। প্রত্যেক সময়ের জন্য একটি কিতাব রয়েছে। সূরা আর রাদ/৩৮।

১৬৮. আল্লাহর ওহী ছাড়া কোনো কিছু হারাম করা যাবে না

এদেরকে বলে দাও, যে ওহী আমার কাছে এসেছে তার মধ্যে তো আমি এমন কিছু পাই না যা খাওয়া কারো ওপর হারাম হতে পারে,
তবে মরা, বহমান রক্ত বা শুয়োরের গোশ্‌ত ছাড়া। কারণ তা নাপাক। অথবা যদি অবৈধ হয় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর নামে যবেহ করার কারণে। তবে অক্ষম অবস্থায় যে ব্যক্তি (তার মধ্য থেকে কোন জিনিস খেয়ে নেবে) নাফরমানীর ইচ্ছা না করে এবং প্রয়োজনের সীমা না পেরিয়ে, সেক্ষেত্রে অবশ্যি তোমার রব ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী। সূরা আল আন'আম/১৪৫।

তাদেরকে বলে দাও, আল্লাহ‌ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব সৌন্দর্য সামগ্রী সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো কে হারাম করেছে? আর আল্লাহর দেয়া পবিত্র জিনিসগুলো কে নিষিদ্ধ করেছে? বলো, দুনিয়ার জীবনেও এ সমস্ত জিনিস ঈমানদারদের জন্য, আর কিয়ামতের দিনে এগুলো তো একান্তভাবে তাদেরই জন্য হবে। এভাবে যারা জ্ঞানের অধিকারী তাদের জন্য আমার কথাগুলো আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বর্ণনা করে থাকি।  সূরা আল আরাফ/৩২।

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ‌ তোমাদের জন্য যেসব পবিত্র জিনিস হালাল করেছেন সেগুলো হারাম করে নিয়ো না। আর সীমালংঘন করো না। সীমা-লংঘনকরীদেরকে আল্লাহ‌ ভীষণভাবে অপছন্দ করেন। সূরা আল মায়েদাহ/৮৭।

তাদেরকে বলো, তোমরা কি কখনো একথাও চিন্তা করেছো যে আল্লাহ‌ তোমাদের জন্য যে রিযিক অবতীর্ণ করেছিলেন তার মধ্য থেকে তোমরা নিজেরাই কোনটাকে হারাম ও কোনটাকে হালাল করে নিয়েছো? তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, আল্লাহ‌ কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন? নাকি তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করছো? সূরা ইউনূস/৫৯।

আর এই যে, তোমাদের কণ্ঠ ভুয়া হুকুম জারী করে বলতে থাকে এটি হালাল এবং ওটি হারাম, এভাবে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তারা কখনোই সফলকাম হবে না।  সূরা আন নাহল/১১৬।

হে নবী, আল্লাহ‌ যে জিনিস হালাল করেছেন তা তুমি হারাম করছো কেন? (তা কি এজন্য যে, ) তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাও? আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়ালু। সূরা আত তাহরীম/১। 

Friday, May 2, 2014

১৬৭. আলেম

 এদের উলামা ও মাশায়েখগণ কেন এদেরকে পাপ কথা বলতে ও হারাম খেতে বাধা দেয় না? অবশ্যি এরা যা করে যাচ্ছে তা অত্যন্ত জঘন্য কার্যক্রম। সূরা আল মায়েদা/৬৩।

১৬৬. আলেম দরবেশদের খোদা বানানো


তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের উলামা ও দরবেশদেরকে নিজেদের খোদায় পরিণত করেছে। এবং এভাবে মারিয়াম পুত্র মসীহকেও। অথচ তাদের মা’বুদ ছাড়া আর কারোর বন্দেগী করার হুকুম দেয়া হয়নি, এমন এক মাবুদ যিনি ছাড়া ইবাদত লাভের যোগ্যতা সম্পন্ন আর কেউ নেই। তারা যেসব মুশরিকী কথা বলে তা থেকে তিনি পাক পবিত্র। সূরা তওবা/৩১।

তাফহীমুল কোরয়ানের ব্যাখ্যাঃ

হাদীসে বলা হয়েছে হযরত আদী ইবনে হাতেম নবী (সা.) এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন খৃস্টান। ইসলাম গ্রহণ করার সময় তিনি নবী (সা.) কে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন হচ্ছে, কুরআনের এ আয়াতটিতে আমাদের বিরুদ্ধে উলামা ও দরবেশদেরকে খোদা বানিয়ে নেবার যে দোষারূপ করা হয়েছে তার প্রকৃত তাৎপর্য কি? জবাবে তিনি বলেন, তারা যেগুলোকে হারাম বলতো তোমরা সেগুলোকে হারাম বলে মেনে নিতে এবং তারা যেগুলোকে হালাল বলতো তোমরা সেগুলোকে হালাল বলে মেনে নিতে, একথা কি সত্য নয়? জবাবে হযরত আদী বলেন, হাঁ, একথা তো ঠিক, আমরা অবশ্য এমনটি করতাম। রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, বস, এটিই তো হচ্ছে তোমাদের প্রভু বানিয়ে নেয়া। এ থেকে জানা যায়, আল্লাহর কিতাবের সনদ ছাড়াই যারা মানব জীবনের জন্য জায়েয ও নাজায়েযের সীমানা নির্ধারণ করে তারা আসলে নিজেদের ধারণা মতে নিজেরাই আল্লাহর কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদায় সমাসীন হয়। আর যারা শরীয়াতের বিধি রচনার এ অধিকার তাদের জন্য স্বীকার করে নেয় তারা তাদেরকে কার্যত প্রভুতে পরিণত করে।
কাউকে আল্লাহর পুত্রে পরিণত করা এবং কাউকে শরীয়ত রচনার অধিকার দেয়া সংক্রান্ত অভিযোগ দু’টি পেশ করে প্রমাণ করা হয়েছে যে, তাদের আল্লাহর প্রতি ঈমানের দাবী মিথ্যা। তারা আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করলেও তাদের আল্লাহর সম্পর্কিত ধারণা এতই ভ্রান্ত যে, তার কারণে তাদের আল্লাহকে মানা, না মানা সমান হয়ে গেছে।

Wednesday, April 30, 2014

১৬৫. সবার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর

ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই যার রিযিকের (দুনিয়ায় বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী) দায়িত্ব আল্লাহর ওপর বর্তায় না এবং যার সম্পর্কে তিনি জানেন না, কোথায় সে থাকে এবং কোথায় তাকে সোপর্দ করা হয়। সবকিছুই একটি পরিষ্কার কিতাবে লেখা আছে। সূরা হুদ/৬।

Tuesday, April 29, 2014

১৬৪. মানুষের সুন্নত


মানুষের অবস্থা হচ্ছে, বিপদের পরে যখন আমি তাদের রহমতের স্বাদ ভোগ করতে দেই তখনই তারা আমার আয়াতের ব্যাপারে ধড়িবাজী শুরু করে দেয়। তাদেরকে বলো, আল্লাহ‌ তার চালাকিতে তোমাদের চেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন। তাঁর ফেরেশতারা তোমাদের সমস্ত চালাকী লিখে রাখছে।" তিনিই তোমাদের জলে-স্থলে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। কাজেই যখন তোমরা নৌকায় চড়ে অনুকূল বাতাসে আনন্দে সফর করতে থাকো, তারপর অকস্মাত বিরুদ্ধ বাতাস প্রবল হয়ে ওঠে, চারদিক থেকে ঢেউয়ের আঘাত লাগতে থাকে এবং আরোহীরা মনে করতে থাকে তারা তরঙ্গ বেষ্টিতে হয়ে গেছে তখন সবাই নিজের আনুগত্যকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে তার কাছে দোয়া করতে থাকে এবং বলতে থাকে, “যদি তুমি আমাদের এ বিপদ থেকে উদ্ধার করো তাহলে আমরা শোকরগুজার বান্দা হয়ে যাবো।” কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে বিপদমুক্ত করেন তখন তারাই সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পৃথিবীতে বিদ্রোহ করতে থাকে। হে মানুষ! তোমাদের এ বিদ্রোহ উল্টা তোমাদের বিরুদ্ধেই চলে যাচ্ছে। দুনিয়ার কয়েকদিনের আরাম আয়েশ (ভোগ করে নাও) , তারপর আমার দিকেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে। তোমরা কি কাজে লিপ্ত ছিলে তা তখন তোমাদের আমি জানিয়ে দেবো। সূরা ইউনূস/২১-২৩।

Monday, April 28, 2014

১৬৩. মুসল্লী কারা?

তবে যারা মুসল্লী। যারা তাদের সালাতে অটল থাকে। যাদের সম্পদে নির্দিষ্ট অধিকার আছে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের। যারা প্রতিফলের দিনটিকে সত্য বলে মানে। যারা তাদের লালন পালনকারীর শাস্তিকে ভয় করে। কারণ তাদের লালন পালনকারীর শাস্তি এমন বস্তু নয় যা সম্পর্কে নির্ভয় থাকা যায়। যারা নিজেদের লজ্জাস্থান নিজের স্ত্রী অথবা মালিকানাধীন স্ত্রীলোকদের ছাড়া অন্যদের থেকে হিফাযত করে। স্ত্রী ও মালিকানাধীন স্ত্রীলোকদের ক্ষেত্রে তারা তিরস্কৃত হবে না। তবে যারা এর বাইরে আর কেউকে চাইবে তারা সীমালংঘনকারী। যারা আমানত রক্ষা করে ও প্রতিশ্রুতি পালন করে। আর যারা সাক্ষ্য দানের ক্ষেত্রে সততার ওপর অটল থাকে। যারা নামাযের রক্ষনাবেক্ষণ করে। এসব লোক সম্মানের সাথে জান্নাতের বাগানসমূহে অবস্থান করবে। সূরা আল মা'আরিজ/২২-৩৫।

Friday, April 25, 2014

১৬২. আনন্দ

বলো, “এ জিনিসটি যে, তিনি পাঠিয়েছেন এটি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার মেহেরবানী। এ জন্য তো লোকদের আনন্দিত হওয়া উচিত। তারা যা কিছু জমা করছে সে সবের চেয়ে এটি অনেক ভাল।” সূরা ইউনূস/৫৮।

প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ‌ মুমিনদের থেকে তাদের প্রাণ ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং মারে ও মরে। তাদের প্রতি তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে(জান্নাতের ওয়াদা) আল্লাহর জিম্মায় একটি পাকাপোক্ত ওয়াদা বিশেষ। আর আল্লাহর চাইতে বেশী নিজের ওয়াদা পূরণকারী আর কে আছে? কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে যে কেনা-বেচা করছো সেজন্য আনন্দ করো। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য। সূরা তওবা/১১১।


যখন কোন নতুন সূরা নাযিল হয় তখন তাদের কেউ কেউ (ঠাট্টা করে মুসলমানদের) জিজ্ঞেস করে, বলো, এর ফলে তোমাদের কার ঈমান বেড়ে গেছে? (এর জবাব হচ্ছে) যারা ঈমান এনেছে (প্রত্যেকটি অবতীর্ণ সুরা) যথার্থই ঈমান বাড়িয়েই দিয়েছে এবং তারা এর ফলে আনন্দিত। সূরা তওবা/১২৪।

১৬১. তালাক

পবিত্র কোরআনে এক সাথে তিন তালাকের কোনো বিধানই নাই। এটা দীর্ঘ আর যুক্তিযুক্ত একটা প্রসেস। অথচ মোল্লারা এই একসাথে তিন তালাকের ব্যাপারটা জায়েয করে কত মেয়ের যে জীবন নষ্ট করেছে তার কোনো হিসাব নেই। তেমনি মোল্লারা যে ধরনের হিল্লার ব্যবস্থা করে এটা কোরআন অনুযায়ী সম্পূর্ন হারাম ও ব্যভিচার। কোরআনের নিয়ম অনুযায়ী তিন তালাক হয়ে যাবার পর চুক্তি মোতাবেক কারো সাথে বিয়ে দিয়ে তারপর তাকে ছাড়িয়ে এনে পুনরায় বিয়ে করা একটা ব্যভিচার। কারন ছেড়ে দেয়ার শর্তে যে বিয়ে হয় সেটা কোনো বিয়েই নয়। বিয়ে হতে হবে নিঃশর্ত। তারপর যদি কোনো কারনে তালাকপ্রাপ্তা মহিলার স্বামী মারা যায় বা তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তখন প্রথম স্বামীর জন্য ঐ স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে আনা বৈধ হবে। সূরা বাকারার ২২৬ থেকে ২৪২ দ্রষ্টব্য।

১৬০. কোরয়ানের কোনো আয়াতের ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহ পোষন করা যাবে না

এখন যদি তোমার সেই হিদায়াতের ব্যাপারে সমান্যও সন্দেহ থেকে থাকে যা আমি তোমার ওপর নাযিল করেছি তাহলে যারা আগে থেকেই কিতাব পড়ছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করে নাও। প্রকৃতপক্ষে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে এ কিতাব মহাসত্য হয়েই এসেছে। কাজেই তুমি সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না এবং যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা বলেছে তাদের মধ্যেও শামিল হয়ো না, তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত হবে। সূরা ইউনূস/৯৪-৯৫।

১৫৯. তরুনরাই ঈমান আনে

(তারপর দেখো) মুসাকে তার কওমের কতিপয় নওজোয়ান ছাড়া কেউ মেনে নেয়নি, ফেরাউনের ভয়ে এবং তাদের নিজেদেরই কওমের নেতৃস্থানীয় লোকদের ভয়ে। (তাদের আশঙ্কা ছিল) ফেরাউন তাদের ওপর নির্যাতন চালাবে। আর প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে এই যে, ফেরাউন দুনিয়ায় পরাক্রমশালী ছিল এবং সে এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা আল্লাহর সীমানা মানে না। সূরা ইউনূস/৮৩।

১৫৮. মৃত্যু কামনা করবে কারা?

কেউ যদি নিজেকে আল্লাহর প্রিয় বলে দাবী করে তবে সে অবশ্যই মৃত্যু কামনা করবে যাতে দ্রুত আল্লাহর সান্নিধ্যে যেতে পারেঃ

তুমি বল, হে ইহুদী হয়ে যাওয়া লোকগণ! তোমরা যদি ভেবে থাকো যে, অন্য সব মানুষ বাদ দিয়ে কেবল তোমরাই আল্লাহর প্রিয়পাত্র, আর তোমাদের এ ধারণার ক্ষেত্রে তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তাহলে মৃত্যু চেয়ে নাও। কিন্তু যেসব অপকর্ম তারা করেছে তার কারণে তারা কখনো মৃত্যু কামনা করবে না। আল্লাহ‌ এসব জালেমকে খুব ভালভাবেই জানেন। সূরা আল জুময়া/৬-৭।

১৫৭. আল্লাহর ফযল তালাশ করা

"তারপর যখন নামায শেষ হয়ে যায় তখন ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো এবং অধিক মাত্রায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে। সূরা আল জুময়া/১০।"

অনেকেই এই আয়াত দ্বারা আল্লাহর ফযল বলতে ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা এসব বুঝে থাকেন। কিন্তু আসলে কি তাই? না। বরং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফযল বলতে কুরয়ানুল কারীমকে বুঝিয়েছেন। সূরা ইউনূসের ৫৭ ও ৫৮ নং আয়াতে আছে,

হে লোকেরা! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নসীহত এসে গেছে। এটি এমন জিনিস যা অন্তরের রোগের নিরাময় এবং যে তা গ্রহণ করে নেয় তার জন্য পথনির্দেশনা ও রহমত। হে নবী! বলো, “এ জিনিসটি যে, তিনি পাঠিয়েছেন এটি আল্লাহর ফযল এবং তার মেহেরবানী। এ জন্য তো লোকদের আনন্দিত হওয়া উচিত। তারা যা কিছু জমা করছে সে সবের চেয়ে এটি অনেক ভাল।”

Thursday, April 24, 2014

১৫৬. রাসূল (দঃ) এর সময়ে সব মুনাফিকদের মুমিনরা চিনত না

তোমাদের আশেপাশে যেসব আরব থাকে তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক মুনাফিক। অনুরূপভাবে মদীনাবাসীদের মধ্যেও রয়েছে এমন কিছু মুনাফিক, যারা মুনাফিকীতে পাকাপোক্ত হয়ে গেছে। তোমরা তাদেরকে চিন না, আমি চিনি তাদেরকে। শীঘ্রই আমি তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দেবো। তারপর আরো বেশী বড় শাস্তির জন্য তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। সূরা তওবা/১০১।

১৫৫. আরবদের অবস্থা


আরবরা কুফরী ও মুনাফিকীতে বেশী কঠোর এবং আল্লাহ‌ তাঁর রসূলের প্রতি যে দ্বীন নাযিল করেছেন তার সীমারেখা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। আল্লাহ সবকিছু জানেন, তিনি জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়। এ আরবদের মধ্যে এমন এমন লোকও রয়েছে যারা আল্লাহর পথে কিছু ব্যয় করলে তাকে নিজেদের ওপর জোরপূর্বক চাপানো অর্থদণ্ড মনে করে এবং তোমাদের ব্যাপারে কালের আবর্তনের প্রতীক্ষা করছে (অর্থাৎ তোমরা কোন বিপদের মুখে পড়লে যে শাসন ব্যবস্থার আনুগত্যের শৃংখল তোমরা তাদের গলায় বেঁধে দিয়েছ তা তারা গলা থেকে নামিয়ে ফেলবে। ) অথচ মন্দের আবর্তন তাদের ওপরই চেপে বসেছে। আল্লাহ‌ সবকিছু শুনেন ও জানেন। আবার এ আরবদের মধ্য থেকে কিছু লোক এমনও আছে যারা আল্লাহ‌ ও কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান রাখে এবং যা কিছু খরচ করে তাকে আল্লাহর দরবারে নৈকট্য লাভের এবং রসূলের কাছ থেকে রহমতের দোয়া লাভের উপায় হিসেবে গ্রহণ করে। হ্যাঁ,, অবশ্যি তা তাদের জন্য নৈকট্য লাভের উপায় এবং আল্লাহ‌ নিশ্চয়ই তাদেরকে রহমতের মধ্যে প্রবেশ করাবেন। অবশ্যি আল্লাহ‌ ক্ষমাশীল ও করুণাময়। সূরা তওবা/৯৭-৯৯।

Wednesday, April 23, 2014

১৫৪. আল্লাহর আয়াতকে যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাদের মৃত্যুকালীন অবস্থা

হায়, যদি তোমরা সেই অবস্থা দেখতে পেতে যখন ফেরেশতারা নিহত কাফেরদের রূহ কবয করেছিল। তারা তাদের চেহারায় ও পিঠে আঘাত করছিল এবং বলে চলছিল “নাও এবং জ্বালাপোড়ার শাস্তি ভোগ করো। এ হচ্ছে সেই অপকর্মের প্রতিফল যা তোমরা আগেই করে রেখে এসেছো। নয়তো আল্লাহ‌ তার বান্দাদের ওপর জুলুমকারী নন।”
এ ব্যাপারটি তাদের সাথে ঠিক তেমনিভাবে ঘটেছে, যেমন ফেরাউনের লোকদেরও তাদের আগের অন্যান্য লোকদের সাথে ঘটে এসেছে। তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ মেনে নিতে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের গোনাহের ওপর আল্লাহ‌ তাদেরকে পাকড়াও করেছেন। আল্লাহ‌ ক্ষমতাশালী এবং কঠোর শাস্তিদাতা। সূরা আনফাল/৫০-৫২।

১৫৩. জাহান্নামের বর্ননা

মহান আল্লাহ বলেন:
“আর তুমি কি জানো, জাহান্নাম কি? তা শান্তিতে থাকতে দেয় না আবার ছেড়েও দেয় না। চামড়া ঝলসে দেয়। উনিশজন ফেরেশতা তার প্রহরী হবে।’’ (সূরা মুদ্দাসসির: ২৭-৩০)
অন্যত্র বলা হয়েছে:
‘‘হে (জাহান্নামে) মরবেও না আবার জীবিতও থাকবে না।’’ (সূরা আ’লা: ১৩)
আরো বলা হয়েছে:
‘‘তারা (জাহান্নামীরা) যখন সেখানে নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার ক্ষিপ্রতার তর্জন-গর্জন শুনতে পাবে এবং তা উত্থাল-পাতাল করতে থাকবে, ক্রোধ আক্রোশে এমন অবস্থা ধারণ করবে, মনে হবে তা গোস্বায় ফেটে পড়বে।’’ (সূরা মুলক: ৭-৮)
‘‘জাহান্নাম যখন দূর হতে তাদেরকে (জাহান্নামীদের)দেখতে পাবে তখন তারা তার ক্রোধ ও তেজস্বী আওয়াজ (অর্থাৎ তর্জন-গর্জন) শুনতে পাবে। আর যখন তাদেরকে হাত-পা বাধা অবস্থায় জাহান্নামের কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা সেখানে কেবল মৃত্যুকে ডাকতে থাকবে।’’ (সূরা ফুরকান: ১২-১৩)
সূরা নাবায়ে বলা হয়েছে:
‘‘নিশ্চয় জাহান্নাম একটি ঘাঁটি। আল্লাহদ্রোহীদের জন্য আশ্রয়স্থল। সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে।’’ (সূরা নাবা: ২১-২৩)
মহান আল্লাহ বলেন,
‘‘জাহান্নামের সাতটি দরজা (স্তর) আছে। প্রত্যেকটি দরজার জন্য ভিন্ন ভিন্ন দল নির্ধারিত হয়েছে।’’ (সূরা আল-হিজর: ৪)
সাউদ: এটা তীনাতুল খবলের পাড়ে অবস্থিত একটি বিশাল পাহাড়।
এক শ্রেণীর জাহান্নামীদেরকে ঐ পাহাড়ের উপর উঠায়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলা হবে, পূণরায় উঠানো হবে এবং ফেলা হবে এভাবে শাস্তি দেয়া হবে।
ইরশাদ হচ্ছে:﴿ سَأُرۡهِقُهُۥ صَعُودًا ١٧ ﴾ [المدثر: ١٧]  ‘‘সহসা-ই আমি তাকে সাউদ নামক পর্বতে চড়াবো।’’ (সূরা মুদ্দাসসির: ১৭)
মহান আল্লাহ বলেন,
(নিদের্শ দেয়া হবে) ধরো এবং গলায় ফাঁস লাগিয়ে দাও। অতঃপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করো। আর সত্তর হাত দীর্ঘ শিকল দিয়ে ভালোভাবে বেধে দাও।’’  (সূরা আল হাক্কাহ: ৩১-৩৫)
সূরা মুরসালাতে বলা হয়েছে:
‘‘(জাহান্নামীদের বলা হবে) চলো, সে ছায়ার দিকে যা তিনটি শাখা বিশিষ্ট। যেখানে না (শীতল) ছায়া আছে আর না আগুনের লেলিহান শিখা হতে রক্ষাকারী কোন বস্তু। সে আগুন প্রাসাদের ন্যায় বিরাট স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে। তা এমনভাবে লাফাতে থাকবে, দেখলে মনে হবে যেন হলুদ বর্ণের উট।’’ (সূরা মুরসালাত: ৩০-৩৩)
অন্যত্র বলা হয়েছে:
‘‘যখন তাদের গলায় শিকল ও জিঞ্জির লাগানো হবে, তখন তা ধরে টগবগ করে ফুটন্ত পানি দিয়ে টানা হবে এবং পরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।’’ (সূরা আল-মুমিন: ৭১-৭২)
‘‘আর খোদাদ্রোহী লোকদের নিকৃষ্ট পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম। সেখানে তারা (অনন্তকাল) জ্বলবে। এটা অত্যন্ত খারাপ স্থান। প্রকৃতপক্ষে এ তাদের জন্যেই। অতএব সেখানে তারা স্বাধ গ্রহণ করবে টগবগ করা ফুটন্ত পানি, ফুঁজ, রক্ত এবং এ ধরনের আরো অনেক কষ্টের। ’’ (সূরা সাদ: ৫৫-৫৮)
‘‘তাদের (জাহান্নামীদের)মাথার উপরে তীব্র গরম পানি ঢেলে দেয়া হবে, ফলে তাদের পেটের মধ্যে অবস্থিত সকল বস্তু ও চামড়া (সাথে সাথে) গলে যাবে এবং তাদের জন্য লোহার ডান্ডা থাকবে। যখনই তারা স্বাসবোধন অবস্থান জাহান্নাম হতে বের হবার চেষ্টা করবে তখনই তাদেরকে প্রতিহত করা হবে এবং বলা হবে দহনের শাস্তি ভোগ করতে থাক।’’ (সূরা হজ্জ: ১৯-২২)
পুজ পান করানো হবে
প্রচন্ড শাস্তির কারণে জাহান্নামীদের ক্ষুধা-পিপাসা মারাত্মক হবে। তারা কেবল খাইতে চাইবে। যা দেয়া হবে তাই খাবে ও পান করবে। তাদেরকে পুজ ও রক্ত মিশ্রিত পানি পান করতে দেয়া হবে। আল্লাহ বলেন:
“তার সামনে দোযখ রয়েছে। তাতে পুজ ও রক্ত মিশ্রিত পানি পান করানো হবে। ঢোক গিলে তা পান করবে এবং গলার ভেতরে প্রবেশ করাতে কমই পারবে।” (সূরা ইব্রাহীম: ১৬-১৭)
আগুনের পোশাক, গরম পানি ও লোহার হাতুড়ি দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে
দোযখীদের শাস্তি বহুমুখী। আল্লাহ বলেন:
‘যারা কাফের, তাদের জন্য আগুনের পোষাক তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাথার উপা ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে, তা এবং চামড়া গলে বের হয়ে যাবে। তাদের জন্য আছে লোহার হাতুড়ি। তারা যখনই যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বলা হবে: দহন শাস্তি ভোগ কর।’
জাহান্নামীদের নীচে ও উপরে এবং ডানে ও বামে আগুন ছাড়া আর কিছু নেই। তারা এ আগুনে দগ্ধ হতে থাকবে। আল্লাহ বলেন:
‘তাদের জন্য উপর দিক এবং নীচের দিক থেকে আগুনের ছাতা থাকবে। ( সূরা যুমার: ১৬)
জাহান্নামীদের আকার আকৃতির বিস্তৃতি ঘটিয়ে আজাব দেয়া হবে
পৃথিবীর মতো এতো সুন্দর চেহারা বা আকার আকৃতি জাহান্নামীদের থাকবে না। সেদিন তাদের চেহারাকে বিকৃতি ও কুৎসিত করে দেয়া হবে।
ইরশাদ হচ্ছে:
‘‘যারা খারাপ কাজ করবে তাদের পরিণতিও অনুরূপ খারাপ হবে। অপমান লাঞ্চনা তাদেরকে আবন্ধ করে রাখবে। আর আল্লাহর আজাব থেকে কেউ তাদেরকে রক্ষা করবে না। তাদের মুখমন্ডল যেন তমসাচ্ছন্ন রাতের তিমিরে আচ্ছাদিত।’’ (সূরা ইউনুস: ২৭)
অন্যত্র বলা হয়েছে:
‘‘আগুন তাদের মুখ মন্ডলকে চেটেচেটে খাবে এবং তাদের চেহারাগুলো হবে বীভৎস।’’ (সূরা মুমিনুন: ১০৪)
আল্লাহ বলেন:
‘কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি। যা চামড়া তুলে নেবে। (সূরা মা’আরেজ: ১৫-১৬)
‘‘যখন তাদের দেহের চামড়া আগুনে পুড়ে পুড়ে গলে যাবে, তখন (সাথে সাথে) সেখানে অন্য চামড়া সৃষ্টি করে দেবো; যেনো তারা আজাবের স্বাদ পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে। বস্তুত আল্লাহ বড়োই শক্তিশালী এবং নিজের ফায়সালা সমূহ কার্যকরী করার কৌশল খুব ভালো করেই জানেন।’’ (সূরা নিসা: ৫৬)
‘‘তারা গরম বাষ্প, টগবগ করা ফুটন্ত পানি এবং কালো ধুঁয়ার ছায়ার মধ্যে থাকবে। তা (কখনো না ঠান্ডা হবে, না শান্তি দায়ক)’’। (সূরা ওয়াকি‘আহ্‌: ৪২-৪৫)
 ‘নিশ্চয়ই যাক্কুম বৃক্ষ পাপীর খাদ্য হবে। গলিত তামার মতো পেটে ফুটতে থাকবে। যেমন পাটি ফুটে। একে ধর এবং টেনে নিয়ে যাও জাহান্নামের মধ্যস্থলে। তারপর তার মাথার উপর ফুটন্ত পানির আযাব ঢেলে দাও। (সূরা দোখান: ৪৩-৪৮)
আরও বলেন,
‘‘অতঃপর পান করার জন্য তাদের ফুটন্ত পানি দেয়া হবে।’’ (সূরা ছাফ্ফাত: ৬৭)
অন্যত্র বলা হয়েছে:
 ‘‘অবশ্যই তারা যাক্কুম গাছের খাদ্য খাবে। ওগুলোর দ্বারাই পেট ভর্তি করবে। আর উপর হতে টগবগ করে ফুটন্ত পানি পিপাসা কাতর উটের ন্যায় পান করবে।’’ (সূরা ওয়াকি‘আহ্‌: ৫২-৫৩)
যাক্কুম গাছের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন:
‘তা এমন একটি গাছ যা জাহান্নামের তলদেশ হতে বের হয়। তার ছড়াগুলি এমন, যেনো শয়তানগুলোর মাথা?’’
‘‘শয়তানগুলোর মাথা’’ এ কথাটি একটি দৃষ্টান্ত। যেমন আমরা কারো চেহারা বিবর্ণ দেখলে বলি একেবারে পেত্মীর মতো দেখতে। ঠিক এমনি একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে শয়তানের মাথার দৃষ্টান্ত। এ যে অত্যন্ত অরুচিকর, অখাদ্য, কুখাদ্য তা বুঝানোই হচ্ছে উক্ত আয়াতের অভিপ্রায়।
সূরা গাশিয়ায় বলা হয়েছে:
‘‘তাদেরকে ফুটন্ত কুপের পানি পান করানো হবে। কাটা যুক্ত শুস্ক ঘাস ছাড়া আর কোন খাদ্য তাদের জন্য থাকবে না। তার দেহের পুষ্টি সাধন করবে না এবং তাতে ক্ষুধারও উপশম হবে না।’’ (সুরা গাশিয়া: ৫-৭)
সে পানি শুধুমাত্র গরম ও ফুটন্তই হবে না বরং তা তামা বা কঠিন কোন ধাতুকে তাপ প্রয়োগে তরল করা হলে, সেই উত্তপ্ত তরলের মতো হবে।
ইরশাদ হচ্ছে:
‘‘তারা পানির আকাংখা করলে গলিত ধাতুর ন্যায় পানি সরবরাহ করা হবে। যা তাদের মুখমন্ডলকে ঝলসে দেবে। এটা কতো নিকৃষ্ট পানীয় এবং জাহান্নাম কতোই না নিকৃষ্ট স্থান।’’ (সূরা কাহারু: ১৯)
আরো বলা হয়েছে,
‘‘সে পানি পান করা মাত্র) তা তাদের নাড়ি ভূড়িকে ছিন্ন ভিন্ন করে দেবে।’’ (সূরা মুহাম্মদ: ১৫)
‘‘ সেখানে ঠান্ডা ও পানোপযোগী কোন বস্তুর স্থান তারা পাবে না। যদিও বা কিছু পায় তা হচ্ছে উত্তপ্ত গরম পানি ও দুর্গন্ধযুক্ত মিশ্রিত রক্ত।  (সূরা নাবা: ২৪-২৫)
সূরা ইব্রাহীমে বলা হয়েছে:
“আর গলিত পুঁজ পান করানো হবে যা সে অতিকষ্টে গলধ:করণ করবে এবং তা গলধ:করণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।  চতুর্দিক থেকে মৃত্যু যন্ত্রণা তাকে গ্রাস করে নেবে কিন্তু তবুও তার মৃত্যু হবে না।’’ (সূরা ইব্রাহীম: ১৬-১৭)
‘‘জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদেরকে সামান্য পানি দাও কিংবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছেন তা হতে কিছু আমাদের দিকে নিক্ষেপ করে দাও। জবাবে জান্নাতীগণ বলবে: আল্লাহ তা’আলা এ দুটো বস্তুই কাফেরদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।’’ (সূরা আ’রাফ: ৫০)
তারা জাহান্নামের কঠোর আযাব দেখে আফসোস করে বলবে:
সেদিন সত্যিকার রাজত্ব হবে দয়াময় আল্লাহর এবং কাফেরদের পক্ষে দিনটি হবে কঠিন। জালেম সেদিন আপন হাত দুটো দংশন করতে করতে বলবে, হায়! আফসুস, আমি যদি রাসূলের পথ অনুসরণ করতাম। হায়! আমি যদি অমুককে বন্ধু না বানাতাম। সে আমার কাছে উপদেশ আসার পরই আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছে। শয়তান মানুষকে বিপদকালে ধোঁকা দেয়। (সূরা ফোরকান:২৬-২৯)
জাহান্নামের আযাব স্থায়ী
আল্লাহ বলেন,
‘অপরাধীরা জাহান্নামের আযাবে চিরস্থায়ী অবস্থান করবে।’  (সূরা যুখরুফ: ৭৪)
আল্লাহ বলেন,
“তুমি ঐ দিন পাপীদেরকে পরস্পরে শৃঙ্খলাবদ্ধ দেখবে। তাদের জামা হবে দাহ্য আলকাতরার এবং তাদের মুখমন্ডলকে আগুন আচ্ছন্ন করে ফেলবে।” (সূরা ইব্রাহীম: ৪৯-৫০)
জাহান্নামীদেরকে যখন ফেরেশতারা এক হাতে চুলের মুঠি এবং অন্য হাতে পা ধরে চ্যাংদোলা করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে নিয়ে যাবে, তখন জাহান্নামের পাহারাদারগণ জিজ্ঞেস করবে: তোমাদের কাছে কি কোন সুসংবাদ দাতা এবং ভীতি প্রদর্শনকারী পৌছেনি? তখন কাফেরগণ বলবে: হ্যাঁ, পৌঁছেছিল কিন্তু আমরা তাদেরকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতাম এবং মিথ্যা মনে করতাম। তখন আফসোস করবে এবং বলবে:
‘‘হায়! আমরা যদি শুনতাম এবং অনুধান (জ্ঞান দিয়ে চিন্তা ভাবনা) করতাম, তবে আমরা আজ দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে নিক্ষিপ্ত লোকদের মধ্যে শামিল হতাম না।’’ সূরা মূলক: ১০)

সূরা আনআমে বলা হয়েছে:
‘‘হায়! সে সময়ের অবস্থা যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করানো হবে; তখন তারা বলবে: হায়! আমরা যদি দুনিয়ায় আবার ফিরে যেতে পারতাম এবং সেখানে আল্লাহর আয়াততে মিথ্যা মনে না করতাম, আর ঈমানদার লোকদের মধ্যে শামিল হতে পারতাম!’’ (সূরা আনআম: ২৭)
তাদের এ আবেদন নিবেদন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আল্লাহ সরাসরি তাদের কথাকে প্রত্যাখান করবেন। ইরশাদ হচ্ছে:
‘‘তাদেরকে যদি পূর্ববর্তী জীবনের দিকে ফিরিয়েও দেয়া হয়,তবুও তারা সে সব কাজই করবে যা হতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা তো সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী।’’ (সূরা আনআম: ২৮)
সূরা যুমারে বলা হয়েছে,
‘‘যে সব লোক কুফরী করেছিলো তাদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌঁছাবে তখন তার (অর্থাৎ জাহান্নামের) দরজাগুলো খুলা হবে এবং তার কর্মচারীরা তাদেরকে বলবে: তোমাদের নিকট তোমাদের নিজেদের মধ্যে এমন কোন রাসূল কি আসেনি, যে তোমাদেরকে তোমাদের রবের আয়াতসমূহ শুনিয়েছে এবং তোমাদেরকে এ বলে ভয় প্রদর্শন করেছেন যে, এ দিনটি অবশ্যই একদিন তোমাদেরকে দেখতে হবে?’’ তারা বলবে: ‘‘হ্যাঁ এসেছিলো! কিন্তু আজাব হওয়ার ফায়সালা কাফেরদের ভাগ্যলিপি হয়ে গিয়েছে।’’ (সূরা যুমার: ৭১)
কুরআনে এসেছে,
‘‘তারা বলবে হে আমাদের রব! তুমি নিশ্চয়ই আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু ও তার জীবন দান করেছো। এখন আমরা আমাদের অপরাধসমূহ স্বীকার করি। এখন (জাহান্নাম) থেকে বের হবার কোন পথ আছে কি?’’ (সূরা আল মু’মিন: ১১)
দু’বার মৃত্যু এবং দু’বার জীবন দান অর্থ-মানুষ অস্তিত্বহীন ছিলো অর্থাৎ মৃত্যু ছিলো, আল্লাহ জীবন দান করেছেন। আবার মৃত্যু দেবেন এবং পুণরায় কিয়ামতের দিন জীবিত করে উঠাবেন। এ কথা কয়টি স্বয়ং আল্লাহ রাববুল আলামীন সূরা বাকারায় স্পষ্ট করে বলেছেন:
‘‘তোমরা আল্লাহর সাথে কেমন করে কুফুরী করতে পারো। অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন-মৃত্যু, তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। আবার মৃত্যু দেবেন এবং পুণরায় জীবন দান করে উঠাবেন। তারপর তার দিকেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।’’ (সূরা বাকারা: ২৮)
সূরা ফাতির এ বলা হয়েছে:
‘‘সেখানে (জাহান্নামে) তারা চিৎকার করে বলবে: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান হতে বের করে নাও, যেনো আমরা নেক আমল করতে পারি। সে আমল থেকে ভিন্নতর যা আমরা পূর্বে করছিলাম।’’ (সূরা ফাতির: ৩৭)
অতঃপর তাদেরকে প্রতি উত্তরে বলা হবে:
‘‘আমরা কি তোমাদেরকে এমন বয়স দান করিনি যে,শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতে? আর তোমাদের নিকট সতর্ককারীও এসেছিলো। এখন (আজাবের) স্বাদ গ্রহণ করো। এখানে জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।’’ (সূরা ফাতির: ৩৭)
আত্মীয় স্বজন ও দুনিয়ার সব মানুষকে বিনিময় দিয়ে হলেও জাহান্নামীরা বাঁচতে চাবে
‘‘সেদিন অপরাধীরা চাবে তার সন্তান, স্ত্রী, ভাই এবং সাহায্যকারী নিকটবর্তী পরিবার এমনকি দুনিয়ার সব মানুষকে বিনিময় দিয়ে হলেও নিজেকে আজাব থেকে বাঁচিয়ে দিতে।’’ (সূরা আল মা‘আরিজ: ১১-১৪)
সূরা আল-মু’মিনে বলা হয়েছে:
‘‘তখন তাদের মধ্যে আর কোন আত্মীয়তা থাকবে না, এমনকি পরস্পর দেখা হলেও (কেউ কাউকে) জিজ্ঞেস করবে না।’’ (সূরা আল মু’মিনুন: ১০১)
অন্যত্র বলা হয়েছে:
‘‘সেদিন কোন প্রাণের বন্ধু অপর প্রাণের বন্ধুকে জিজ্ঞেসও করবে না।’’ (সূরা আল মা‘আরিজ: ১০)
প্রত্যেক জাহান্নামী দল পূর্ববর্তী দলকে দোষ দেবে
‘‘প্রত্যেকটি দল যখনই জাহান্নামে প্রবেশ করবে, নিজের সঙ্গের দলটির উপর অভিশাপ দিতে দিতে অগ্রসর হবে। শেষ পর্যন্ত সকলেই যখন সেখানে সমবেত হবে, তখন (প্রত্যেক) পরবর্তী লোক পূর্ববর্তী লোকদের সম্পর্কে বলবে: হে আমাদের রব! এ লোকরাই আমাদের বিভ্রান্ত করেছে। এখন তাদেরকে আগুনে (আমাদের চেয়ে) দ্বিগুন শাস্তি দাও।
আল্লাহ বলবেন: ‘‘সকলের জন্যই দ্বিগুণ আজাব কিন্তু তোমরা তা বুঝবে না।’’ (সূরা আ’রাফ: ৩৮)
‘‘(যখন জাহান্নামীদেরকে আগুণে পুড়ানো হবে) তখন তারা বলবে: হে আমাদের রব! আমরা আমাদের সরদার ও নেতাদের আনুগত্য করেছি, তারা আমাদেরকে সঠিক সরল পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। হে রব! এ লোকদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং তাদের উপর কঠিন অভিশাপ বর্ষণ করো।’’ (সূরা আহযাব: ৬৭-৬৮)
জাহান্নামীরা জাহান্নামে জ্বলতে জ্বলতে অসহ্য হয়ে যাবে। তখন চিৎকার করে বলতে থাকবে:
‘‘হে পরোয়ারদেগার! সেই জ্বিন ও মানুষদেরকে আমাদের সামনে এনে দাও, যারা আমাদেরকে গোমরাহ করছিলো। আমরা তাদেরকে আমাদের পায়ের তলায় রেখে দলিত মথিত করবো, যেনো তারা লাঞ্চিত ও অপমানিত হয়।’’ (সূরা হা-মীম-আস সিজদাহ: ২৯)
জাহান্নামীদের অনুভুতি তীব্র হবে। তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং সেদিন বুঝবে অন্ধভাবে নেতাদের অনুসরণ করা কতো বড় ভ্রান্তনীতি ছিলো। আল্লাহ বলেন
‘‘(আর এই বিভ্রান্ত লোকেরা নিজেদের নেতাদেরকে লক্ষ্য করে বলবে) আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলাম, যখন তোমাদেরকে রাববুল আলামীনের মর্যাদা দিচ্ছিলেন।’’ (সূরা শু‘আরা: ৯৭-৯৮)
সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:
যখন জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে তখন এসব নেতা ও প্রধান ব্যক্তিরা দুনিয়ায় যাদের অনুসরণ করা হতো, (তারা) তাদের অনুসারীদের সাথে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করতে থাকবে কিন্তু তবুও শাস্তি তারা পাবেই। এবং তাদের সমস্ত উপায় উপকরণের ধারা ছিন্ন হয়ে যাবে। আর যেসব লোক দুনিয়ায় তাদের অনুসারী ছিলো, তারা বলতে থাকবে: ‘‘হায়! যদি আমাদেরকে আরেকবার সুযোগ দেয়া হতো, তবে এরা আজ যেভাবে আমাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছে, তেমনি আমরাও এদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে দেখিয়ে দিতাম। এভাবেই দুনিয়ায় এরা যে সমস্ত কাজ করেছে সেগুলো আল্লাহ তাদের সামনে এমনভাবে উপস্থিত করবেন যাতে তারা কেবল দুঃখ ও আক্ষেপই করতে থাকবে। কিন্তু জাহান্নামের আগুন থেকে বের হবার কোন পথই তারা খুঁজে পাবে না।’’ (সূরা বাকারা: ১৬৬-১৬৭)
সেখানে সবর করা না করা সমান হবে
‘যেদিন তাদেরকে ধাক্কা মেরে মেরে জাহান্নামের দিতে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন তাদেরকে বলা হবে এই সে আগুন যাকে তোমরা ভিত্তিহীন গুজব মনে করেছিলে। এবার বলো, এটা কি যাদু? না তোমরা কিছুই দেখানো? এবার যাও এর মধ্যে ভষ্ম হতে থাকো। এখন তোমরা ধৈর্য ধারণ করো যা না করো, সবই তোমাদের জন্য সমান। তোমাদেরকে সে রকম প্রতিফলই দেয়া হচ্ছে যা তোমরা আমল করেছে।’’ (সূরা তুর: ১৩-১৬)
সূরা হাদীদে বলা হয়েছে:
যখন ফেরেশতাগণ জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে, তখন বলবে:
‘‘আজ তোমাদের নিকট হতে কোন বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং যারা পৃথিবীতে (প্রকাশ্য দাম্ভিকতার সাথে আল্লাহর আয়াতগুলো) অস্বীকার করেছিলে (তাদেরকেও বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেয়া হবে না। উপরন্ত বলা হবে) তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম। সে জাহান্নামই তোমাদের খোঁজখবর গ্রহণকারী অভিভাবক। কতো নিকৃষ্ট পরিণতি।’’ (সূরা আল হাদীদ: ১৫)
“আর যারা আগুনের অধিবাসী হবে তারা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, ‘তোমাদের রবকে ডাক, তিনি যেন আমাদের থেকে শাস্তি লাঘব করেন এক দিনের জন্য।’
তারা বলবে, ‘তোমাদের কাছে কি স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেননি?’ জাহান্নামীরা বলবে, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ প্রহরীরা বলবে, ‘সুতরাং তোমরাই ডাক; আর কাফিরদের ডাক শুধু ব্যর্থই হয়।” [সূরা গাফির: ৪৯, ৫০]

১৫২. জান্নাতের বর্ননা

জান্নাতের ব্যাপক পরিচিতি সম্পর্কে সংক্ষেপে এক বর্ণনায় মহান আল্লাহ বলেন:
‘কেউ জানে না তার জন্য কৃতকর্মের কি কি নয়নাভিরাম বিনিময় লুকায়িত আছে।’’ (সূরা সাজদাহ: ১৭)
জান্নাতে সর্বদা বসন্তকাল বিরাজ করবে। ফুল-ফলের সমাহার এবং সৌন্দর্য্য শ্যামলতা কখনো ম্লান হবে না। এমন কি গোটা জান্নাত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা Air condition হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
 ‘তাদেরকে সেখানে (জান্নাতে) না সূর্যতাপ জ্বালাতন করবে না শৈত্য প্রবাহ।’ (সূরা দাহর: ১৩)
পৃথিবীতে মানুষ যতো বিত্তশালী হোক এবং যতো সুখ-শান্তিই ভোগ করুক না কেন তবু কোনো না কোনো দুঃখ বা অশান্তি থাকেই, কোনো মানুষের পক্ষেই সম্পূর্ণ সুখী হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু জান্নাতে কোনো দুঃখই থাকবে না, এমন কি পৃথিবীতে মাল্টি বিলিয়ন হয়েও আরো বেশী পাওয়ার জন্য এবং ভোগ করার জন্য দুঃখের শেষ থাকে না। পক্ষান্তরে জান্নাতীগণ- যাকে সবচেয়ে ছোট জান্নাত দেয়া হবে তারও কোন অনুতাপ বা দুঃখ থাকবে না। আল্লাহ নিজেই এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছেন,
‘তারা সেখানে কখনও কোন দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হবে না এবং কোনদিন সেখান থেকে তাদেরকে বের করে দেয়া হবে না।’ (সূরা হিজর: ৪৮)
অন্যত্র বলা হয়েছে,
‘(জান্নাতীগণ বলবে) তিনি আমাদেরকে নিজের অনুগ্রহে চিরন্তনী আবাস্থল দান করেছেন এবং আমাদের কোন দুঃখ এবং ক্লান্তি নেই।’ (সূরা ফাতির: ৩৫)
পৃথিবীতে যতো ঝগড়া-ফাসাদ সমস্তই স্বার্থপরতা, অহংকার ও হিংসার কারণে সংঘটিত হয়ে থাকে। জান্নাতে স্বার্থপরতা, অহংকার, হিংসা ইত্যাদি থাকবে না, তাই সেখানে গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীল কথাবার্তা ইত্যাদি থাকবে না। সেখানে শুধু সম্প্রীতি ও সৌন্দর্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করবে।
মহান আল্লাহ বলেন,
‘সেখানে তারা বেহুদা ও অশ্লীল কথাবার্তা শুনতে পাবে না। যে কথাবার্তা হবে তা ঠিকঠাক ও যথাযথ (সম্প্রীতি পূর্ণ) হবে।’ (সূরা ওয়াকি‘আহ্‌: ২৫-২৬)
অন্যত্র বলা হয়েছে,
‘সেখানে তারা কোন অপ্রয়োজনীয় তাৎপর্যহীন ও মিথ্যা কথা শুনবে না।’ (সূরা নাবা: ৩৫)
অবশ্য এ ব্যাপারে জান্নাতবাসীদেরকে জান্নাতের দ্বাররক্ষীগণই সুসংবাদ প্রদান করবে। ইরশাদ হচ্ছে,
‘অতঃপর যখন তারা সেখানে (প্রবেশ করার জন্যে) আসবে, তখন দ্বাররক্ষীগণ তাদের জন্য দরজাসমূহ খুলে রাখবে এবং জান্নাতীদেরকে সম্বোধন করে বলবে, আপনাদের প্রতি অবারিত শান্তি বর্ষিত হোক। অনন্তকালের জন্য এখানে প্রবেশ করুন।’ (সূরা যুমার: ৭৩)।
পৃথিবীতে যতোগুলো বাস্তব ও চাক্ষুষ বস্তু আছে তার মধ্যে মৃত্যু একটি। সত্যি কথা বলতে কি, মানুষ পার্থিব কোনো বস্তু থেকেই অমনোযোগী ও গাফেল নয় একমাত্র মৃত্যু ছাড়া। যদিও আমাদের প্রত্যেককেই মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। তবুও মৃত্যুকে আমরা ভীতির চোখে দেখি এবং মৃত্যু থেকে পালিয়ে বেড়াবার ব্যর্থ প্রয়াস পাই। এ ভীতিকর অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি থাকবে জান্নাতীদের জন্য। মহান আল্লাহ বলেন,
‘সেখানে তারা আর কখনো মৃত্যুর মুখোমুখি হবে না। পৃথিবীতে একবার যে মৃত্যু হয়েছে সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে দেবেন।’ (সূরা দোখান: ৫৬)

জান্নাতের প্রশস্ততা হবে আসমান-যমীনের সমান-

আল্লাহ বলেন,
“তোমরা তোমাদের প্রভুর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা হবে আসমান-যমীনের সমান। যা মোত্তাকীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে”। (সূরা আলে-ইমরান: ১৩৩)

জান্নাতের দরজাসমূহঃ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“স্থায়ী জান্নাত, তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তারাও। আর ফেরেশ্তাগণ তাদের কাছে উপস্থিত হবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে এবং বলবে, তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি; আর আখেরাতের এ পরিণাম কতই না উত্তম।”(সূরা আর-রাদ: ২৩ – ২৪)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
“এ এক স্মরণ। মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে উত্তম আবাস— চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ তাদের জন্য উন্মুক্ত।”(সূরা সদ: ৪৯ – ৫০)

জান্নাতীদের উষ্ণ সম্বর্ধনা -

আল্লাহ বলেন,
“মোত্তাকীদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌছাবে, জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে এ বলে অভ্যর্থনা জানাবে, তোমাদের প্রতি সালাম, শুভেচ্ছা, তোমরা সুখে থাকো এবং সর্বদা বসবাসের জন্য তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে এ ভূমির উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করবো। মেহনতকারীদের পুরস্কার কতই না চমৎকার।” (সূরা যুমার: ৭৩-৭৪)

বহুতল ভবন ও নির্ঝরিণী -

জান্নাতীদের বাসস্থান সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
“যারা মোত্তাকী, তাদের জন্য রয়েছে কক্ষের উপর কক্ষ (বহুতল ভবন) এবং এর নীচে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। আল্লাহ নিজ ওয়াদা কখনও ভঙ্গ করেন না।” (সূরা যুমার: ২০) 
সকল প্রকার মজাদার খাবার ডিশ ও ফল-ফলাদি 
আল্লাহ বলেন,
“হে আমার বান্দাগণ, তোমাদের আজ কোনো ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিত ও পেরেশান হবে না। তোমরা আমার আয়াতসমূহের বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তোমরা আমার আজ্ঞাবহ ছিল। জান্নাতে প্রবেশ করো তোমরা এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে। তাদের কাছে সোনার তৈরি ডিশ ও পানপাত্র পেশ করা হবে এবং সেখানে রয়েছে মন যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা সেখানে চিরকাল থাকবে। এই যে জান্নাতের তোমরা উত্তরাধিকারী হয়েছো, এটা তোমাদের কর্মের ফল। সেখানে তোমাদের জন্য আছে প্রচুর ফল-মূল, তা থেকে তোমরা খাবে।” (সূরা যুমার: ৬৮-৭৩)
জান্নাতে সকল প্রকার ফল-মূল পাওয়া যাবে তারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে যখনই ইচ্ছা করবে, তখনই খেতে পারবে।
যা পেতে ইচ্ছে করবে তাই পাবে 
পৃথিবীতে কোন জিনিস পেতে হলে বা ভোগ করতে চাইলে সে জিনিসের জন্য চেষ্টা শ্রম ও কোন কোন ক্ষেত্রে টাকা বা সম্পদের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জান্নাতে ইচ্ছে হওয়া মাত্রই সে জিনিস তার সামনে উপস্থিত পাবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেনঃ
‘সেখানে তোমরা যা কিছু চাও এবং যা ইচ্ছে করবে সাথে সাথে তাই হবে। এটা হচ্ছে ক্ষমাশীল ও দয়াবান আল্লাহর তরফ হতে মেহমানদারী।’ (সূরা হা-মীম আস-সিজদা: ৩০-৩১)
অন্যত্র বলা হয়েছেঃ
“এবং আমি জান্নাতীদেরকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী ফল ও গোশত প্রদান করতে থাকবো।’ (সূরা আত-তূর: ২২)
এ দান স্থান ও কালের সাথে সীমাবদ্ধ হবে না, নিয়মিতভাবে চিরদিন প্রদান করা হবে। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
‘এবং সেখানে তাদেরকে (নিয়মিতভাবে) সকাল সন্ধ্যা খাদ্য পরিবেশন করা হবে।’ (সূরা মারইয়াম: ৬২)
অসীম সুখ-সম্ভার কোনোদিন শেষ হবে না 
পৃথিবীতে যদিও কোনো ব্যাক্তি সম্পূর্ণ সুখ-সম্ভোগ লাভ করতে পারে না; তবুও যতোটুকু পায় তার মধ্যে প্রতিটি মুহূর্ত ভীত সন্ত্রস্ত থাকে চোর-ডাকাত, প্রতারক এবং মৃত্যুর ভয়ে। কিন্তু জান্নাতের নিয়ামত এবং সুখ ভোগ কোনো দিনই কমতি বা শেষ হবে না।
আল্লাহ বলেনঃ
‘তাদের জন্য কাটাবৃক্ষসমূহ, থরে থরে সাজানো কলা, বিস্তীর্ণ অঞ্চলব্যাপী ছায়া, সর্বদা প্রবাহমান পানি, আর খুব প্রচুর পরিমাণ ফল থাকবে। যা কোনদিন শেষ হবে না এবং ভোগ করতে কোন বাঁধা-বিপত্তিও থাকবে না।’ (সূরা ওয়াকি‘আহ্‌: ২৮-৩০)
অন্যত্র বলা হয়েছেঃ
‘চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহ যার দ্বারগুলো তাদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে থাকবে। সেখানে তারা ঠেস দিয়ে বসবে এবং প্রচুর ফল ও পানীয় চেয়ে পাঠাবে, আর তাদের নিকট লজ্জাবনত সমবয়স্কা স্ত্রী থাকবে। এ জিনিসগুলো এমন যা হিসেবের দিন দান করার জন্য তোমাদের নিকট ওয়াদা করা হয়েছে। এটা আমাদের দেয়া রিযিক, কোনো দিন শেষ হয়ে যাবে না।’ (সূরা সদ: ৫০-৫৪)

জান্নাতীদেরকে আল্লাহ পবিত্রা স্ত্রী ও হুরদের সাথে বিয়ে দেবেন -

মহান আল্লাহ বলেনঃ
‘তারা সামনা-সামনিভাবে সাজানো সারি সারি আসনের উপর ঠেস দিয়ে বসে থাকবে এবং আমি তাদের সাথে সুনয়না হুরদের বিবাহ দেবো।’ (সূরা তুর: ২০)
حور বহুবচনের শব্দ। একবচনে حوراء অর্থ অত্যন্ত সুশ্রী, অনিন্দ্য সুন্দর। عين শব্দটিও বহুবচন। একবচনে عيناء অর্থ ভাসা ভাসা ডাগর চক্ষুওয়ালা নারী। যাদেরকে বাংলা সাহিত্যের ভাষায় হরিণ নয়না বলা হয়। হুর সম্বন্ধে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুফাচ্ছিরগণ দু’ভাগে ভাগ করেছেন, এক দলের মতেঃ সম্ভবত এরা হবে সেসব মেয়ে যারা বালেগা হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছিলো এবং যাদের পিতা-মাতা জান্নাতে যাওয়ার যোগ্য হয় নি। সে সব মেয়েদেরকে ষোড়শী যুবতী করে হুরে রূপান্তর করা হবে। আর তারা চিরদিন নব্য যুবতীই থেকে যাবে।
অন্যদের মতেঃ হুরগণ প্রকৃতপক্ষে স্ত্রী জাতি কিন্তু তাদের সৃষ্টি মানব সৃষ্টির চেয়ে আলাদা এবং আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন আপন মহিমায় তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।
অন্যত্র বলা হয়েছেঃ
‘(এসব নিয়ামতের মধ্যে থাকবে) তাদের জন্য সচ্চরিত্রবান ও সুদর্শন স্ত্রীগণ।’ (সূরা আর-রাহমান: ৭০)
সূরা আল-ইমরানে বলা হয়েছেঃ
‘যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য এমন উদ্যান সমূহ রয়েছে যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহমান। আর সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। সেখানে তাদের জন্য আরও আছে পবিত্রা স্ত্রীগণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।

জান্নাতী হুরেরা হবে কুমারী 
আল্লাহ বলেন,
“আমি জান্নাতী নারীদেরকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। তারপর তাদেরকে চিরকুমারী, কামিনী ও সমবয়স্কা বানিয়েছি।” (সূরা ওয়াকি‘আহ্‌: ৩৫-৩৮)
ঐ সমস্ত হুর এবং স্ত্রীগণ শুধু কুমারীই হবে না বরং এমন অবস্থায় থাকবে যে, জান্নাতীদের স্পর্শের পূর্বে কোনো মানুষ অথবা জ্বীন তাদেরকে স্পর্শ করে নি বা দেখেও নি। কেননা বিচারের পূর্বে কোনো ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না তাই তাদেরকে দেখা বা স্পর্শ করাও সম্ভব নয়।
আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন নিজেই বলেনঃ
তাদেরকে (জান্নাতীদের) পূর্বে কোনো মানুষ অথবা জ্বীন স্পর্শ করে নি।’ (সূরা আর-রাহমান: ৫৬)

হুরেরা হবে আবরণে রক্ষিত উজ্জ্বল মণি-মুক্তার মতো সুন্দরী 
আল্লাহ বলেন:
“হুরের উদাহরণ হলো, আবরণে রক্ষিত মুক্তার মতো সুন্দর ও উজ্জ্বল এবং আয়তলোচনা। ”(সূরা ওয়াকি‘আহ্‌: ২৩)
আল্লাহ আরো বলেন,
“তাদের চোখ সর্বদাই অবনত (পবিত্রা যারা অন্যের দিকে তাকায় না), সুন্দর চোখ বিশিষ্ট এবং তারা যেন ডিমের আবরণের ভেতর সুপ্ত উজ্জ্বল।” (সূরা সাফ্‌ফাত:৪৮- ৪৯)
সোনার খাটে মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে বসবে 
“জান্নাতীরা সোনার খাটে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে হেলান দিয়ে আরামের সাথে আলাপচারিতা করবে।” (সূরা ওয়াকি‘আহ্‌ : ১৫-১৬)
আল্লাহ বলেন:
“তারা এবং তাদের স্ত্রীরা ছায়ার মধ্যে খাটে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে ফল-মুল এবং তারা যা চাবে সবই ।” সূরা ইয়াসিন-৫৬)
জান্নাতীদের জন্য হুরের পাশাপাশি গিলমান (غلمان) থাকবে। غلمان বহুবচন, এক বচনে غلام অর্থ দাস, সেবক ইত্যাদি।
মহান আল্লাহ বলেনঃ
“আর তাদের (সেবা যত্নে) কাজে নিযুক্ত থাকবে এমন সুন্দর সুশ্রী বালক, তারা যেন (ঝিনুকে) লুকিয়ে থাকা মুক্ত।” (সূরা তুর: ২৪)
غلمان বা সেবকগণ হবে চিরন্তন বালক। এদের বয়স কোনোদিনই বাড়বে না। এই সেইসব বালক যারা বালেগ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছে এবং তাদের বাবা-মা চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। অথবা তারা হবে এক নতুন সৃষ্টি যাদেরকে আল্লাহ আপন মহিমায় জান্নাতীদের পরিচর্যা ও সেবার জন্য সৃষ্টি করবেন। (আল্লাহই সর্বজ্ঞ)। ঐ বালকগণ জান্নাতীদেরকে বাসন-কোসন, খাদ্য-পানীয় ইত্যাদি পরিবেশনের দায়িত্ব নিয়োজিত থাকবে এবং তারা পুরুষ ও মহিলা উভয় ধরনের জান্নাতীদের নিকট অবাধে যাতায়াত করবে।
 অন্যত্র বলা হয়েছে:
‘‘আর তাদের (সেবার জন্য) নির্ধারিত থাকবে এমন সব বালক যারা চিরদিনই বালক থাকবে। আপনি তাদেরকে দেখলে মনে করবেন এরা যেন ছড়িয়ে দেয়া মুক্তা।’’ (সূরা দাহর: ১৯)
আল্লাহ বলেন:
“তাদের কাছে পানপাত্র ও সূরাপূর্ণ পেয়ালা হাতে কচি-কোমল শিশুরা ঘোরাফেরা করবে। আর যা পান করলে মাথা ব্যাথা হবে না এবং বিকারগ্রস্থ হবে না। আর তাদের পছন্দসই ফল-মুল ও রুচিসম্মত পাখীর গোশত নিয়ে আপ্যায়নের জন্য ঘোরাফেরা করবে।”  (সূরা ওয়াকি‘আহ্‌: ১৭-২১)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে শুভ সংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত।” (আল বাকারা:২৫)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত: তাতে আছে নির্মল পানির নহরসমূহ, আছে দুধের নহরসমূহ যার স্বাদ অপরিবর্তনীয়, আছে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু সুরার নহরসমূহ, আছে পরিশোধিত মধুর নহরসমূহ এবং সেখানে তাদের জন্য থাকবে প্রত্যেক প্রকারের ফলমূল।”(মুহাম্মদ:১৫)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে নিরাপদ স্থানে— উদ্যান ও ঝর্ণার মাঝে।”(আদ দুখান:৫১-৫২)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রবাহমান দুই প্রস্রবণ।”(আর রাহমান:৫০)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।” (আর রাহমান:২২)
সূরা যারিয়াতে বলা হয়েছে:
‘‘অবশ্য মুক্তাকী লোকেরা সেদিন বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধারাসমূহের পরিবেষ্টনে অবস্থান থাকবে। তাদের রব তাদেরকে যা দেবে সানন্দে তারা তা গ্রহণ করতে থাকবে। (এটা এজন্য যে) তারা এর আগে মুহসিন (সদাচারী) বান্দা হিসেবে পরিচিত ছিলো।’’ (সূরা যারিয়াত: ১৫-১৬)
বাগানসমূহের নিচ দিয়ে প্রবাহের অর্থ হচ্ছে, বাগানসমূহের পাশ দিয়ে নদী নালা প্রবাহমান থাকবে। কেননা- বাগ-বাগিচা যদিও নদীর কিনারে হয় তবু তা নদী থেকে একটু উচু জায়গাই হয়ে থাকে এবং নদী ও বাগান থেকে সামান্য নিচু নিয়েই প্রবাহিত হয়।
পক্ষান্তরে যে সমস্ত জায়গায় ঝর্ণার কথা বলা হয়েছে সেখানে বাগান এবং ঝর্ণা একত্রে থাকবে একথাই বলা হয়েছে। আমরা জানি বাগানের মধ্যে বা একই সমতলে ঝর্ণা থাকা সম্ভব। শুধু সম্ভবই নয় বাগানের শোভা বর্ধনের একটি অন্যতম উৎসও বটে। তাই কুরআনের ভাষায় হচ্ছে:
“সেদিন তারা বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহের পরিবেষ্টনে অবস্থান করবে।”
আরো বলা হয়েছে:
‘‘জান্নাতের ছায়া তাদের উপর বিস্তৃত হয়ে থাকবে এবং তার ফলসমূহ সর্বদা আয়ত্বের মধ্যে থাকবে।’’ (সূরা দাহর: ১৪)
জান্নাতের প্রাসাদ, কক্ষ ও তাঁবুসমূহ 
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“আরও ওয়াদা দিচ্ছেন, উত্তম বাসস্থানের, স্থায়ী জান্নাতসমূহে।” [সূরা আত-তাওবাহ: ৭২]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
“আর তারা সুউচ্চ প্রাসাদে নিরাপদে থাকবে।”(সূরা সাবা: ৩৭)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“তারাই, যাদেরকে প্রতিদান দেয়া হবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষ, যেহেতু তারা ছিল ধৈর্যশীল। আর তারা প্রাপ্ত হবে সেখানে অভিবাদন ও সালাম।”(সূরা আল-ফুরকান: ৭৫)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“তবে যারা তাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের জন্য আছে বহু প্রাসাদ যার উপর নির্মিত আরো প্রাসাদ, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; এটা আল্লাহ্‌র প্রতিশ্রুতি, আল্লাহ্ প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না।”(সূরা যুমার: ২০)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“তারা হূর, তাঁবুতে সুরক্ষিতা।” (সূরা আর-রাহমান/৭২
জান্নাতের বৃক্ষ ও বিহঙ্গকুল 
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
 “আর ডান দিকের দল, কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল! তারা থাকবে এমন উদ্যানে, যাতে আছে কাঁটাহীন কুলগাছ এবং কাঁদি ভরা কলা গাছ; আর সম্প্রসারিত ছায়া; আর সদা প্রবাহমান পানি এবং প্রচুর ফলমূল।”(সূরা আল-ওয়াকি‘আহ্‌: ২৭ – ৩২)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
“আর যে তার রবের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান। কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে? উভয়ই বহু শাখা-পল্লববিশিষ্ট।”(সূরা আর-রাহমান: ৪৬ – ৪৮)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“এ উদ্যান দুটি ছাড়া আরো দুটি উদ্যান রয়েছে। কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে? ঘন সবুজ এ উদ্যান দু’টি।”(সূরা আর-রাহমান: ৬২ – ৬৪)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
“নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে ছায়ায় ও প্রস্রবণ বহুল স্থানে।”(সূরা আল-মুরসালাত: ৪১)
জান্নাতীদের আসবাবপত্র 
‘‘তাদের সম্মুখে রৌপ্য নির্মিত পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা আবর্তিত করানো হবে। সে কাঁচ যা রৌপ্য জাতীয় হবে এবং সেগুলোকে পরিমাণ মতো ভরতি করে রাখা হবে।’’ (সূরা দাহর: ১৫-১৬)
অন্যত্র বলা হয়েছে:
‘‘তাদের সামনে সোনার থালা ও পান পাত্র আবর্তিত হবে এবং মন ভুলানো ও চোখ জুড়ানো জিনিসসমূহ সেখানে বর্তমান থাকবে। তাদেরকে বলা হবে এখন তোমরা চিরদিন এখানে থাকবে।’’ (সূরা যুখরুফ: ৭০)
জান্নাতবাসীদের খাদ্য ও পানীয় 
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফলমূল নিয়ে, আর তাদের ঈপ্সিত পাখীর গোশ্ত নিয়ে। [সূরা আল-ওয়াকি‘আহ: ২০-২১]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
“এ এক স্মরণ, আর মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে উত্তম আবাস, জান্নাত, যার দরজাসমূহ তাদের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে তারা আসীন হবে হেলান দিয়ে, সেখানে তারা বহুবিধ ফলমূল ও পানীয় চাইবে।” [সূরা সদ, ৪৯-৫১]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“নিশ্চয় সৎকর্মশীলেরা পান করবে এমন পূর্ণপাত্র-পানীয় থেকে যার মিশ্রণ হবে কাফূর --- এমন একটি প্রস্রবণ যা থেকে আল্লাহ্‌র বান্দাগণ  পান করবে, তারা এ প্রস্রবণকে যথেচ্ছা প্রবাহিত করবে।” [সূরা আল-ইনসান, ৫-৬]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
“কেউ মন্দ কাজ করলে সে শুধু তার কাজের অনুরূপ শাস্তিই প্রাপ্ত হবে। আর যে পুরুষ কিংবা নারী মুমিন হয়ে সৎকাজ করবে তবে তারা প্রবেশ করবে জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে দেয়া হবে অগণিত রিযিক।”(সূরা গাফের: ৪০)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
                                                                                                                              
“স্বর্ণের থালা ও পানপাত্র নিয়ে তাদেরকে প্রদক্ষিণ করা হবে; সেখানে মন যা চায় এবং যাতে নয়ন তৃপ্ত হয় তাই থাকবে। আর সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে।” (সূরা যুখরুফ: ৭১)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
‘‘মুত্তাকী লোকেরা সেখানে বাগানসমূহে ও নিয়ামত সম্ভারের মধ্যে অবস্থান করবে। মজা ও স্বাদ আস্বাদন করতে থাকবে সে সব জিনিসের যা তাদের রব তাদেরকে দেবেন। আর তাদের রব তাদেরকে জাহান্নামের আজাব হতে রক্ষা করবেন। (তাদেরকে বলা হবে) খাও এবং পান কর মজা ও তৃপ্তির সাথে। এটা তো তোমাদের সে সব কাজের প্রতিফলন যা তোমরা (পৃথিবীতে) করছিলে।’’ (সূরা তুর: ১৭-১৯)
অন্যত্র বলা হয়েছে:
‘‘সেখানে তারা বাঞ্ছিত সুখভোগ লিপ্ত থাকবে। (তাদের অবস্থান হবে) জান্নাতের উচ্চতম স্থানে। যা ফলসমূহের গুচ্ছ ঝুলতে থাকবে। (বলা হবে) খাও এবং পান করো, তৃপ্তি সহকারে। সে সব আমলের বিনিময়ে যা তোমরা অতীত দিনে করেছো। ’’ (সূরা আল হাক্কাহ: ২১-২৪)
আরো বলা হয়েছে:
‘‘জান্নাতের ফল দেখতে পৃথিবীর ফলের মতোই হবে। যখন কোন ফল তাদের দেয়া  হবে খাবার জন্য, তারা বলবে: এ ধরনের ফল তো আমরা পৃথিবীতেই খেয়েছি।’’ (সূরা বাকারা: ২৫)
জান্নাতবাসীদের পোষাক-পরিচ্ছদ 
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।”(সূরা আল-হাজ্জ: ২৩)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
“সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ কংকনে অলংকৃত করা হবে, তারা পরবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র, আর তারা সেখানে থাকবে হেলান দিয়ে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম বিশ্রামস্থল!” (সূরা আল-কাহাফ: ৩১)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“তাদের আবরণ হবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, আর তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।” (সূরা আল-ইনসান: ২১)
সূরা আর রাহমানে বলা হয়েছে:
‘‘তারা সবুজ গালিচা ও সুন্দর সুরঞ্জিত শয্যায় এলায়িতভাবে অবস্থান করবে।’’ (সূরা আর রহমান: ৭৬)
 জান্নাতের বিছানা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“সেখানে থাকবে উন্নত শয্যাসমূহ, আর প্রস্তুত থাকবে পানপাত্র, সারি সারি উপাধান এবং বিছানা গালিচা।” (সূরা আল-গাশিয়া: ১৩ – ১৬)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
“সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে এমন ফরাশে যার অভ্যন্তরভাগ হবে পুরু রেশমের। আর দুই উদ্যানের ফল হবে কাছাকাছি।” (সূরা আর-রাহমান: ৫৪)
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
“তারা হেলান দিয়ে বসবে সবুজ তাকিয়ায় ও সুন্দর গালিচার উপরে।” (সূরা আর-রাহমান: ৭৬)

জান্নাতবাসীদের অলঙ্কার
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।”(সূরা আল-হাজ্জ: ২৩)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“তাদের আবরণ হবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, আর তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।”(সূরা আল-ইনসান: ২১)
আল্লাহ রাববুল আলামীন ইরশাদ করেছেন:
‘‘আমি তাদের অন্তর থেকে ঈর্ষা ও বৈরিতা দূর করে দেবো। তারা ভাইয়ের মতো পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসন সমূহে সমাসীন থাকবে।’’ [সূরা আল-হিজর: ৪৭]

জান্নাতীগণ জান্নাতী বাপদাদা, স্ত্রী ও সন্তানসহ একান্নবর্তী পরিবারের ন্যায় বসবাস করবে
মহান আল্লাহ বলেন:
‘‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানও ঈমানের কোন মাত্রায় তাদের পদাংক অনুসরণ করেছে, তাদের সে সন্তানদেরকে আমরা (জান্নাতে) তাদের সাথে একত্রিত করবো, আর তাদের আমলে কোন কম করা হবে না।’’ (সূরা তুর: ২১)
সূরা রাদে বলা হয়েছে:
‘‘তারাতো চিরন্তন জান্নাতে প্রবেশ করবেই, তাদের সাথে তাঁদের বাপ-দাদা, তাদের স্ত্রী এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সৎ ও নেককার তারাও তাদের সাথে সেখানে (জান্নাতে) যাবে। ফেরেশতাগণ চারদিক হতে তাদেরকে সম্বর্ধনা দিতে আসবে এবং বলবে তোমাদের প্রতি শান্তি।’’(সূরা রা‘দ: ২৩)
জান্নাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।”( সূরা আল-কাহাফ: ১০৭ – ১০৮)

রবের সামনে দণ্ডায়মানে ভীত ব্যক্তির জন্য দু’টি জান্নাত
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
“আর যে তার রবের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান। কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন্ অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে? উভয়ই বহু শাখা-পল্লববিশিষ্ট। কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে? উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রবাহমান দুই প্রস্রবণ। কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে? উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রত্যেক ফল দুই দুই প্রকার। কাজেই তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন অনুগ্রহে মিথ্যারোপ করবে?”(সূরা আর-রাহমান: ৪৬ – ৫৩)

জান্নাতীগণ সর্বাধিক বড় নিয়ামত আল্লাহর দর্শন লাভ করবে
আল্লাহর দর্শনের ব্যাপারে আল-কুরআনের মাত্র দু’জায়গায় আলোচনা করা হয়েছে। সূরা আল কিয়ামাহ এবং সূরা আল-মুতাফফিফীনে।
আল্লাহ বলেন:
“সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের রবের প্রতি তাকিয়ে থাকবে।” (সূরা কিয়ামাহ: ২২-২৩)
জান্নাত চাইতে হবে আল্লাহর কাছে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যখন আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন জান্নাতুল ফেরদৌস চাইবে। সেটাই মধ্যম ও সর্বোচ্চ জান্নাত।
জান্নাতীদেরকে অসংখ্য ও অগণিত নিয়ামত দেয়া হবে। আল্লাহ এক সাথে অনেক নিয়ামতের উল্লেখ করেছেন নিম্নোক্ত আয়াতে:
“এবং তাদের সবর ও ধৈর্যের বিনিময়ে তাদেরকে দেবেন জান্নাত ও রেশমী পোশাক-আশাক। তারা সেখানে সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে রোদের তাপ ও শীতের ঠান্ডা অনুভব করবে না। আর গাছের ছায়া তাদের উপর ঝুঁকে থাকবে এবং ফলসমূহ তাদের আয়ত্বে রাখা হবে। তাদেরকে খাদ্য ও পানীয় পরিবেশন করা হবে রূপার পাত্রে এবং স্ফুটিকের মতো পানপাত্রে। পরিবেশনকারীরা তা পরিমাণ করে পূর্ণ করবে। তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে, ‘যানজাবীল’ মিশ্রিত পানপাত্র। এটা জান্নাতে অবস্থিত ‘সালসাবীল’ নামক একটি ঝর্ণা। আর তাদের কাছে আনাগোনা করবে চির কিশোরগণ। আপনি তাদেরকে দেখে মনে করবেন যেন বিক্ষিপ্ত মণি-মুক্তা। আপনি যখন সেখানে দেখবেন, তখন নিয়ামতরাজি ও বিশাল রাজ্য দেখতে পাবেন। তাদের পোশাক হবে চিকন সবুজ রেশম ও মোটা সবুজ রেশম এবং তাদেরকে পরিধান করানো হবে রৌপ্য নির্মিত কংকন এবং তাদের প্রতিপালক তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়। এটা তোমাদের প্রতিদান। তোমাদের আমল ও কাজ স্বীকৃতি লাভ করেছে।” (সূরা আদ-দাহর: ১২-২২)

১৫১. কারা মসজিদের আবাদকারী হবে

যারা আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করায় তারা যখন নিজেরাই নিজেদের কুফরীর সাক্ষ্য দিচ্ছে তখন আল্লাহর মসজিদসমূহের আবাদকারী হওয়া তাদের কাজ নয়। তাদের সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে গেছে এবং তাদেরকে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে। তারাই হতে পারে আল্লাহর মসজিদ আবাদকারী যারা আল্লাহর ও পরকালকে মানে, প্রার্থনা প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ‌ কে ছাড়া আর কাউকে ভয় করেনা। তাদেরই ব্যাপারে আশা করা যেতে পারে যে, তারা সঠিক সোজা পথে চলবে। তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো এবং মসজিদে হারামের আবাদ করাকে এমন ব্যক্তিদের কাজের সমান মনে করে নিয়েছ যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি এবং চেষ্টা-সাধনা করেছে আল্লাহর পথে? এ উভয় দল আল্লাহর কাছে সমান নয়। যারা নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ করেছে আল্লাহ‌ তাদের পথ দেখান না। আল্লাহর কাছে তো তারাই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, যারা ঈমান এনেছে এবং তাঁর পথে ঘর-বাড়ি ছেড়েছে ও ধন-প্রাণ সমর্পণ করে চেষ্টা সাধনা করেছে। তারাই সফলকাম। তাদের রব তাদেরকে নিজের রহমত, সন্তোষ ও এমন জান্নাতের সুখবর দেন, যেখানে তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী সুখের সামগ্রী।  সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। অবশ্য আল্লাহর কাছে কাজের প্রতিদান দেবার জন্য অনেক কিছুই রয়েছে। সূরায়ে তওবা/১৭-২২।

১৫০. হুনাইনের যুদ্ধে সাহাবাদের পলায়ন

এর আগে আল্লাহ‌ বহু ক্ষেত্রে তোমাদের সাহায্য করছেন। এই তো সেদিন, হুনায়েন যুদ্ধের দিন (তাঁর সাহায্যের অভাবনীয় রূপ তোমরা দেখছো) , সেদিন তোমাদের মনে তোমাদের সংখ্যাধিক্যের অহমিকা ছিল। কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি। আর এত বড় বিশাল পৃথিবীও তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল এবং তোমরা পেছনে ফিরে পালিয়ে গিয়েছিলে। সূরায়ে তওবা/২৫।

Sunday, April 20, 2014

১৪৯. আলেমদের অবস্থা

তারপর পরবর্তী বংশধরদের পর এমন কিছু অযোগ্য লোক তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়, যারা আল্লাহর কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়ে এ তুচ্ছ দুনিয়ার স্বার্থ আহরণে লিপ্ত হয় এবং বলতে থাকে আশা করা যায়, আমাদের ক্ষমা করা হবে। পরক্ষনেই সেই ধরনের পার্থিব সামগ্রী যদি আবার তাদের সামনে এসে যায়, তাহলে তৎক্ষনাৎ দৌড়ে গিয়ে তা লুফে নেয়। তাদের কাছ থেকে কি কিতাবের অঙ্গীকার নেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর নামে কেবলমাত্র সত্য ছাড়া আর কিছুই বলবে না? আর কিতাবে যা লেখা আছে তাতো তারা নিজেরাই পড়ে নিয়েছে। আখেরাতের আবাস তো আল্লাহর ভয়ে ভীত লোকদেরই জন্য ভাল -এতটুকু কথাও কি তোমরা বুঝো না?
সূরা আল আরাফ/১৬৯।

১৪৮. রাসূল (দঃ) এর স্ট্যাটাস- সুপারিশকারী নন, গায়েবের খবর জানেন না, শুধু সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা

হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলো, নিজের জন্য লাভ-ক্ষতির কোন ইখতিয়ার আমার নেই। একমাত্র আল্লাহই যা কিছু চান তাই হয়। আর যদি আমি গায়েবের খবর জানতাম, তাহলে নিজের জন্য অনেক ফায়দা হাসিল করতে পারতাম এবং কখনো আমার কোন ক্ষতি হতো না। আমি তো যারা আমার কথা মেনে নেয় তাদের জন্য নিছক একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা মাত্র।” সূরা আল আরাফ/১৮৮।

Saturday, April 19, 2014

১৪৭. দলীল

সে বললোঃ “তোমাদের রবের অভিসম্পাত পড়েছে তোমাদের ওপর এবং তাঁর গযবও। তোমরা কি আমার সাথে এমন কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক করছো, যেগুলো তৈরী করেছো তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা এবং যেগুলোর স্বপক্ষে আল্লাহ‌ কোন সনদ নাযিল করেননি? ঠিক আছে, তোমরা অপেক্ষা করো এবং আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।” সূরা আল আরাফ/৭১।

১৪৬. যাদের কাছে আল্লাহর বাণীর দাওয়াত আসবে সেসব জাতির ব্যাপারে আল্লাহর চিরন্তন সুন্নতঃ

 আমি যখনই কোন জনপদে নবী পাঠিয়েছি, সেখানকার লোকদেরকে প্রথমে অর্থকষ্ট ও দুঃখ-দুর্দশার সম্মুখীন করেছি, একথা ভেবে যে, হয়তো তারা বিনম্র হবে ও নতি স্বীকার করবে। তারপর তাদের দুরবস্থাকে সমৃদ্ধিতে ভরে দিয়েছি। ফলে তারা প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং বলতে শুরু করেছে “আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপরও দুর্দিন ও সুদিনের আনাগোনা চলতো।” অবশেষে আমি তাদেরকে সহসাই পাকড়াও করেছি। অথচ তারা জানতেও পারেনি।  যদি জনপদের লোকেরা ঈমান আনতো এবং তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করতো, তাহলে আমি তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর রবকতসমূহের দুয়ার খুলে দিতাম। কিন্তু তারা তো প্রত্যাখ্যান করেছে। কাজেই তারা যে অসৎকাজ করে যাচ্ছিলো তার জন্য আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। সূরা আল আরাফ/৯৪-৯৬।

১৪৫. দুনিয়ার জীবনে নিশ্চিন্ত কারা?


এরা কি আল্লাহর কৌশলের ব্যাপারে নির্ভীক হয়ে গেছে? অথচ যে সব সম্প্রদায়ের ধ্বংস অবধারিত তারা ছাড়া আল্লাহর কৌশলের ব্যাপারে আর কেউ নির্ভীক হয় না। 
সূরা আল আরাফ/৯৯।

Sunday, April 6, 2014

১৪৪. গাধা

যারা আল্লাহর কিতাবকে বাদ দিয়ে অন্য সব হাজার হাজার কিতাবের জ্ঞানে জ্ঞানী তাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গাধার সাথে তুলনা করেছেন।

সূরা আল জুময়ার ৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
"যাদেরকে তাওরাতের বাহক বানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বহন করেনি তাদের উপমা সেই সব গাধা যা বই-পুস্তক বহন করে। এর চেয়েও নিকৃষ্ট উপমা সেই সব লোকের যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ এ রকম জালেমদের হিদায়াত দান করেন না।

যারা আল্লাহর আয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে তাদের সম্পর্কে সূরা আল মুদ্দাসসিরের ৪৯ থেকে ৫১ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
"এদের হলো কি যে এরা এ উপদেশবাণী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে!  যেন তারা বাঘের ভয়ে পালায়নপর বন্য গাধা।"