তাদেরকে সে অগ্নিশিখা উচ্চ স্বরে নিজের কাছে ডাকবে, যারা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল আর সম্পদ জমা করে ডিমে তা দেয়ার মত করে আগলে রেখেছিল। সূরা আল মা'আরিজ/১৭-১৮
ধবংশ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনা সামনি) লোকদের ধিক্কার দেয় এবং (পেছনে) নিন্দা করতে অভ্যস্ত।
যে অর্থ জমায় এবং তা গুণে গুণে রাখে।
সে মনে করে তার অর্থ-সম্পদ চিরকাল থাকবে।
কখনো নয়, তাকে তো চূর্ণ-বিচূর্ণকারী জায়গায় ফেলে দেয়া হবে। সূরা হুমাযাহ/১-৪।
|
Wednesday, February 19, 2014
৩৪. ধন-সম্পদ জমা করা
৩৫. অপরাধীরা সেদিন মুক্তির বিনিময়ে তাদের সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী, ভাইকে দিয়ে দিতে চাইবে
অথচ
তাদেরকে পরস্পরে দৃষ্টি সীমার মধ্যে রাখা হবে। অপরাধী সেদিনের আযাব থেকে
মুক্তির বিনিময়ে তার সন্তান-সন্ততিকে, স্ত্রীকে, ভাইকে এবং তাকে
আশ্রয়দানকারী জ্ঞাতি-গোষ্ঠীর আপনজনকে এমনকি, পৃথিবীর সবকিছুই দিতে চাইবে।
সূরা আল মা'আরিজ/১১-১৪।
৩৬. হাদীস
আল্লাহ সর্বোত্তম হাদীস নাযিল করেছেন,
এমন একটি গ্রন্থ যার সমস্ত অংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ যার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের পূনরাবৃত্তি
করা হয়েছে। এসব শুনে সে লোকদের লোম শিউরে ওঠে যারা তাদের রবকে ভয় করে। তারপর তাদের
দেহমন বিগলিত হয়ে আল্লাহর স্মরণের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এটা হচ্ছে আল্লাহর হিদায়াত। এর
দ্বারা তিনি যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে নিয়ে আসেন। আর যাকে আল্লাহ নিজেই হিদায়াত দান
করেন না তার জন্য কোন হিদায়াতকারী নেই।
সূরা যুমার-২৩
এটা একজন সম্মানিত রসূলের কথা। কোন কবির কাব্য নয়। তোমরা খুব কমই ঈমান পোষণ করে থাকো। আর এটা কোন গণকের গণনাও নয়। তোমরা খুব কমই চিন্তা-ভাবনা করে থাকো। এ বাণী বিশ্ব-জাহানের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। যদি এ নবী নিজে কোন কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিতো তাহলে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম। তোমাদের কেউ-ই (আমাকে) এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারতো না। আসলে এটি আল্লাহভীরু লোকদের জন্য একটি নসীহত। আমি জানি তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে থাকবে। নিশ্চিতভাবে তা এসব কাফেরদের জন্য অনুতাপ ও আফসোসের কারণ হবে। সূরা আল হাক্কাহ/৪০-৫০
এখন কোন হাদীসে তারা এরপর বিশ্বাস স্থাপন করবে? সূরা আল মুরসালাত-৫০
এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমাদের সামনে যথাযথভাবে বর্ণনা করছি। আল্লাহ ও তাঁর আয়াত ছাড়া এমন আর কোন হাদীস আছে যার প্রতি এরা ঈমান আনবে? সূরা আল জাসিয়াহ-৬
তাই হে নবী! এ হাদীস (কোরআন) অস্বীকারকারীদের ব্যাপার আমার ওপর ছেড়ে দাও। আমি ধীরে ধীরে এমনভাবে তাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে, তারা বুঝতেই পারবে না। সূরা আল কলম-৪৪
আর কিছু লোক আছে, যারা অপ্রয়োজনীয় হাদীসের সওদা করে যাতে লোকদেরকে জ্ঞান (কোরআন) ছাড়াই আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে এবং এ পথের আহ্বানকে হাসি-ঠাট্টা করে উড়িয়ে দেয়। এ ধরনের লোকদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব। সূরা লোকমান-৬
আল্লাহ তিনিই যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি তোমাদের সবাইকে সেই কিয়ামতের দিন একত্র করবেন, যার আসার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আর আল্লাহর হাদীসের চাইতে বেশী সত্য আর কার হাদীস হতে পারে? সূরা নিসা-৮৭
তাহলে কি এসব হাদীস (কোরআন) শুনেই তোমরা বিস্ময় প্রকাশ করছো? সূরা আন নজম/৫৯।
তাদের একথার ব্যাপারে তারা যদি সত্যবাদী হয় তাহলে এ হাদীসের (কোরআন) মত একটি হাদীস তৈরি করে আনুক। সূরা আত তুর/৩৪।
সূরা যুমার-২৩
এটা একজন সম্মানিত রসূলের কথা। কোন কবির কাব্য নয়। তোমরা খুব কমই ঈমান পোষণ করে থাকো। আর এটা কোন গণকের গণনাও নয়। তোমরা খুব কমই চিন্তা-ভাবনা করে থাকো। এ বাণী বিশ্ব-জাহানের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। যদি এ নবী নিজে কোন কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিতো তাহলে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম। তোমাদের কেউ-ই (আমাকে) এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারতো না। আসলে এটি আল্লাহভীরু লোকদের জন্য একটি নসীহত। আমি জানি তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে থাকবে। নিশ্চিতভাবে তা এসব কাফেরদের জন্য অনুতাপ ও আফসোসের কারণ হবে। সূরা আল হাক্কাহ/৪০-৫০
এখন কোন হাদীসে তারা এরপর বিশ্বাস স্থাপন করবে? সূরা আল মুরসালাত-৫০
এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমাদের সামনে যথাযথভাবে বর্ণনা করছি। আল্লাহ ও তাঁর আয়াত ছাড়া এমন আর কোন হাদীস আছে যার প্রতি এরা ঈমান আনবে? সূরা আল জাসিয়াহ-৬
তাই হে নবী! এ হাদীস (কোরআন) অস্বীকারকারীদের ব্যাপার আমার ওপর ছেড়ে দাও। আমি ধীরে ধীরে এমনভাবে তাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে, তারা বুঝতেই পারবে না। সূরা আল কলম-৪৪
আর কিছু লোক আছে, যারা অপ্রয়োজনীয় হাদীসের সওদা করে যাতে লোকদেরকে জ্ঞান (কোরআন) ছাড়াই আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে এবং এ পথের আহ্বানকে হাসি-ঠাট্টা করে উড়িয়ে দেয়। এ ধরনের লোকদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব। সূরা লোকমান-৬
আল্লাহ তিনিই যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি তোমাদের সবাইকে সেই কিয়ামতের দিন একত্র করবেন, যার আসার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আর আল্লাহর হাদীসের চাইতে বেশী সত্য আর কার হাদীস হতে পারে? সূরা নিসা-৮৭
তাহলে কি এসব হাদীস (কোরআন) শুনেই তোমরা বিস্ময় প্রকাশ করছো? সূরা আন নজম/৫৯।
তাদের একথার ব্যাপারে তারা যদি সত্যবাদী হয় তাহলে এ হাদীসের (কোরআন) মত একটি হাদীস তৈরি করে আনুক। সূরা আত তুর/৩৪।
আল কুরআন মানুষের বানানো হাদিস নয়
============================
============================
পূর্ববর্তী লোকদের এ কাহিনীর মধ্যে
বুদ্ধি ও বিবেচনা সম্পন্ন লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।
কুরআনে এ যা কিছু বর্ণনা করা হচ্ছে
এগুলো বানোয়াট হাদিস নয়
বরং এগুলো ইতিপূর্বে এসে যাওয়া
কিতাবগুলোতে বর্ণিত সত্যের সমর্থন
এবং সবকিছুর বিশদ বিবরণ।
আর যারা একে বিশ্বাস করে
এটি তাদের পরিচালক
এবং আলাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ করুণা।
বুদ্ধি ও বিবেচনা সম্পন্ন লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।
কুরআনে এ যা কিছু বর্ণনা করা হচ্ছে
এগুলো বানোয়াট হাদিস নয়
বরং এগুলো ইতিপূর্বে এসে যাওয়া
কিতাবগুলোতে বর্ণিত সত্যের সমর্থন
এবং সবকিছুর বিশদ বিবরণ।
আর যারা একে বিশ্বাস করে
এটি তাদের পরিচালক
এবং আলাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ করুণা।
সূরা ইউনূসঃ ১১১
৩৭. সাফায়াত বা সুপারিশ
(হে মুহাম্মাদ! এদেরকে সেই দিন সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দাও) যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্যে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন সাক্ষী দাঁড় করিয়ে দেবো, যে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এবং এদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবার জন্য আমি তোমাকে নিয়ে আসবো। (আর এ সাক্ষ্যের প্রস্তুতি হিসেবে) আমি এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যা সব কিছু বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে এবং যা সঠিক পথনির্দেশনা, রহমত ও সুসংবাদ বহন করে তাদের জন্য যারা আনুগত্যের শির নত করে দিয়েছে। সূরা আন নাহল/৮৯।
আর ভয় করো সেই দিনকে যেদিন কেউ কারো সামান্যতমও কাজে লাগবে না, কারো পক্ষ থেকে সুপারিশ গৃহীত হবে না, বিনিময় নিয়ে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না এবং অপরাধীরা কোথাও থেকে সাহায্য লাভ করতে পারবে না। সূরা বাকারা-৪৮
এ লোকেরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত করছে তারা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। হে মুহাম্মাদ! ওদেরকে বলে দাও, “তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ের খবর দিচ্ছো যার অস্তিত্বের কথা তিনি আকাশেও জানেন না এবং যমিনেও না!” তারা যে শিরক্ করে তা থেকে তিনি পাক-পবিত্র এবং তার উর্ধ্বে। ১০/১৮
বলো, সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইখতিয়ারাধীন। আসমান ও যমীনের বাদশাহীর মালিক তিনিই। তোমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ৩৯/৪৪
আল্লাহ এমন এক চিরঞ্জীব ও চিরন্তন সত্তা যিনি সমগ্র বিশ্ব-জাহানের দায়িত্বভার বহন করছেন, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি ঘুমান না এবং তন্দ্রাও তাঁকে স্পর্শ করে না। পৃথিবী ও আকাশে যা কিছু আছে সবই তাঁর। কে আছে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? যা কিছু মানুষের সামনে আছে তা তিনি জানেন এবং যা কিছু তাদের অগোচরে আছে সে সম্পর্কেও তিনি অবগত। তিনি নিজে যে জিনিসের জ্ঞান মানুষকে দিতে চান সেটুকু ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর কর্তৃত্ব আকাশ ও পৃথিবী ব্যাপী। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষন তাঁকে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত করে না। মূলত তিনিই এক মহান ও শ্রেষ্ঠ সত্তা। ২/২৫৫
সেই পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি পৃথিবী ও আকাশসমূহের এবং তাদের মধ্যবর্তী প্রত্যেকটি জিনিসের মালিক, যার সামনে কারো কথা বলার শক্তি থাকবে না। যেদিন রূহ ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে। পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যে ঠিক কথা বলবে, সে ছাড়া আর কেউ কথা বলবে না। ৭৮/৩৭-৩৮
আল্লাহই আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এদের মাঝখানে যা কিছু আছে সব সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে এবং এরপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই এবং নেই তার সামনে সুপারিশকারী, তারপরও কি তোমরা সচেতন হবে না? ৩২/৪
মৃত্যর সময় আল্লাহই রূহসমূহ কবজ করেন আর যে এখনো মরেনি নিদ্রাবস্থায় তার রূহ কবজ করেন। অতঃপর যার মৃত্যুর ফায়সালা কার্যকরী হয় তাকে রেখে দেন এবং অন্যদের রূহ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফেরত পাঠান। যারা চিন্তা-ভাবনা করে তাদের জন্য এর মধ্যে বড় নিদর্শন রয়েছে।
এসব লোক কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে সুপারিশকারী বানিয়ে রেখেছে? তাদেরকে বলো, তাদের ক্ষমতা ও ইখতিয়ারে যদি কিছু না থাকে এবং তারা কিছু না বুঝে এমতাবস্থায়ও কি সুপারিশ করবে? বলো, সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইখতিয়ারাধীন।
আসমান ও যমীনের বাদশাহীর মালিক তিনিই। তোমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন শুধু আল্লাহর কথা বলা হয়, তখন যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের মন কষ্ট অনুভব করে। আর যখন তাকে বাদ দিয়ে অন্যদের কথা বলা হয় তখন তারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে।
সূরা আয যুমার/৪২-৪৫।
আর ভয় করো সেই দিনকে যেদিন কেউ কারো সামান্যতমও কাজে লাগবে না, কারো পক্ষ থেকে সুপারিশ গৃহীত হবে না, বিনিময় নিয়ে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না এবং অপরাধীরা কোথাও থেকে সাহায্য লাভ করতে পারবে না। সূরা বাকারা-৪৮
এ লোকেরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত করছে তারা তাদের ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। হে মুহাম্মাদ! ওদেরকে বলে দাও, “তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ের খবর দিচ্ছো যার অস্তিত্বের কথা তিনি আকাশেও জানেন না এবং যমিনেও না!” তারা যে শিরক্ করে তা থেকে তিনি পাক-পবিত্র এবং তার উর্ধ্বে। ১০/১৮
বলো, সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইখতিয়ারাধীন। আসমান ও যমীনের বাদশাহীর মালিক তিনিই। তোমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ৩৯/৪৪
আল্লাহ এমন এক চিরঞ্জীব ও চিরন্তন সত্তা যিনি সমগ্র বিশ্ব-জাহানের দায়িত্বভার বহন করছেন, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি ঘুমান না এবং তন্দ্রাও তাঁকে স্পর্শ করে না। পৃথিবী ও আকাশে যা কিছু আছে সবই তাঁর। কে আছে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? যা কিছু মানুষের সামনে আছে তা তিনি জানেন এবং যা কিছু তাদের অগোচরে আছে সে সম্পর্কেও তিনি অবগত। তিনি নিজে যে জিনিসের জ্ঞান মানুষকে দিতে চান সেটুকু ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর কর্তৃত্ব আকাশ ও পৃথিবী ব্যাপী। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষন তাঁকে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত করে না। মূলত তিনিই এক মহান ও শ্রেষ্ঠ সত্তা। ২/২৫৫
সেই পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি পৃথিবী ও আকাশসমূহের এবং তাদের মধ্যবর্তী প্রত্যেকটি জিনিসের মালিক, যার সামনে কারো কথা বলার শক্তি থাকবে না। যেদিন রূহ ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে। পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যে ঠিক কথা বলবে, সে ছাড়া আর কেউ কথা বলবে না। ৭৮/৩৭-৩৮
আল্লাহই আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এদের মাঝখানে যা কিছু আছে সব সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে এবং এরপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই এবং নেই তার সামনে সুপারিশকারী, তারপরও কি তোমরা সচেতন হবে না? ৩২/৪
মৃত্যর সময় আল্লাহই রূহসমূহ কবজ করেন আর যে এখনো মরেনি নিদ্রাবস্থায় তার রূহ কবজ করেন। অতঃপর যার মৃত্যুর ফায়সালা কার্যকরী হয় তাকে রেখে দেন এবং অন্যদের রূহ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফেরত পাঠান। যারা চিন্তা-ভাবনা করে তাদের জন্য এর মধ্যে বড় নিদর্শন রয়েছে।
এসব লোক কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে সুপারিশকারী বানিয়ে রেখেছে? তাদেরকে বলো, তাদের ক্ষমতা ও ইখতিয়ারে যদি কিছু না থাকে এবং তারা কিছু না বুঝে এমতাবস্থায়ও কি সুপারিশ করবে? বলো, সুপারিশ সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইখতিয়ারাধীন।
আসমান ও যমীনের বাদশাহীর মালিক তিনিই। তোমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন শুধু আল্লাহর কথা বলা হয়, তখন যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের মন কষ্ট অনুভব করে। আর যখন তাকে বাদ দিয়ে অন্যদের কথা বলা হয় তখন তারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে।
সূরা আয যুমার/৪২-৪৫।
৩৮. কিতাব
এটি সেই কিতাব, যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। এটি হিদায়াত তাদের জন্য যারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেক বেঁচে থাকতে চায়। ২/২
আর যে কিতাব তোমাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন) এবং তোমার আগে যেসব কিতাব নাযিল করা হয়েছিল সে সবগুলোর ওপর ঈমান আনে আর আখেরাতের ওপর একীন রাখে। ২/৪
আর যে কিতাবটি আমি আমার বান্দার ওপর নাযিল করেছি সেটি আমার কিনা- এ ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দেহ পোষণ করে থাকো তাহলে তার মতো একটি সূরা তৈরি করে আনো এবং নিজেদের সমস্ত সমর্থক গোষ্ঠীকে ডেকে আনো – এক আল্লাহকে ছাড়া আর যার যার চাও তার সাহায্য নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে এ কাজটি করে দেখাও। কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো আর নিঃসন্দেহে কখনই তোমরা এটা করতে পারবে না, তাহলে ভয় করো সেই আগুনকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা তৈরি রাখা হয়েছে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য। আর হে নবী, যারা এ কিতাবের ওপর ঈমান আনবে এবং (এর বিধান অনুযায়ী) নিজেদের কার্যধারা সংশোধন করে নেবে তাদেরকে এ মর্মে সুখবর দাও যে, তাদের জন্য এমন সব বাগান আছে যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা। সেই বাগানের ফল দেখতে দুনিয়ার ফলের মতই হবে। যখন কোন ফল তাদের দেয়া হবে খাবার জন্য, তারা বলে উঠবেঃ এ ধরনের ফলই ইতিপূর্বে দুনিয়ায় আমাদের দেয়া হতো। সেখানে থাকবে পাক-পবিত্র দম্পতিগণ এবং তারা সেখানে থাকবে চিরকাল। ২/২৩-২৫
আমরা বললাম, “তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। এরপর যখন আমার পক্ষ থেকে কোন হিদায়াত তোমাদের কাছে পৌঁছুবে তখন যারা আমার সেই হিদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের জন্য থাকবে না কোন ভয় দুঃখ বেদনা। আর যারা একে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে এবং আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেবে তারা হবে আগুনের মধ্যে প্রবেশকারী। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।” ২/৩৮-৩৯
আর যে কিতাব তোমাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে (অর্থাৎ কুরআন) এবং তোমার আগে যেসব কিতাব নাযিল করা হয়েছিল সে সবগুলোর ওপর ঈমান আনে আর আখেরাতের ওপর একীন রাখে। ২/৪
আর যে কিতাবটি আমি আমার বান্দার ওপর নাযিল করেছি সেটি আমার কিনা- এ ব্যাপারে যদি তোমরা সন্দেহ পোষণ করে থাকো তাহলে তার মতো একটি সূরা তৈরি করে আনো এবং নিজেদের সমস্ত সমর্থক গোষ্ঠীকে ডেকে আনো – এক আল্লাহকে ছাড়া আর যার যার চাও তার সাহায্য নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে এ কাজটি করে দেখাও। কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো আর নিঃসন্দেহে কখনই তোমরা এটা করতে পারবে না, তাহলে ভয় করো সেই আগুনকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা তৈরি রাখা হয়েছে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য। আর হে নবী, যারা এ কিতাবের ওপর ঈমান আনবে এবং (এর বিধান অনুযায়ী) নিজেদের কার্যধারা সংশোধন করে নেবে তাদেরকে এ মর্মে সুখবর দাও যে, তাদের জন্য এমন সব বাগান আছে যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা। সেই বাগানের ফল দেখতে দুনিয়ার ফলের মতই হবে। যখন কোন ফল তাদের দেয়া হবে খাবার জন্য, তারা বলে উঠবেঃ এ ধরনের ফলই ইতিপূর্বে দুনিয়ায় আমাদের দেয়া হতো। সেখানে থাকবে পাক-পবিত্র দম্পতিগণ এবং তারা সেখানে থাকবে চিরকাল। ২/২৩-২৫
আমরা বললাম, “তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। এরপর যখন আমার পক্ষ থেকে কোন হিদায়াত তোমাদের কাছে পৌঁছুবে তখন যারা আমার সেই হিদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের জন্য থাকবে না কোন ভয় দুঃখ বেদনা। আর যারা একে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে এবং আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেবে তারা হবে আগুনের মধ্যে প্রবেশকারী। সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।” ২/৩৮-৩৯
৩৯. বর্তমান ইসলামী আন্দোলনের যেন বাস্তব চিত্র
হে নবী! তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা এই মর্মে দাবী করে চলেছে যে, তারা
ঈমান এনেছে সেই কিতাবের প্রতি যা তোমার ওপর নাযিল করা হয়েছে এবং সেই সব
কিতাবের প্রতি যেগুলো তোমরা পূর্বে নাযিল করা হয়েছিল কিন্তু তারা নিজেদের
বিষয়সমূহ ফায়সালা করার জন্য ‘তাগুতে’র দিকে ফিরতে চায়, অথচ তাদেরকে তাগুতকে
অস্বীকার করার হুকুম দেয়া হয়েছিল? শয়তান তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে সরল সোজা পথ
থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। আর যখন তাদেরকে বলা হয়, এসো সেই
জিনিসের দিকে, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং এসো রসূলের দিকে, তখন তোমরা
দেখতে পাও ঐ মুনাফিকরা তোমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।
তারপর তখন তাদের কী অবস্থা হয় যখন তাদের কৃতকর্মের ফল স্বরূপ তাদের ওপর
কোন বিপদ এসে পড়ে? তখন তারা কসম খেতে খেতে তোমার কাছে আসে এবং বলতে থাকেঃ
আল্লাহর কসম, আমরা তো কেবল মঙ্গল চেয়েছিলাম এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো
প্রকারে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাক, এটিই ছিল আমাদের বাসনা। আল কোরআনঃ ৪/৬০-৬২
৪০. রাসূল (দঃ) এর পরিচয়
এদের বলো, ‘আমি কোন অভিনব রসূল নই। কাল তোমাদের সাথে কী আচরণ করা হবে এবং
আমার সাথেই বা কী আচরণ করা হবে তা আমি জানি না। আমি তো কেবল সেই অহীর
অনুসরণ করি যা আমার কাছে পাঠানো হয় এবং আমি সুস্পষ্ট সাবধানকারী ছাড়া আর
কিছুই নই। ৪৬/৯
হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলো, “আমি তোমাদের একথা বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভাণ্ডার আছে, আমি গায়েবের জ্ঞানও রাখি না এবং তোমাদের একথাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো কেবলমাত্র সে অহীর অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি নাযিল করা হয়।” তারপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা-ভাবনা করো না? ৬/৫০
হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলো, নিজের জন্য লাভ-ক্ষতির কোন ইখতিয়ার আমার নেই। একমাত্র আল্লাহই যা কিছু চান তাই হয়। আর যদি আমি গায়েবের খবর জানতাম, তাহলে নিজের জন্য অনেক ফায়দা হাসিল করতে পারতাম এবং কখনো আমার কোন ক্ষতি হতো না। আমি তো যারা আমার কথা মেনে নেয় তাদের জন্য নিছক একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা মাত্র।” ৭/১৮৮
হে মুহাম্মাদ! বলো, আমি তো একজন মানুষ তোমাদেরই মতো, আমার প্রতি অহী করা হয় এ মর্মে যে, এক আল্লাহ তোমাদের ইলাহ, কাজেই যে তার রবের সাক্ষাতের প্রত্যাশী তার সৎকাজ করা উচিত এবং বন্দেগীর ক্ষেত্রে নিজের রবের সাথে কাউকে শরীক করা উচিত নয়। ১৮/১১০
তোমাদের রব তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে বেশী জানেন। তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং চাইলে তোমাদের শাস্তি দেন। আর হে নবী! আমি তোমাকে লোকদের ওপর হাবিলদার করে পাঠাইনি। ১৭/৫৪
মুহাম্মাদ একজন রসূল বৈ তো আর কিছুই নয়। তার আগে আরো অনেক রসূলও চলে গেছে। যদি সে মারা যায় বা নিহত হয়, তাহলে তোমরা কি পেছনের দিকে ফিরে যাবে? মনে রেখো, যে পেছনের দিকে ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করবে না, তবে যারা আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে থাকবে তাদেরকে তিনি পুরস্কৃত করবেন। ৩/১৪৪
মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে কারোর পিতা নয় কিন্তু সে আল্লাহর রসূল এবং শেষ নবী আর আল্লাহ সব জিনিসের জ্ঞান রাখেন। ৩৩/৪০
এভাবেই (হে মুহাম্মাদ) , আমি আমার নির্দেশে তোমার কাছে এক রূহকে অহী করেছি। তুমি আদৌ জানতে না কিতাব কি এবং ঈমানই বা কি। কিন্তু সেই রূহকে আমি একটি আলো বানিয়ে দিয়েছি যা দিয়ে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথ দেখিয়ে থাকি। নিশ্চিতভাবেই আমি তোমাকে সোজা পথের দিক নির্দেশনা দান করছি। ৪২/৫২
[হে নবী (সা)] তোমাকেও মরতে হবে এবং এসব লোককেও মরতে হবে। সূরা জুমার/৩০
হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলো, “আমি তোমাদের একথা বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভাণ্ডার আছে, আমি গায়েবের জ্ঞানও রাখি না এবং তোমাদের একথাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো কেবলমাত্র সে অহীর অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি নাযিল করা হয়।” তারপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা-ভাবনা করো না? ৬/৫০
হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলো, নিজের জন্য লাভ-ক্ষতির কোন ইখতিয়ার আমার নেই। একমাত্র আল্লাহই যা কিছু চান তাই হয়। আর যদি আমি গায়েবের খবর জানতাম, তাহলে নিজের জন্য অনেক ফায়দা হাসিল করতে পারতাম এবং কখনো আমার কোন ক্ষতি হতো না। আমি তো যারা আমার কথা মেনে নেয় তাদের জন্য নিছক একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা মাত্র।” ৭/১৮৮
হে মুহাম্মাদ! বলো, আমি তো একজন মানুষ তোমাদেরই মতো, আমার প্রতি অহী করা হয় এ মর্মে যে, এক আল্লাহ তোমাদের ইলাহ, কাজেই যে তার রবের সাক্ষাতের প্রত্যাশী তার সৎকাজ করা উচিত এবং বন্দেগীর ক্ষেত্রে নিজের রবের সাথে কাউকে শরীক করা উচিত নয়। ১৮/১১০
তোমাদের রব তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে বেশী জানেন। তিনি চাইলে তোমাদের প্রতি দয়া করেন এবং চাইলে তোমাদের শাস্তি দেন। আর হে নবী! আমি তোমাকে লোকদের ওপর হাবিলদার করে পাঠাইনি। ১৭/৫৪
মুহাম্মাদ একজন রসূল বৈ তো আর কিছুই নয়। তার আগে আরো অনেক রসূলও চলে গেছে। যদি সে মারা যায় বা নিহত হয়, তাহলে তোমরা কি পেছনের দিকে ফিরে যাবে? মনে রেখো, যে পেছনের দিকে ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করবে না, তবে যারা আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে থাকবে তাদেরকে তিনি পুরস্কৃত করবেন। ৩/১৪৪
মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে কারোর পিতা নয় কিন্তু সে আল্লাহর রসূল এবং শেষ নবী আর আল্লাহ সব জিনিসের জ্ঞান রাখেন। ৩৩/৪০
এভাবেই (হে মুহাম্মাদ) , আমি আমার নির্দেশে তোমার কাছে এক রূহকে অহী করেছি। তুমি আদৌ জানতে না কিতাব কি এবং ঈমানই বা কি। কিন্তু সেই রূহকে আমি একটি আলো বানিয়ে দিয়েছি যা দিয়ে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথ দেখিয়ে থাকি। নিশ্চিতভাবেই আমি তোমাকে সোজা পথের দিক নির্দেশনা দান করছি। ৪২/৫২
[হে নবী (সা)] তোমাকেও মরতে হবে এবং এসব লোককেও মরতে হবে। সূরা জুমার/৩০
৪১. কবি ও কবিতা
হে লোকেরা! আমি তোমাদের জানাবো শয়তানরা কার ওপর অবতীর্ণ হয়?
তারা তো প্রত্যেক জালিয়াত বদকারের উপর অবতীর্ণ হয়। শোনা কথা কানে ঢুকিয়ে
দেয় এবং এর বেশির ভাগই হয় মিথ্যা। আর কবিরা! তাদের পেছনে চলে পথভ্রান্ত
যারা। তুমি কি দেখো না তারা উপত্যকায় উপত্যকায় উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়
এবং এমনসব কথা বলে যা তারা করে না? তারা ছাড়া যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরন করে আর তাদের প্রতি জুলুম করা হলে শুধুমাত্র প্রতিশোধ নেয়। আর জুলুমকারীরা শীঘ্রই জানবে তাদের পরিণাম কি!
আল কোরআনঃ ২৬/২২১-২২৭
আমি এ (নবী)-কে কবিতা শিখাইনি এবং কাব্য চর্চা তার জন্য শোভনীয়ও নয়। এ তো একটি উপদেশ এবং পরিষ্কার পঠনযোগ্য কিতাব। ৩৬/৬৯
আল কোরআনঃ ২৬/২২১-২২৭
আমি এ (নবী)-কে কবিতা শিখাইনি এবং কাব্য চর্চা তার জন্য শোভনীয়ও নয়। এ তো একটি উপদেশ এবং পরিষ্কার পঠনযোগ্য কিতাব। ৩৬/৬৯
৪২. দুনিয়াপুজারী ব্যক্তির উদাহরন কুকুরের মতো যে কোরআনের অনুসরন করতে সক্ষম হবে না
আমি চাইলে ঐ আয়াতগুলোর সাহায্যে তাকে
উচ্চ মর্যাদা দান করতাম কিন্তু সে তো দুনিয়ার প্রতিই ঝুঁকে রইল এবং নিজের
প্রবৃত্তির অনুসরণ করলো। কাজেই তার অবস্থা হয়ে গেল কুকুরের মত, তার ওপর আক্রমণ
করলেও সে জিভ ঝুলিয়ে রাখে আর আক্রমণ না করলেও জিভ ঝুলিয়ে রাখে। যারা আমার
আয়াতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে তাদের দৃষ্টান্ত এটাই। তুমি এ কাহিনী তাদেরকে শুনাতে
থাকো, হয়তো তারা কিছু চিন্তা-ভাবনা করবে। সূরা
আরাফ/১৭৬
৪৩. শয়তান তোমাদের দারিদ্রের ভয় দেখায়
শয়তান
তোমাদের দারিদ্রের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজ করতে
আদেশ করে কিন্তু
আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর ক্ষমা ও অনুগ্রহের আশ্বাস দেন। আল্লাহ বড়ই উদারহস্ত ও মহাজ্ঞানী। সূরা বাকারা-২৬৮
৪৪. অজু, গোসল, তায়াম্মুম
হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা প্রার্থনার জন্য
তৈরী হও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত দু’টি কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো, মাথার
ওপর হাত বুলাও এবং পা দু’টি গোড়ালী পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো যদি তোমরা
‘জানাবাত’ অবস্থায় থাকো, তাহলে গোসল করে পাক সাফ হয়ে যাও। যদি তোমরা
রোগগ্রস্ত হও বা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ
করে আসে বা তোমরা নারীদেরকে স্পর্শ করে থাকো এবং পানি না পাও, তাহলে
পাক-পবিত্র মাটি দিয়ে কাজ সেরে নাও। তার ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের
ওপর মসেহ করে নাও। আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না
কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পাক-পবিত্র করতে এবং তাঁর নিয়ামত তোমাদের ওপর
সম্পূর্ণ করে দিতে, হয়তো তোমরা শোকর গুজার হবে। আল মায়েদাহ-৬
৪৫. সালাত বা প্রার্থনা
প্রার্থনা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যঃ
আমিই আল্লাহ,
আমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই,
কাজেই তুমি আমার দাসত্ব করো
এবং আমাকে স্মরণ করার জন্য প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো।
(সূরা ত্বহা/১৪।)
প্রার্থনা প্রতিষ্ঠার সময়ঃ
প্রার্থনা প্রতিষ্ঠা করো দিনের দু’প্রান্তে
এবং রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত।
আসলে সৎকাজ অসৎকাজকে দূর করে দেয়।
এটি একটি স্মারক তাদের জন্য যারা আল্লাহকে স্মরণ রাখে।
(সূরা হুদ/১১৪।)
প্রার্থনা প্রতিষ্ঠা করো
সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে নিয়ে
রাতের অন্ধকার পর্যন্ত
এবং ভোরবেলায় কুরআন পড়ারও ব্যবস্থা করো।
কারণ ভোরের কুরআন পাঠ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।
(সূরা বনী ইসরাঈল/৭৮।)
হে বিশ্বাসীগণ!
তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসী
এবং তোমাদের এমন সব সন্তান
যারা এখনো বুদ্ধির সীমানায় পৌঁছেনি,
তাদের অবশ্যি তিনটি সময়ে অনুমতি নিয়ে
তোমাদের কাছে আসা উচিতঃ
ভোরের প্রার্থনার আগে,
দুপুরে যখন তোমরা পোশাক ছেড়ে রেখে দাও
এবং সন্ধ্যার প্রার্থনার পর।
এ তিনটি তোমাদের গোপনীয়তার সময়।
এরপরে তারা বিনা অনুমতিতে এলে
তোমাদের কোন পাপ নেই এবং তাদেরও না।
তোমাদের পরস্পরের কাছে বারবার আসতেই হয়।
এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য
নিজের বাণী সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন
এবং তিনি সবকিছু জানেন ও বিজ্ঞ।
(সূরা আন নূর/৫৮।)
প্রার্থনার কোরআনিক উদাহরণ ও নির্দেশনাঃ
হে বিশ্বাসীগণ!
যখন তোমরা প্রার্থনার জন্য তৈরী হও,
তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত দু’টি
কনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলো,
মাথার ওপর হাত বুলাও
এবং পা দু’টিও গোড়ালী পর্যন্ত।
যদি তোমরা অপরিচ্ছন্ন থাক , তাহলে পরিচ্ছন্ন হয়ে নাও।
যদি তোমরা রোগগ্রস্ত হও বা সফরে থাকো
অথবা তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে
বা নারী সম্ভোগ করে থাকো এবং পানি না পাও,
তাহলে পরিচ্ছন্ন মাটি দিয়ে কাজ সেরে নাও।
তার ওপর হাত রেখে নিজের চেহারা ও হাতের ওপর মুছে নাও।
আল্লাহ তোমাদের জন্য জীবনকে সংকীর্ণ করে দিতে চান না
কিন্তু তিনি চান তোমাদেরকে পরিচ্ছন্ন করতে
এবং তাঁর অনুগ্রহ তোমাদের ওপর সম্পূর্ণ করে দিতে,
হয়তো তোমরা কৃতজ্ঞ হবে।
(সূরা আল মায়েদাহ-৬।)
হে বিশ্বাসীগণ!
তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রার্থনা করো না।
প্রার্থনা তখন করা উচিত
যখন তোমরা যা বলছো তা বুঝতে পারো।
অনুরূপভাবে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায়ও
যতক্ষন না তা ধূয়ে পরিস্কার করে নাও।
তবে যদি ভ্রমনরত থাকো, তাহলে ভিন্ন কথা।
আর যদি কখনো তোমরা অসুস্থ হয়ে পড়ো, সফরে থাকো
বা তোমাদের কেউ মলমূত্র ত্যাগ করে আসে
অথবা তোমরা নারী সম্ভোগ করে থাকো
এবং এরপর পানি না পাও,
তাহলে পাক–পবিত্র মাটির সাহায্য গ্রহণ করো
এবং তা নিজেদের চেহারা ও হাতের ওপর বুলাও।
নিঃসন্দেহে আল্লাহ কোমলতা অবলম্বনকারী ও ক্ষমাশীল।
(সূরা নিসা/৪৩।)
আর যখন তোমরা ভ্রমনরত থাকো
তখন প্রার্থনা সংক্ষেপ করে নিলে কোন ক্ষতি নেই।
(বিশেষ করে) যখন তোমাদের আশঙ্কা হয় যে,
অবিশ্বাসীরা তোমাদেরকে কষ্ট দেবে।
কারণ তারা প্রকাশ্যে তোমাদের শত্রুতা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
যখন তুমি তাদের মধ্যে থাকো
তখন তাদেরকে নিয়ে প্রার্থনায় দাঁড়াও।
তখন তাদের মধ্য থেকে একটি দলের
তোমার সাথে দাঁড়িয়ে যাওয়া উচিত এবং তারা অস্ত্রসস্ত্র সঙ্গে নেবে।
তারপর তারা আল্লাহর সামনে মস্তক অবনমিত করবে ও পেছনে চলে যাবে
এবং দ্বিতীয় দলটি, যারা এখনো প্রার্থনা করেনি,
তারা এসে তোমার সাথে প্রার্থনা করবে।
আর তারাও সতর্ক থাকবে এবং নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র বহন করবে।
কারণ অবিশ্বাসীরা সুযোগের অপেক্ষায় আছে,
তোমরা নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র ও জিনিস পত্রের দিক থেকে সামান্য গাফেল হলেই
তারা তোমাদের ওপর অকস্মাৎ ঝাঁপিয়ে পড়বে।
তবে যদি তোমরা বৃষ্টির কারণে কষ্ট অনুভব করো অথবা অসুস্থ থাকো,
তাহলে অস্ত্র রেখে দিলে কোন ক্ষতি নেই।
কিন্তু তবুও সতর্ক থাকো।
নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো,
আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
তারপর তোমরা প্রার্থনা শেষ করার পর
দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো।
আর মানসিক প্রশান্তি লাভ করার পর
(জীবনের সকল ক্ষেত্রে) প্রার্থনা প্রতিষ্ঠিত করো।
আসলে নির্ধারিত সময়ে প্রার্থনা বিশ্বাসীদের জন্য লিখে দেয়া হয়েছে।
(সূরা নিসা /১০১-১০৩)
তোমাদের প্রার্থনাসমূহের সংরক্ষণ করো,
বিশেষ করে এমন প্রার্থনা
যা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরীর মাধ্যম।
আল্লাহর সামনে এমনভাবে দাঁড়াও
যেমন অনুগত সেবকরা দাঁড়ায়।
(সূরা আল বাকারাহ/২৩৮)
যারাঃ নিজেদের প্রার্থনায় বিনয়াবনত থাকে।
(সূরা আল মুমিনুন/২)
এবং নিজেদের প্রার্থনাসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করে।
(সূরা আল মুমিনুন/৯)
এদেরকে বলে দাও,
আল্লাহ বা দয়াময় যে নামেই ডাকো না কেন,
তাঁর জন্য সবই ভাল নাম।
আর নিজের প্রার্থনা খুব বেশী উচ্চ কণ্ঠেও করবে না,
বেশী ক্ষীণ কণ্ঠেও না,
বরং এ দু’য়ের মাঝামাঝি মধ্যম পর্যায়ের কণ্ঠস্বর অবলম্বন করবে।
আর বলো,
সেই আল্লাহর প্রশংসা,
যিনি কোন পুত্রও গ্রহণ করেননি।
তাঁর বাদশাহীতে কেউ অংশীদারও হয়নি
এবং তিনি এমন অক্ষমও নন যে,
কেউ তাঁর সাহায্যকারী ও নির্ভরতা হবে।”
আর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করো,
চূড়ান্ত পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব।
(সূরা বনী ইসরাঈল-১১০।)
এ অবস্থা দেখে
যাকারিয়া তার প্রভূর কাছে প্রার্থনা করলোঃ
“প্রভূ! তোমরা বিশেষ ক্ষমতা বলে আমাকে সৎ সন্তান দান করো।
তুমিই প্রার্থনা শ্রবণকারী।”
যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করছিলেন।
তখন এর জবাবে তাকে মালাইকাগণ বললোঃ
“আল্লাহ্ তোমাকে ইয়াহইয়ার সুসংবাদ দান করেছেন।
সে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আদেশের সত্যতা প্রমাণকারী হিসেবে আসবে।
তার মধ্যে নেতৃত্ব ও সততার গুণাবলী থাকবে।
সে পরিপূর্ণ সংযমী হবে, আল্লাহর বানী বলবে
এবং সৎকর্মশীলদের মধ্যে গণ্য হবে।”
(সূরা আলে ইমরান ৩৮-৩৯)
তুমি কি দেখনা!
আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করেছে
যারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে আছে তারা সবাই
এবং যে পাখিরা ডানা বিস্তার করে আকাশে ওড়ে।
প্রত্যেকেই জানে তার প্রার্থনা ও পবিত্রতা বর্ণনা করার পদ্ধতি।
আর এরা যা কিছু করে আল্লাহ তা জানেন।
(সূরা আন নূর, ৪১)
প্রকৃত প্রার্থনাকারীদের বৈশিষ্ট্যঃ
তবে যারা প্রার্থনাকারী।
তারা তাদের প্রার্থনায় অবিচল থাকে।
তাদের সম্পদে নির্দিষ্ট অধিকার আছে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের।
তারা প্রতিফলের দিনটিকে সত্য বলে মানে।
তারা তাদের লালন পালনকারীর শাস্তিকে ভয় করে।
কারণ তাদের লালন পালনকারীর শাস্তি এমন বস্তু নয়
যা সম্পর্কে নির্ভয় থাকা যায়।
তারা নিজেদের লজ্জাস্থান
নিজের স্ত্রী অথবা মালিকানাধীন স্ত্রীলোকদের ছাড়া
অন্যদের থেকে রক্ষা করে।
স্ত্রী ও মালিকানাধীন স্ত্রীলোকদের ক্ষেত্রে তারা তিরস্কৃত হবে না।
তবে যারা এর বাইরে আর কেউকে চাইবে
তারা সীমালংঘনকারী।
যারা আমানত রক্ষা করে ও প্রতিশ্রুতি পালন করে।
আর তারা সাক্ষ্য দানের ক্ষেত্রে সততার ওপর অটল থাকে।
তারা প্রার্থনার রক্ষনাবেক্ষণ করে।
এসব লোক সম্মানের সাথে বাগানসমূহে অবস্থান করবে।
(সূরা আল মা'আরিজ/২২-৩৫)
কিতাব থেকে তোমার প্রতি যা অহি করা হয়
(সূরা আল আনকাবুত/৪৫)
দু'মুখো লোকদের প্রার্থনাঃএই দু'মুখো লোকেরা আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করছে।
অথচ আল্লাহই তাদেরকে ধোঁকার মধ্যে ফেলে রেখে দিয়েছেন।
তারা যখন প্রার্থনার জন্য ওঠে,
আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে শৈথিল্য সহকারে
নিছক লোক দেখাবার জন্য ওঠে
এবং আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে।
(সূরা নিসা, ১৪২)
তাদের দেয়া সম্পদ গৃহীত না হবার
এছাড়া আর কোন কারণ নেই যে,
তারা আল্লাহ ও তাঁর বার্তাবাহককে অস্বীকার করেছে,
প্রার্থনার জন্য যখন আসে আড়মোড় ভাংতে ভাংতে আসে
এবং আল্লাহর পথে খরচ করলে তা করে অনিচ্ছাকৃত ভাবে।
(সূরা তওবা/৫৪)
নবীদের পরই প্রার্থনা বিকৃত করা হয়েছেঃ
তারপর এদের পর এমন নালায়েক লোকেরা এদের স্থলাভিষিক্ত হলো
যারা প্রার্থনাকে বিকৃত করলো এবং প্রবৃত্তির কামনার দাসত্ব করলো। তাই শীঘ্রই তারা বিভ্রান্তির মুখোমুখি হবে। (সূরা মারয়াম, ৫৯)
প্রার্থনা না করার পরিনামঃ
সেখানে তারা অপরাধীদের জিজ্ঞেস করতে থাকবে
কিসে তোমাদের দোযখে নিক্ষেপ করলো।
তারা বলবেঃ আমরা প্রার্থনাকারী ছিলাম না।
অভাবীদের খাবার দিতাম না।
সত্যের বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারীদের সাথে মিলে আমরাও রটনা করতাম;
প্রতিফল দিবস মিথ্যা মনে করতাম।
শেষ পর্যন্ত আমরা সে নিশ্চিত জিনিসের মুখোমুখি হয়েছি।
(সূরা আল মুদ্দাসসির, ৪৩-৪৭)সেদিন কিছু সংখ্যক চেহারা তরতাজা থাকবে।
নিজের রবের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখবে।
আর কিছু সংখ্যক চেহারা থাকবে উদাস-বিবর্ণ।
মনে করতে থাকবে যে,
তাদের সাথে কঠোর আচরণ করা হবে।
কখ্খনো না,যখন প্রাণ কণ্ঠনালীতে উপনীত হবে
এবং বলা হবে, ঝাঁড় ফুঁক করার কেউ আছে কি?
মানুষ বুঝে নেবে এটা বিদায় নেয়ার সময়।
উভয় পায়ের গোছা বা নলা একত্র হয়ে যাবে।
সেদিনটি হবে তোমার প্রভুর কাছে যাত্রা করার দিন।
অথচ সে সত্যকে অনুসরণও করেনি।
প্রার্থনাও করেনি।
বরং সে অস্বীকার করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
তারপর গর্বিত ভঙ্গিতে
নিজের পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে গিয়েছে।
(সূরা আল কিয়ামাহ/২২-৩৩)
তারপর সেই প্রার্থনাকারীদের জন্য ধ্বংস
যারা নিজেদের প্রার্থনার ব্যাপারে উদাসীন।
যারা লোক দেখানো কাজ করে।
(সূরা আল মাউন/৪-৬)
Tuesday, February 18, 2014
৪৬. অধিকাংশ লোকই খারাপ
আর হে মুহাম্মাদ! যদি তুমি দুনিয়ায় বসবাসকারী অধিকাংশ লোকের কথায় চলো তাহলে
তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলবে। তারা তো চলে নিছক
আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে এবং তারা কেবল আন্দাজ-অনুমানই করে থাকে। সূরা আল
আন'আম-১১৬
তারপর যে ব্যক্তি তার রবের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট সাক্ষ্যের অধিকারী ছিল, এরপর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন সাক্ষীও (এ সাক্ষ্যের সমর্থনে) এসে গেছে এবং পথপ্রদর্শক ও অনুগ্রহ হিসেবে পূর্বে আগত মূসার কিতাবও বর্তমান ছিল (এ অবস্থায় সে ব্যক্তিও কি দুনিয়া পূজারীদের মতো তা অস্বীকার করতে পারে?) এ ধরনের লোকেরা তো তার প্রতি ঈমান আনবেই, আর মানব গোষ্ঠীর মধ্য থেকে যে-ই একে অস্বীকার করে তার জন্য যে জায়গার ওয়াদা করা হয়েছে তা হচ্ছে দোযখ। কাজেই হে নবী! তুমি এ জিনিসের ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহে পড়ে যেয়ো না, এতো তোমার রবের পক্ষ থেকে পাঠানো সত্য। তবে বেশীর ভাগ লোক তা স্বীকার করে না। সূরা হুদ-১৭
কিন্তু তুমি যতই চাওনা কেন অধিকাংশ লোক তা মানবে না। ইউসুফ-১০৩
তাদের বেশীর ভাগ আল্লাহকে মানে কিন্তু তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে। ইউসুফ-১০৬
আলিম লাম মীম র। এগুলো আল্লাহর কিতাবের আয়াত। আর তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা কিছু নাযিল হয়েছে তা প্রকৃত সত্য কিন্তু অধিকাংশ লোক তা বিশ্বাস করে না। সূরা আর রাদ-১
কখনো কি তুমি সেই ব্যক্তির অবস্থা ভেবে দেখেছো, যে তার নিজের প্রবৃত্তির কামনাকে প্রভু রূপে গ্রহণ করেছে? তুমি কি এহেন ব্যক্তিকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব নিতে পার? তুমি কি মনে করো তাদের অধিকাংশ লোক শোনে ও বোঝে? তারা পশুর মতো বরং তারও অধম।
আল ফোরকান-৪৪
তারপর যে ব্যক্তি তার রবের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট সাক্ষ্যের অধিকারী ছিল, এরপর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন সাক্ষীও (এ সাক্ষ্যের সমর্থনে) এসে গেছে এবং পথপ্রদর্শক ও অনুগ্রহ হিসেবে পূর্বে আগত মূসার কিতাবও বর্তমান ছিল (এ অবস্থায় সে ব্যক্তিও কি দুনিয়া পূজারীদের মতো তা অস্বীকার করতে পারে?) এ ধরনের লোকেরা তো তার প্রতি ঈমান আনবেই, আর মানব গোষ্ঠীর মধ্য থেকে যে-ই একে অস্বীকার করে তার জন্য যে জায়গার ওয়াদা করা হয়েছে তা হচ্ছে দোযখ। কাজেই হে নবী! তুমি এ জিনিসের ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহে পড়ে যেয়ো না, এতো তোমার রবের পক্ষ থেকে পাঠানো সত্য। তবে বেশীর ভাগ লোক তা স্বীকার করে না। সূরা হুদ-১৭
কিন্তু তুমি যতই চাওনা কেন অধিকাংশ লোক তা মানবে না। ইউসুফ-১০৩
তাদের বেশীর ভাগ আল্লাহকে মানে কিন্তু তাঁর সাথে অন্যকে শরীক করে। ইউসুফ-১০৬
আলিম লাম মীম র। এগুলো আল্লাহর কিতাবের আয়াত। আর তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা কিছু নাযিল হয়েছে তা প্রকৃত সত্য কিন্তু অধিকাংশ লোক তা বিশ্বাস করে না। সূরা আর রাদ-১
কখনো কি তুমি সেই ব্যক্তির অবস্থা ভেবে দেখেছো, যে তার নিজের প্রবৃত্তির কামনাকে প্রভু রূপে গ্রহণ করেছে? তুমি কি এহেন ব্যক্তিকে সঠিক পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব নিতে পার? তুমি কি মনে করো তাদের অধিকাংশ লোক শোনে ও বোঝে? তারা পশুর মতো বরং তারও অধম।
আল ফোরকান-৪৪
৪৭. পবিত্র কোরআনে নবী রসূলগণের গল্প বলার উদ্দেশ্য
আর হে মুহাম্মাদ! এ রসূলদের বৃত্তান্ত, যা আমি তোমাকে শোনাচ্ছি, এসব এমন
জিনিস যার মাধ্যমে আমি তোমার হৃদয়কে মজবুত করি। এসবের মধ্যে তুমি পেয়েছো
সত্যের জ্ঞান এবং মু’মিনরা পেয়েছে উপদেশ ও জাগরণবাণী। সূরা হুদ-১২০।
৪৮. হক্ব বা সত্য হচ্ছে কোরআন
আলিম লাম মীম র। এগুলো আল্লাহর কিতাবের আয়াত। আর তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা কিছু নাযিল হয়েছে তা প্রকৃত সত্য কিন্তু (তোমার কওমের) অধিকাংশ লোক তা বিশ্বাস করে না। সূরা আর রাদ-১
এরা কি বলে, এ ব্যক্তি নিজেই এটি তৈরি করে নিয়েছেন? না, বরং এটি তোমার রবের পক্ষ থেকে হক্ব, যাতে তুমি সতর্ক করতে পারো এমন একটি জাতিকে যাদের কাছে তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসে নি, হয়তো তারা সৎপথে চলবে। (সূরা আস সাজদাহ/৩)
৫০. আল্লাহর নাজিল করা আয়াত ছাড়া কোনো কিছু হারাম বা হালাল করা যাবে না
আর এই যে, তোমাদের কণ্ঠ ভুয়া হুকুম জারী করে বলতে থাকে এটি হালাল এবং ওটি হারাম, এভাবে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তারা কখনোই সফলকাম হবে না। সূরা আন নাহল/১১৬।
হে নবী, আল্লাহ যে জিনিস হালাল করেছেন তা তুমি হারাম করছো কেন? (তা কি এজন্য যে, ) তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাও? আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়ালু। সূরা আত তাহরীম/১
হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলে দাও, আল্লাহ যেসব জিনিস হারাম করেছেন সেগুলো হচ্ছেঃ প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, গোনাহ, সত্যের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি, আল্লাহর সাথে তোমাদের কাউকে শরীক করা, যার স্বপক্ষে তিনি কোন সনদ পাঠাননি এবং আল্লাহর নামে তোমাদের এমন কোন কথা বলা, যা মূলত তিনি বলেছেন বলে তোমাদের জানা নেই। সূরা আল আরাফ/৩৩
হে নবী, আল্লাহ যে জিনিস হালাল করেছেন তা তুমি হারাম করছো কেন? (তা কি এজন্য যে, ) তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাও? আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং দয়ালু। সূরা আত তাহরীম/১
হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলে দাও, আল্লাহ যেসব জিনিস হারাম করেছেন সেগুলো হচ্ছেঃ প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, গোনাহ, সত্যের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি, আল্লাহর সাথে তোমাদের কাউকে শরীক করা, যার স্বপক্ষে তিনি কোন সনদ পাঠাননি এবং আল্লাহর নামে তোমাদের এমন কোন কথা বলা, যা মূলত তিনি বলেছেন বলে তোমাদের জানা নেই। সূরা আল আরাফ/৩৩
৫১. বিপদ আপদ
তোমাদের ওপর যে মসিবতই এসেছে তা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে এসেছে। বহু সংখ্যক অপরাধকে তো আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন। সূরা আস শূরা/৩০।
হে মানুষ! যে কল্যাণই তুমি লাভ করে থাকো তা আল্লাহর দান এবং যে বিপদ তোমার ওপর এসে পড়ে তা তোমার নিজের উপার্জন ও কাজের বদৌলতেই আসে। হে মুহাম্মাদ! আমি তোমাকে মানব জাতির জন্য রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি এবং এরপর আল্লাহর সাক্ষ্য যথেষ্ট।
সূরা আন নিসা-৭৯
পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ আসে তার একটিও এমন নয় যে, তাকে আমি সৃষ্টি করার পূর্বে একটি গ্রন্থে লিখে রাখিনি। এমনটি করা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ কাজ। (এ সবই এজন্য) যাতে যে ক্ষতিই তোমাদের হয়ে থাকুক তাতে তোমরা মনক্ষুন্ন না হও। আর আল্লাহ তোমাদের যা দান করেছেন। সেজন্য গর্বিত না হও। যারা নিজেরা নিজেদের বড় মনে করে এবং অহংকার করে, নিজেরাও কৃপণতা করে এবং মানুষকেও কৃপণতা করতে উৎসাহ দেয় আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না। এরপরও যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আল্লাহ অভাবশূন্য ও অতি প্রশংসিত। সুরা আল হাদীদ/২২-২৪।
হে মানুষ! যে কল্যাণই তুমি লাভ করে থাকো তা আল্লাহর দান এবং যে বিপদ তোমার ওপর এসে পড়ে তা তোমার নিজের উপার্জন ও কাজের বদৌলতেই আসে। হে মুহাম্মাদ! আমি তোমাকে মানব জাতির জন্য রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি এবং এরপর আল্লাহর সাক্ষ্য যথেষ্ট।
সূরা আন নিসা-৭৯
পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের ওপর যেসব বিপদ-আপদ আসে তার একটিও এমন নয় যে, তাকে আমি সৃষ্টি করার পূর্বে একটি গ্রন্থে লিখে রাখিনি। এমনটি করা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ কাজ। (এ সবই এজন্য) যাতে যে ক্ষতিই তোমাদের হয়ে থাকুক তাতে তোমরা মনক্ষুন্ন না হও। আর আল্লাহ তোমাদের যা দান করেছেন। সেজন্য গর্বিত না হও। যারা নিজেরা নিজেদের বড় মনে করে এবং অহংকার করে, নিজেরাও কৃপণতা করে এবং মানুষকেও কৃপণতা করতে উৎসাহ দেয় আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না। এরপরও যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আল্লাহ অভাবশূন্য ও অতি প্রশংসিত। সুরা আল হাদীদ/২২-২৪।
Sunday, February 16, 2014
৫৩. কোরআনের জ্ঞান আসার পর তা না মানা ও দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট থাকার ফল
আর হে মুহাম্মাদ! এদের সামনে সেই ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করো, যাকে আমি দান করেছিলাম আমার আয়াতের জ্ঞান।
কিন্তু সে তা যথাযথভাবে মেনে চলা থেকে দূরে সরে যায়। অবশেষে শয়তান তার
পিছনে লাগে। শেষ পর্যন্ত সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েই যায়। আমি চাইলে ঐ আয়াতগুলোর সাহায্যে তাকে উচ্চ মর্যাদা দান
করতাম কিন্তু সে তো দুনিয়ার প্রতিই ঝুঁকে রইল এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ
করলো। কাজেই তার অবস্থা হয়ে গেল কুকুরের মত, তার ওপর আক্রমণ করলেও সে জিভ
ঝুলিয়ে রাখে আর আক্রমণ না করলেও জিভ ঝুলিয়ে রাখে।
যারা আমার আয়াতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে তাদের দৃষ্টান্ত এটাই। তুমি এ
কাহিনী তাদেরকে শুনাতে থাকো, হয়তো তারা কিছু চিন্তা-ভাবনা করবে। যারা আমার আয়াতকে মিথ্যা বলেছে, তাদের দৃষ্টান্ত বড়ই খারাপ এবং তার নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম চালিয়ে গেছে। ৭/১৭৫-১৭৭
৫৪. আল্লাহর আয়াত মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া ফরজ
হে রসূল! তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে যা কিছু নাযিল
করা হয়েছে তা মানুষের কাছে পৌঁছাও। যদি তুমি এমনটি না করো তাহলে তোমার
দ্বারা তার রিসালাতের হক আদায় হবে না। মানুষের অনিষ্টকারিতা থেকে তোমাকে
আল্লাহ রক্ষা করবেন। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, তিনি কখনো কাফেরদেরকে (তোমার
মোকাবিলায়) সফলতার পথ দেখাবেন না। ৫/৬৭
৫৫. আল্লাহর নাজিল করা আইন ছাড়া বিচার/ফায়সালা করা যাবে না
আমি তাওরাত নাযিল করেছি। তাতে ছিল পথ নির্দেশ ও আলো। সমস্ত নবী, যারা মুসলিম ছিল, সে অনুযায়ী এ ইহুদী হয়ে যাওয়া লোকদের যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালা করতো। আর এভাবে রব্বানী ও আহবারও
(এরই ওপর তাদের ফায়সালার ভিত্তি স্থাপন করতো) । কারণ তাদেরকে আল্লাহর
কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এবং তারা ছিল এর ওপর সাক্ষী। কাজেই
(হে ইহুদী গোষ্ঠী!) তোমরা মানুষকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো এবং সামান্য
তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে আমার আয়াত বিক্রি করা পরিহার করো। আল্লাহর নাযিল করা
আইন অনুযায়ী যারা ফায়সালা করে না তারাই কাফের।
তাওরাতে আমি ইহুদীদের জন্য এ বিধান লিখে দিয়েছিলাম যে প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং সব রকমের যখমের জন্য সমপর্যায়ের বদলা। তারপর যে ব্যক্তি ঐ শাস্তি সাদকা করে দেবে তা তার জন্য কাফ্ফারায় পরিণত হবে। আর যারা আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী ফায়সালা করে না তারাই জালেম। তারপর ঐ নবীদের পরে মারয়ামপুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছি। তাওরাতের মধ্য থেকে যা কিছু তার সামনে ছিল সে তার সত্যতা প্রমাণকারী ছিল। আর তাকে ইনজিল দিয়েছি। তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো এবং তাও তাওরাতের মধ্যে থেকে যা কিছু সে সময় বর্তমান ছিল তার সত্যতা প্রমাণকারী ছিল আর তা ছিল আল্লাহভীরুদের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশ। আমার নির্দেশ ছিল, ইনজীলে আল্লাহ যে আইন নাযিল করেছেন ইনজীল অনুসারীরা যেন সে মোতাবেক ফায়সালা করে। আর যারা আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী ফায়সালা করে না তারাই ফাসেক।
তারপর হে মুহাম্মাদ! তোমাদের প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি, যা সত্য নিয়ে এসেছে এবং আল কিতাবের মধ্য থেকে তার সামনে যা কিছু বর্তমান আছে তার সত্যতা প্রমাণকারী ও তার সংরক্ষক। কাজেই তুমি আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী লোকদের বিভিন্ন বিষয়ের ফায়সালা করো এবং যে সত্য তোমার কাছে এসেছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না।--তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরীয়াত ও একটি কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে রেখেছি। আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে একই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার মধ্যে তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য এমনটি করেছেন। কাজেই সৎকাজে একে অপরের চাইতে অগ্রবর্তী হবার চেষ্টা করো। শেষ পর্যন্ত তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে। তারপর তিনি সেই প্রকৃত সত্যটি তোমাদের জানিয়ে দেবেন যে ব্যাপারে তোমরা মতবিরোধ করে আসছিলে।
কাজেই হে মুহাম্মাদ! তুমি আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী তাদের যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালা করো এবং তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করো না। সাবধান হয়ে যাও, এরা যেন তোমাকে ফিতনার মধ্যে নিক্ষেপ করে সেই হেদায়াত থেকে সামান্যতমও বিচ্যুত করতে না পারে, যা আল্লাহ তোমার প্রতি নাযিল করছেন। যদি এরা এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে জেনে রাখো, আল্লাহ এদের কোন কোন গোনাহর কারণে এদেরকে বিপদে ফেলার সিদ্ধান্তই করে ফেলেছেন। আর যথার্থই এদের অধিকাংশ ফাসেক। ৫/৪৪-৪৯
তাওরাতে আমি ইহুদীদের জন্য এ বিধান লিখে দিয়েছিলাম যে প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত এবং সব রকমের যখমের জন্য সমপর্যায়ের বদলা। তারপর যে ব্যক্তি ঐ শাস্তি সাদকা করে দেবে তা তার জন্য কাফ্ফারায় পরিণত হবে। আর যারা আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী ফায়সালা করে না তারাই জালেম। তারপর ঐ নবীদের পরে মারয়ামপুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছি। তাওরাতের মধ্য থেকে যা কিছু তার সামনে ছিল সে তার সত্যতা প্রমাণকারী ছিল। আর তাকে ইনজিল দিয়েছি। তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো এবং তাও তাওরাতের মধ্যে থেকে যা কিছু সে সময় বর্তমান ছিল তার সত্যতা প্রমাণকারী ছিল আর তা ছিল আল্লাহভীরুদের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশ। আমার নির্দেশ ছিল, ইনজীলে আল্লাহ যে আইন নাযিল করেছেন ইনজীল অনুসারীরা যেন সে মোতাবেক ফায়সালা করে। আর যারা আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী ফায়সালা করে না তারাই ফাসেক।
তারপর হে মুহাম্মাদ! তোমাদের প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি, যা সত্য নিয়ে এসেছে এবং আল কিতাবের মধ্য থেকে তার সামনে যা কিছু বর্তমান আছে তার সত্যতা প্রমাণকারী ও তার সংরক্ষক। কাজেই তুমি আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী লোকদের বিভিন্ন বিষয়ের ফায়সালা করো এবং যে সত্য তোমার কাছে এসেছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না।--তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরীয়াত ও একটি কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে রেখেছি। আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে একই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার মধ্যে তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য এমনটি করেছেন। কাজেই সৎকাজে একে অপরের চাইতে অগ্রবর্তী হবার চেষ্টা করো। শেষ পর্যন্ত তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে। তারপর তিনি সেই প্রকৃত সত্যটি তোমাদের জানিয়ে দেবেন যে ব্যাপারে তোমরা মতবিরোধ করে আসছিলে।
কাজেই হে মুহাম্মাদ! তুমি আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী তাদের যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালা করো এবং তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করো না। সাবধান হয়ে যাও, এরা যেন তোমাকে ফিতনার মধ্যে নিক্ষেপ করে সেই হেদায়াত থেকে সামান্যতমও বিচ্যুত করতে না পারে, যা আল্লাহ তোমার প্রতি নাযিল করছেন। যদি এরা এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে জেনে রাখো, আল্লাহ এদের কোন কোন গোনাহর কারণে এদেরকে বিপদে ফেলার সিদ্ধান্তই করে ফেলেছেন। আর যথার্থই এদের অধিকাংশ ফাসেক। ৫/৪৪-৪৯
৫৬. রাসূল (দঃ) কে তার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে
অতএব, হে নবী! ভাল করে জেনে নাও, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গোলামীর যোগ্য নয়।
নিজের ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং মু’মিন নারী ও পুরুষদের জন্যও। আল্লাহ তোমাদের তৎপরতা সম্পর্কে অবহিত এবং তোমাদের ঠিকানা সম্পর্কেও অবহিত। ৪৭/১৯
৫৭. কোরআনের বক্তব্য পরিবর্তন করার অধিকার কারো নেই (নবী (দঃ) কে শাস্তির হুমকি)
"এ বাণী বিশ্ব-জাহানের প্রভূর পক্ষ থেকে অবতীর্ন।
যদি এ নবী নিজে কোন কথা বানিয়ে
আমার কথা বলে চালিয়ে দিতো
তাহলে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম
এবং ঘাড়ের রগ (স্পাইনাল কর্ড) কেটে দিতাম।
তোমাদের কেউ-ই (আমাকে)
এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারতো না।
আসলে এটি আল্লাহভীরু লোকদের জন্য একটি নসীহত।
আমি জানি তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক
(কোরয়ানকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে থাকবে।
নিশ্চিতভাবে তা এসব অস্বীকারকারীদের জন্য
অনুতাপ ও আফসোসের কারণ হবে।
এটি (কোরআন) অবশ্যই এক নিশ্চিত সত্য।"
(সূরা আল হাক্কাহ/৪৩-৫১)
হে নবী! তোমার রবের কিতাবের মধ্য থেকে যা কিছু তোমার ওপর অহী করা হয়েছে তা (হুবহু) শুনিয়ে দাও। তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করার অধিকার কারো নেই, (আর যদি তুমি কারো স্বার্থে তার মধ্যে পরিবর্তন করো তাহলে) তাঁর হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে পালাবার জন্য কোন আশ্রয়স্থল পাবে না। ১৮/২৭
হে মুহাম্মাদ! তোমার কাছে আমি যে অহী পাঠিয়েছি তা থেকে তোমাকে ফিরিয়ে রাখার জন্য এ লোকেরা তোমাকে বিভ্রাটের মধ্যে ঠেলে দেবার প্রচেষ্টায় কসুর করেনি, যাতে তুমি আমার নামে নিজের পক্ষ থেকে কোন কথা তৈরি করো।৮৭ যদি তুমি এমনটি করতে তাহলে তারা তোমাকে নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো। আর যদি আমি তোমাকে মজবুত না রাখতাম তাহলে তোমার পক্ষে তাদের দিকে কিছু না কিছু ঝুঁকে পড়া অসম্ভব ব্যাপার ছিল না। কিন্তু যদি তুমি এমনটি করতে তাহলে আমি এ দুনিয়ায় তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তির মজা টের পাইয়ে দিতাম এবং আখেরাতেও, তারপর আমার মোকাবিলায় তুমি কোন সাহায্যকারী পেতে না। ১৭/৭৩-৭৫
ইহুদি ও খৃস্টানরা তোমার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের পথে চলতে থাকো।১২১ পরিষ্কার বলে দাও, পথ মাত্র একটিই, যা আল্লাহ বাতলে দিয়েছেন। অন্যথায় তোমার কাছে যে জ্ঞান এসেছে তারপরও যদি তুমি তাদের ইচ্ছা ও বাসনা অনুযায়ী চলতে থাকো, তাহলে আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষাকারী তোমর কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী থাকবে না। ২/১২০
যদি এ নবী নিজে কোন কথা বানিয়ে
আমার কথা বলে চালিয়ে দিতো
তাহলে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম
এবং ঘাড়ের রগ (স্পাইনাল কর্ড) কেটে দিতাম।
তোমাদের কেউ-ই (আমাকে)
এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারতো না।
আসলে এটি আল্লাহভীরু লোকদের জন্য একটি নসীহত।
আমি জানি তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক
(কোরয়ানকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে থাকবে।
নিশ্চিতভাবে তা এসব অস্বীকারকারীদের জন্য
অনুতাপ ও আফসোসের কারণ হবে।
এটি (কোরআন) অবশ্যই এক নিশ্চিত সত্য।"
(সূরা আল হাক্কাহ/৪৩-৫১)
হে নবী! তোমার রবের কিতাবের মধ্য থেকে যা কিছু তোমার ওপর অহী করা হয়েছে তা (হুবহু) শুনিয়ে দাও। তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করার অধিকার কারো নেই, (আর যদি তুমি কারো স্বার্থে তার মধ্যে পরিবর্তন করো তাহলে) তাঁর হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে পালাবার জন্য কোন আশ্রয়স্থল পাবে না। ১৮/২৭
হে মুহাম্মাদ! তোমার কাছে আমি যে অহী পাঠিয়েছি তা থেকে তোমাকে ফিরিয়ে রাখার জন্য এ লোকেরা তোমাকে বিভ্রাটের মধ্যে ঠেলে দেবার প্রচেষ্টায় কসুর করেনি, যাতে তুমি আমার নামে নিজের পক্ষ থেকে কোন কথা তৈরি করো।৮৭ যদি তুমি এমনটি করতে তাহলে তারা তোমাকে নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো। আর যদি আমি তোমাকে মজবুত না রাখতাম তাহলে তোমার পক্ষে তাদের দিকে কিছু না কিছু ঝুঁকে পড়া অসম্ভব ব্যাপার ছিল না। কিন্তু যদি তুমি এমনটি করতে তাহলে আমি এ দুনিয়ায় তোমাকে দ্বিগুণ শাস্তির মজা টের পাইয়ে দিতাম এবং আখেরাতেও, তারপর আমার মোকাবিলায় তুমি কোন সাহায্যকারী পেতে না। ১৭/৭৩-৭৫
ইহুদি ও খৃস্টানরা তোমার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের পথে চলতে থাকো।১২১ পরিষ্কার বলে দাও, পথ মাত্র একটিই, যা আল্লাহ বাতলে দিয়েছেন। অন্যথায় তোমার কাছে যে জ্ঞান এসেছে তারপরও যদি তুমি তাদের ইচ্ছা ও বাসনা অনুযায়ী চলতে থাকো, তাহলে আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষাকারী তোমর কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী থাকবে না। ২/১২০
৫৮. রাসূল (দঃ) এর সাথে কি আচরন করা হবে তিনি তা জানেন না
যখন এসব লোকদের আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ শুনানো হয় এবং সত্য তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করে তখন এই কাফেররা বলে এতো পরিষ্কার যাদু। তারা কি বলতে চায় যে রসূল নিজেই এসব রচনা করেছেন?
তাদের বলে দাওঃ “আমি নিজেই যদি তা রচনা করে থাকি তাহলে কোন কিছু আমাকে
আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষা করতে পারবে না। যেসব কথা তোমরা তৈরী করছো আল্লাহ
তা ভাল করেই জানেন। আমার ও তোমাদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তিনিই
যথেষ্ট। তিনি অতীব ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
এদের বলো, ‘আমি কোন অভিনব রসূল নই। কাল তোমাদের সাথে কী আচরণ করা হবে এবং আমার সাথেই বা কী আচরণ করা হবে তা আমি জানি না। আমি তো কেবল সেই অহীর অনুসরণ করি যা আমার কাছে পাঠানো হয় এবং আমি সুস্পষ্ট সাবধানকারী ছাড়া আর কিছুই নই। ৪৬/৭-৯
এদের বলো, ‘আমি কোন অভিনব রসূল নই। কাল তোমাদের সাথে কী আচরণ করা হবে এবং আমার সাথেই বা কী আচরণ করা হবে তা আমি জানি না। আমি তো কেবল সেই অহীর অনুসরণ করি যা আমার কাছে পাঠানো হয় এবং আমি সুস্পষ্ট সাবধানকারী ছাড়া আর কিছুই নই। ৪৬/৭-৯
৫৯. কোরআন ছাড়া অন্য কথা আল্লাহর বলে চালিয়ে দেয়া (ঘাঁড়ের রগ কেঁটে দেয়ার হুমকী)
এ বাণী বিশ্ব-জাহানের রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।
যদি এ নবী নিজে কোন কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিতো তাহলে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম। তোমাদের কেউ-ই (আমাকে) এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারতো না। আসলে এটি আল্লাহভীরু লোকদের জন্য একটি নসীহত। আমি জানি তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক (এটাকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে থাকবে। নিশ্চিতভাবে তা এসব কাফেরদের জন্য অনুতাপ ও আফসোসের কারণ হবে। এটি অবশ্যই এক নিশ্চিত সত্য। সূরা আল হাক্কাহ/৪৩-৫১
যদি এ নবী নিজে কোন কথা বানিয়ে আমার কথা বলে চালিয়ে দিতো তাহলে আমি তার ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম। তোমাদের কেউ-ই (আমাকে) এ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারতো না। আসলে এটি আল্লাহভীরু লোকদের জন্য একটি নসীহত। আমি জানি তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক (এটাকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে থাকবে। নিশ্চিতভাবে তা এসব কাফেরদের জন্য অনুতাপ ও আফসোসের কারণ হবে। এটি অবশ্যই এক নিশ্চিত সত্য। সূরা আল হাক্কাহ/৪৩-৫১
৬০. রূহ
তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি। তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার কাছে ইচ্ছা নিজের হুকুমে ‘রূহ’ নাযিল করেন যাতে সে সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে সাবধান করে দেয়। সূরা আল মুমিন/১৫
Thursday, February 13, 2014
৬২. আল্লাহর করা কিছু বিধি-নিষেধ (হারাম)
হে মুহাম্মাদ! এদেরকে বলো, এসো আমি তোমাদের শুনাই তোমাদের রব তোমাদের ওপর কি বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন।
(১) তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না।
(২) পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।
(৩) দারিদ্রের ভয়ে নিজের সন্তানদেরকে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে জীবিকা দিচ্ছি এবং তাদেরকেও দেবো।
(৪) প্রকাশ্যে বা গোপনে অশ্লীল বিষয়ের ধারে কাছেও যাবে না।
(৫) আল্লাহ যে প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন ন্যায় সঙ্গতভাবে ছাড়া তাকে ধ্বংস করো না।
তিনি তোমাদের এ বিষয়গুলোর নির্দেশ দিয়েছেন, সম্ভবত তোমরা ভেবে-চিন্তে কাজ করবে।
(৬) আর তোমরা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এতিমের সম্পদের ধারে কাছেও যেয়ো না, তবে উত্তম পদ্ধতিতে যেতে পারো।
(৭) ওজন ও পরিমাপে পুরোপুরি ইনসাফ করো, প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর আমি ততটুকু দায়িত্বের বোঝা রাখি যতটুকু তার সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে।
(৮) যখন কথা বলো, ন্যায্য কথা বলো, চাই তা তোমার আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারই হোক না কেন।
(৯) আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো।
এ বিষয়গুলোর নির্দেশ আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন, সম্ভবত তোমরা নসীহত গ্রহণ করবে।
(১০) এছাড়াও তাঁর নির্দেশ হচ্ছে এইঃ এটিই আমার সোজা পথ। তোমরা এ পথেই চলো এবং অন্য পথে চলো না। কারণ তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে সরিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেবে। এ হেদায়াত তোমাদের রব তোমাদেরকে দিয়েছেন, সম্ভবত তোমরা বাঁকা পথ অবলম্বন করা থেকে বাঁচতে পারবে। সূরা আল আন'আম/১৫১-১৫৩
(১) তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না।
(২) পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।
(৩) দারিদ্রের ভয়ে নিজের সন্তানদেরকে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে জীবিকা দিচ্ছি এবং তাদেরকেও দেবো।
(৪) প্রকাশ্যে বা গোপনে অশ্লীল বিষয়ের ধারে কাছেও যাবে না।
(৫) আল্লাহ যে প্রাণকে মর্যাদা দান করেছেন ন্যায় সঙ্গতভাবে ছাড়া তাকে ধ্বংস করো না।
তিনি তোমাদের এ বিষয়গুলোর নির্দেশ দিয়েছেন, সম্ভবত তোমরা ভেবে-চিন্তে কাজ করবে।
(৬) আর তোমরা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এতিমের সম্পদের ধারে কাছেও যেয়ো না, তবে উত্তম পদ্ধতিতে যেতে পারো।
(৭) ওজন ও পরিমাপে পুরোপুরি ইনসাফ করো, প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর আমি ততটুকু দায়িত্বের বোঝা রাখি যতটুকু তার সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে।
(৮) যখন কথা বলো, ন্যায্য কথা বলো, চাই তা তোমার আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারই হোক না কেন।
(৯) আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো।
এ বিষয়গুলোর নির্দেশ আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন, সম্ভবত তোমরা নসীহত গ্রহণ করবে।
(১০) এছাড়াও তাঁর নির্দেশ হচ্ছে এইঃ এটিই আমার সোজা পথ। তোমরা এ পথেই চলো এবং অন্য পথে চলো না। কারণ তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে সরিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেবে। এ হেদায়াত তোমাদের রব তোমাদেরকে দিয়েছেন, সম্ভবত তোমরা বাঁকা পথ অবলম্বন করা থেকে বাঁচতে পারবে। সূরা আল আন'আম/১৫১-১৫৩
৬৩. হাশরের ময়দানে আল্লাহর একমাত্র জিজ্ঞাসা
হাশরের ময়দানে আল্লাহর একমাত্র
জিজ্ঞাসা থাকবে,
অবশেষে যখন সবাই এসে যাবে তখন (তাদের রব তাদেরকে) জিজ্ঞেস করবেন, “তোমরা আমার আয়াত অস্বীকার করেছো অথচ তোমরা জ্ঞানগতভাবে তা আয়ত্ত করো নি? যদি এ না হয়ে থাকে তাহলে তোমরা আর কি করেছিলে।” আল কোরআন:২৭/৮৪
৬৪. রাসূল (দঃ) কি জীবিত না মৃত?
[হে নবী (সা)] তোমাকেও মরতে হবে এবং এসব লোককেও মরতে হবে। সূরা জুমার/৩০
৬৫. রাসূল (দঃ) কি গায়েব বা অদৃশ্যের খবর জানতেন?
হে মুহাম্মাদ! তাদেরকে বলো, “আমি তোমাদের একথা বলি না যে,
আমার কাছে আল্লাহর ধনভাণ্ডার আছে, আমি গায়েবের জ্ঞানও রাখি না এবং তোমাদের
একথাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো কেবলমাত্র সে অহীর অনুসরণ করি, যা
আমার প্রতি নাযিল করা হয়।” তারপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা-ভাবনা করো না? সূরা আল আন'আম/৫০
৬৬. রাসূল (দঃ) নূরের তৈরী নাকি মাটির তৈরী
হে মুহাম্মাদ! বলো, আমি তো একজন মানুষ তোমাদেরই মতো, আমার প্রতি অহী করা হয়
এ মর্মে যে, এক আল্লাহ তোমাদের ইলাহ, কাজেই যে তার রবের সাক্ষাতের
প্রত্যাশী তার সৎকাজ করা উচিত এবং বন্দেগীর ক্ষেত্রে নিজের রবের সাথে কাউকে
শরীক করা উচিত নয়। সূরা আল কাহফ/১১০
৬৭. সালাত মাঝামাঝি স্বরে পড়া আবশ্যক
হে নবী! এদেরকে বলে দাও, আল্লাহ বা রহমান যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্য সবই ভাল নাম। আর নিজের সালাত খুব বেশী উচ্চ কণ্ঠেও পড়বে না, বেশী ক্ষীণ কণ্ঠেও না, বরং এ দু’য়ের মাঝামাঝি মধ্যম পর্যায়ের কণ্ঠস্বর অবলম্বন করবে। সূরা বনী ইসরাঈল/১১০
Tuesday, February 11, 2014
৬৮. রাসূলগণ যদি উম্মতের মনের খবর না জানেন তাইলে সুপারিশ করবেন কিভাবে?
যেদিন আল্লাহ সমস্ত রসূলকে একত্র করে জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের কী জবাব দেয়া হয়েছে? তারা আরয করবে, আমরা কিছুই জানিনা, গোপন সত্যসমূহের জ্ঞান একমাত্র আপনারই আছে।
সূরা আল মায়েদাহ/১০৯
সূরা আল মায়েদাহ/১০৯
৬৯. নিজে বাঁচলে বাপের নাম
হে ঈমানদারগণ! নিজেদের কথা চিন্তা করো, অন্য কারোর গোমরাহীতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই যদি তোমরা নিজেরা সত্য সঠিক পথে থাকো। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে। তখন তোমরা কি করছিলে তা তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন। সূরা আল মায়েদাহ/১০৫
৭০. মূর্খদের তথা যাদের কোরআনের জ্ঞান নেই তাদের সাথে বিতর্ক
রহমানের (আসল) বান্দা তারাই যারা পৃথিবীর বুকে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং মূর্খরা তাদের সাথে কথা বলতে থাকলে বলে দেয় তোমাদেরকে সালাম।
সূরা আল ফোরক্বান/৬৩
সূরা আল ফোরক্বান/৬৩
৭১. ইলম তথা কোরআন ছাড়া অন্য কারো দ্বারস্থ না হওয়া
এমন কোন জিনিসের পেছনে লেগে যেয়ো না যে সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই। নিশ্চিতভাবেই চোখ, কান ও দিল সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সূরা বনী ইসরাঈল/৩৬
আল ইলম হচ্ছে কোরআন। পবিত্র আল কোরআনে আছে,
আমি তোমাদের কাছে এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি যাতে সবকিছু বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা আছে এবং যা ঈমানদারদের জন্য ইলম, হুদা ও রহমত। আল কোরআন-৭/৫২।
তাই কোরআন ছাড়া অন্য কোন জ্ঞানের দ্বারস্থ হওয়া যাবে না।
সূরা বনী ইসরাঈল/৩৬
আল ইলম হচ্ছে কোরআন। পবিত্র আল কোরআনে আছে,
আমি তোমাদের কাছে এমন এক কিতাব নিয়ে এসেছি যাতে সবকিছু বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা আছে এবং যা ঈমানদারদের জন্য ইলম, হুদা ও রহমত। আল কোরআন-৭/৫২।
তাই কোরআন ছাড়া অন্য কোন জ্ঞানের দ্বারস্থ হওয়া যাবে না।
Thursday, February 6, 2014
৭২. একমাত্র অহীর অনুসরন করতে হবে
যখন তাদেরকে আমার সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার কথা শুনানো হয় তখন
যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তারা বলে, "এটার পরিবর্তে অন্য
কোন কুরআন আনো অথবা এর মধ্যে কিছু পরিবর্তন করো। ওদেরকে বলে দাও, “নিজের পক্ষ থেকে এর মধ্যে কোন পরিবর্তন
পরিবর্ধন করা আমার কাজ নয়। আমি তো শুধুমাত্র আমার কাছে যে অহী পাঠানো হয়,
তার অনুসারী। যদি আমি আমার রবের নাফরমানী করি তাহলে আমার একটি ভয়াবহ দিনের
আযাবের আশঙ্কা হয়।” আর বলো, যদি এটিই হতো আল্লাহর ইচ্ছা তাহলে আমি এ কুরআন
তোমাদের কখনো শুনাতাম না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে এর খবরও দিতেন না। আমি
তো এর আগে তোমাদের মধ্যে জীবনের দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেছি, তবুও কি তোমরা
বুদ্ধি-বিবেচনা করে কাজ করতে পার না? সূরা ইউনূস/১৫-১৬
৭৩. কোরআন ছাড়া রসূল (দঃ) এর আর কোনো মোজেযা বা অলৌকিক নিদর্শন ছিল না
আর এই যে তারা বলে যে, এ নবীর প্রতি তার রবের পক্ষ থেকে কোন নির্দশন অবতীর্ণ করা হয়নি কেন?
এর জবাবে তুমি তাদেরকে বলে দাও, “গায়েবের মালিক তো একমাত্র আল্লাহ, ঠিক
আছে, তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করবো।” সূরা তওবা/২০
Wednesday, February 5, 2014
৭৪. যারা দুনিয়াকে অধিক ভালবাসে তারাই ফাসেক (দুনিয়ার আকর্ষন বা প্রেম বা ভালোবাসা)
৭৬. বেশীরভাগ আলেমদের অবস্থা, সম্পদ জমা করা
Sunday, February 2, 2014
৭৭. কোরআন কেন হৃদয় মনে বদ্ধমূল হয় না?
হে নবী, এ অহীকে দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য তোমার জিহবা দ্রুত সঞ্চালন করো না। তা মুখস্ত করানো ও পড়ানো আমারই দায়িত্ব। তাই আমি যখন তা পড়ি তখন এর পড়া মনযোগ দিয়ে শুনবে। অতঃপর এর অর্থ বুঝিয়ে দেয়াও আমার দায়িত্ব। কখ্খনো না আসল কথা হলো, তোমরা দ্রুত লাভ করা যায় এমন জিনিসকেই (অর্থাৎ দুনিয়া) ভালবাস এবং আখেরাতকে উপেক্ষা করে থাকো।
সূরা আল কিয়ামাহ/১৬-২১
সূরা আল কিয়ামাহ/১৬-২১

